এ কথা সত্য যে, সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন ত্রুটিযুক্ত ছিল। কিন্তু সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখার জন্য এর কোন বিকল্প ছিল কি? ২০০৭ সালে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অক্ষুণ্ন না রাখতে পারার কারণে দুই বছর একটি অগণতান্ত্রিক এবং অনির্বাচিত সরকারকে দেশ পরিচালনা করতে হয়েছে। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে না পারলে একই ধরনের পরিস্থিতি কি অনিবার্য ছিল না? সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্যেই ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি একইরকম একটি নির্বাচন তত্কালে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারকে করতে হয়েছিল। কিন্তু ঐ নির্বাচনের পর সংবিধান সংশোধন করে আরেকটি নির্বাচন দিতে হয়েছিলো। বর্তমানে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যে সংকট তা কোন ব্যক্তি বিশেষের লাভ ক্ষতির বিষয় নয়। এটি নিশ্চিত ভাবেই একটি সাংবিধানিক জটিলতা। আমাদের সংবিধানের বর্তমান যে রূপটি রয়েছে তাতে কোন অনির্বাচিত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষে একদিনের জন্যও দেশ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর সংবিধান সংশোধন করে অনির্বাচিত ব্যক্তিদের হাতে নির্বাচনকালিন সরকার পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়া সম্ভব না। যদি তা করা হয় তা হবে আদালতের অবমাননা। প্রধানমন্ত্রী গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে যথার্থই বলেছেন— “আগামী নির্বাচন গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই অনুষ্ঠিত হবে।” তিনি একই সঙ্গে জনগণের জানমাল রক্ষার ক্ষেত্রেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। একজন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এর ব্যতিক্রম করা অর্থাত্ সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কি সুযোগ রয়েছে?
সংবিধানের এই যে বাধ্যবাধকতা এটাকে সামনে রেখেই আগামী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের উপায় খুঁজে বের করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার এবং বিরোধী দল উভয়ের উপরই দায়িত্ব রয়েছে। কেননা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যদি অব্যাহত না থাকে তাহলে বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলো এবং তাদের নেতা কর্মীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সমস্যা হল এই, আমরা খুব সহজেই অতীত ভুলে যাই।
লেখক :সাংবাদিক
