ঈদের আগ মুহূর্তে টুপি ও আতরের ছোট ছোট দোকানগুলো এখন সরগরম। ঈদের দিনে নতুন পাঞ্জাবির সাথে পুরোনো টুপি যেন একটু বেখাপ্পাই লাগে। তাই মুসল্লিরা নতুন টুপি কিনতে ভিড় করছেন টুপির দোকানে। নতুন পাঞ্জাবি আর নতুন টুপির সাথে একটু সুগন্ধির ছোঁয়াও চান অনেকে। তাই পছন্দমতো সুগন্ধীর কেনাবেচায় আতরের দোকানগুলো জমে উঠেছে।
বায়তুল মোকাররম মসজিদের পাশে আতর ও টুপির দোকান ঘুরে দেখা গেল, দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। ভিড়ের বাড়াবাড়িতে হাঁটার জো নেই। দোকানিদেরও যেন ফুসরত নেই কথা বলার। স্বল্প কথায় বেশি বিক্রির প্রবণতাই দেখা গেল বেশি। নতুন টুপি ও আতরের সাথে অনেকে কিনে নিচ্ছেন পছন্দমতো জায়নামাজ ও সুরমা।
বিক্রেতারা জানালেন, আকর্ষণীয় নকশা আর নানা কারুকাজে সুসজ্জিত টুপির প্রতি ক্রেতাদের আকর্ষণ বেশি। দেশি টুপির নকশা ও কারুকাজের মান ভাল হওয়ায় এবার বিদেশি টুপির চেয়ে দেশি টুপি বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ওমান ও পাকিস্তানের টুপির প্রতিও ক্রেতাদের আগ্রহ অনেক। টুপি কিনতে আসা সরকারি চাকরিজীবী তরিকুল ইসলাম সাগর বলেন, ঈদের দিন নতুন পাঞ্জাবির সাথে নতুন টুপি না থাকলে খুব বেমানান লাগে। তাই বায়তুল মোকাররমের সামনে টুপি কিনতে আসা। তিনি বলেন, প্রত্যেক ঈদুল ফিতরেই নতুন টুপি ও পছন্দমতো আতর কিনতে বায়তুল মোকররমের সামনে আসি। নুতন পাঞ্জাবি, টুপির সাথে আতর মেখে ঈদগায় না গেলে ঈদের পূর্ণতাই যেন আসে না।
বায়তুল মোকররম মসজিদের পাশে মাদানী আতর ঘর, মক্কী আতর হাউস এবং বায়তুন নূর ক্যাপ হাউসের স্বত্বাধিকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই আতর ও টুপি বিক্রির পরিমাণ বাড়লেও রবিবার থেকে বিক্রি হচ্ছে অনেক বেশি। এ বিক্রি অব্যাহত থাকবে ঈদের দিন নামাজের আগ পর্যন্ত। বাজারে ক্রেতা অনেক থাকায় বেশি দর কষাকষির সুযোগ নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একদামে বিক্রি করা হচ্ছে। কেমন দামের টুপি ও আতরের বিক্রি বেশি তা জানতে চাইলে তারা বলেন, দেড়শ’ থেকে দুইশ’ টাকা দামের টুপির চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। তবে পাঁচশ’ থেকে ছয়শ’ টাকার টুপিও বিক্রি হচ্ছে অনেক। আর আতর কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের চাহিদা দুইশ’ থেকে তিনশ’ টাকার মধ্যেই বেশি। তবে কেউ কেউ চার-পাঁচ হাজার টাকা দামের আতরও কেনেন।
পুরান ঢাকার চকবাজার শাহী মসজিদের সামনে আতর বিক্রেতা আজাদ মিয়ার সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর আতরের বিক্রি বেশি। দাম কম হওয়ায় অনেক ক্রেতাই দেশি আতর কিনছেন। দেশের তৈরি আতরের মধ্যে রয়েছে শাহী দরবার, আলিফ, মারজান, বিলকিস, জেসমিন, রজনী, মদিনা ইত্যাদি। এসব আতরের দাম পঞ্চাশ থেকে দেড়শ’ টাকার মধ্যে। এ আতরগুলোই বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে বিদেশি আতরও বিক্রি হচ্ছে। দাম বেশি হওয়ায় বিদেশি আতর কম বিক্রি হয়।
