প্রশ্নপত্র ফাঁস : প্রতিকারের উপায় কী?

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৪, ২০:৩৯
প্রশ্নপত্র ফাঁস করছে দেশের সর্বনাশ প্রশ্নপত্র ফাঁস আমাদের দেশের যে কতটা ক্ষতি করছে তা কল্পনার অতীত। প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে আমাদের দেশের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের অধিকাংশই সুযোগ পাচ্ছে না তাদের মেধাকে দেশের উন্নতির তাগিদে কাজে লাগানোর। প্রশ্নপত্র ফাঁস যদি থামানো না যায় তাহলে একদিন আমাদের এই সোনার দেশ মেধাশূন্যে পরিণত হবে। খুবই লজ্জা বোধ করছি যখন আমারই দেশেরই ভাই আমার দেশকে অবনতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বর্তমান এই তথ্য-প্রযুক্তির যুগে ফেসবুক কিংবা ইন্টারনেটকে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে। সুতরাং প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধকল্পে প্রশাসনকে এদিকে একটু বেশিই নজর দিতে হবে। এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের ধরে জনগণের সামনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। সাদমান সাকিব (বিজ্ঞান বিভাগ-১ম বর্ষ) ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ, ঠাকুরগাঁও। ০০০০০০০০০০ প্রশ্নপত্র ফাঁস জাতির জন্য বেদনাদায়ক পরীক্ষা একজন ছাত্র বা ছাত্রীর জন্য খুবই গুরুত্ব বহন করে। একটি স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানদণ্ড নির্ধারিত হয়। অথচ সেই পরীক্ষার প্রশ্ন যদি ছাত্রছাত্রী পরীক্ষার পূর্বে পেয়ে যায় তাহলে এ দায় কার? পরীক্ষার্থীর না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। কিছুদিন আগে একটি জাতীয় পত্রিকা পড়ছি। সেখানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কথা এসেছে। এ বিষয় না হয় বাদই দিলাম। কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থানাধীন পান্টি একটি ব্যস্ততম এলাকা। এলাকার প্রতিভা কোচিং সংলগ্ন একটি ফটোকপির দোকানে যখন জেএসসির প্রশ্ন নিজ চোখে দেখলাম তখন নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করে রেখে গেছে কয়েকজন শিক্ষার্থী। এই যদি হয় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা তাহলে জাতি পুরোপুরি মেধাহীন হতে বেশি দেরি নেই। এই মুহূর্তেই সরকারের কাছে আকুল ও জোরালো আবেদন যে, এহেন কার্যক্রম ভবিষ্যতে যেন একটিও না ঘটে। আকাশ আহমেদ জারসা অনার্স, সমাজবিজ্ঞান, ২য় বর্ষ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ), কুষ্টিয়া। ০০০০০০০০০০ প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে চাই কঠোর আইন ও এর যথাযথ প্রয়োগ একজন শিক্ষার্থীকে মূল্যায়ন করা হয় পরীক্ষার মাধ্যমে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আমাদের দেশে পিএসসি থেকে শুরু করে বিসিএসসহ বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। যা প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থী মূল্যায়নের বড় অন্তরায়। কতিপয় দুর্নীতিবাজ ও অসাধু লোক এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত। যাদেরকে আজ পর্যন্ত জনসমক্ষে হাজির করা হয়নি। প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধের জন্য প্রশ্নপত্র প্রণয়নে কঠোর গোপনীয়তা, যথাযথ মনিটরিং সিস্টেম, প্রশ্নপত্র বণ্টনের বিভিন্ন অসুবিধা দূর করতে হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িতদের জন্য কঠোর আইন প্রণয়ন ও এর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সরকার মামুন হিসাববিজ্ঞান বিভাগ, এমবিএস (শেষ বর্ষ) সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ, সিরাজগঞ্জ। ০০০০০০০০০০ দেশ মেধাহীন হলে দেশে মেধাহীন নেতৃত্ব আসবে প্রশ্নপত্র যে ফাঁস হয়েছে, সেটা কিন্তু সরকার স্বীকার পর্যন্ত করেনি। আমি অন্তত যতটুকু জানি-শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি সেরকম কিছু পায়নি! কী হাস্যকর! এই মানসিকতার বদল দরকার প্রথমে। তথাকথিত জনপ্রিয়তা নষ্টের ভয়ে সবাই অস্বীকার করার মাধ্যমে যে কোন সমস্যা এড়িয়ে যেতে চায়। কিন্তু সমস্যা আমলে নিয়ে, সমাধানে ব্রতী হওয়ার বিষয়ে একধরনের গড়িমসি রাজনীতিবিদদের মধ্যে লক্ষণীয়। সব সরকারের আমলেই নকল, প্রশ্ন ফাঁস ইত্যাদি কম বেশি ছিল। কিন্তু সামপ্রতিক সময়ের মতো এরকম মহামারী রূপ ধারণ করেনি কখনো। প্রথমে অন্তত এটুকু অনুধাবন করতে হবে যে, সমস্যাটা আর দশটা সমস্যার মতো নয়। পুরো একটা প্রজন্ম এরকম অন্যায় বা ধোঁকার ভেতর দিয়ে গেলে ভবিষ্যত্টা কেমন হবে? এরা একদিন জাতির নেতৃত্ব দিবে,পরিচালনায় আসবে, রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসবে। তখন যে অন্তঃসারশূন্য অবস্থা তৈরি হবে, মেধাহীন রাষ্ট্রযন্ত্র তৈরি হবে, সেটার ফল ভোগ পুরো জাতি করবে। আরো কয়েক প্রজন্ম হয়তোবা গোল্লায় যাবে সেই অযোগ্য নেতৃত্বের খেসারতে। স্পষ্টভাবে বলতে গেলে, এই বর্তমানকে ঠকানোর পরিণাম ভোগ করতে হবে অদূর ও সুদূর ভবিষ্যতেও। শরিফ হেলাল পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ০০০০০০০০০০০ প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কোচিং সেন্টারগুলোকে বন্ধ করতে হবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে জাতির জন্য অভিশাপ। কিছু দুর্নীতিবাজ শিক্ষক এর সাথে জড়িত, শিক্ষা হচ্ছে জাতির মেরুদণ্ড, কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য এই মেরুদণ্ডকে ভেঙ্গে দেয়া হচ্ছে। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা সারা বছর দিনের পর দিন রাত জেগে পড়াশুনা করে পরীক্ষার হলে দিয়ে শুনতে হয় প্রশ্নগুলো ফাঁস হয়ে গেছে। তাহলে ঐ ছাত্রকে সারাজীবন হতাশায় থাকতে হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোচিং এবং প্রাইভেট বন্ধ রাখতে হবে। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে আবেদন জানাবো প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে এই সব কোচিং সেন্টারগুলোকে আইনের আওতায় আনার জন্য। প্রয়োজনে তাদের প্রতি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। মো. ইলিয়াছ সুমন শিক্ষার্থী বি এ সাউথ সন্দ্বীপ কলেজ, সন্দ্বীপ।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন