প্রশ্ন ফাঁস রোধে
অবিলম্বে কিছু
করা দরকার
বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা প্রসারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। সঠিক সময় পরীক্ষা নেয়া, ঠিক সময়ে ফলাফল ঘোষণা, পরীক্ষার আগে অভিন্ন প্রশ্নে মডেল টেস্ট নেয়া, সৃজনশীল প্রশ্ন কাঠামো এসব ক্ষেত্রে সাহসিকতার প্রমাণ রেখে চলছে। এমনকি পরীক্ষায় বাজারদর নকল প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু একটি সমস্যা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে আর তা হল প্রশ্ন ফাঁস। একটি দেশকে মেধাশূন্য করার জন্য এর থেকে বড় কোন অস্ত্র প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন থেকে শুরু করে সব পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এখন নিত্যদিনের ঘটনা। এই কলঙ্ক ছোট ছোট কোমলমতি শিশুদের পাবলিক পরীক্ষা যেমন পিএসসি, জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষায়ও মিশেছে। প্রশ্ন ফাঁস রোধে কিছু পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে যেমন— যেদিন পরীক্ষা সেদিন সকালে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, প্রশ্নপত্রে সিলগালা করা, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এর নিজস্ব তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রগুলোতে সরাসরি প্রশ্নপত্র পাঠানো।
মোসা. রাহিমা
৩য় বর্ষ, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ঢাকা।
০০০০০০০০০০০০০
প্রশ্ন-সেট বেশি করে
সবার জন্য উন্মুক্ত
করে দেয়া উচিত
শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। তাই প্রশ্নপএ ফাঁসের বিষয়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আজ অবধি এজন্য কোন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এমতাবস্থায়, শিক্ষার্থী মোটেও মনোযোগী হতে পারছে না। একশ্রেণির অর্থলোভী মানুষ এই স্বপ্নকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। পিএসসি থেকে বিসিএস পর্যন্ত প্রশ্ন সেট ফাঁস হচ্ছে এমনকি মেডিক্যাল পরীক্ষাতেও। এসব যারা করছে তাদের নিকট এসব কোন ঘটনা নয়, দিনকে দিন আরও সহজ করে নিচ্ছে তারা। এর প্রতিষেধক হিসেবে প্রশ্ন সেট বেশি করে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া উচিত।
মো. জিয়াউল ইসলাম (শিপু)
বিবিএ, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি ব্যাচ ২৪ই।
০০০০০০০০০০০
প্রশ্নপত্র ফাঁসে যারা জড়িত
থাকবে তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক
শাস্তি দিতে হবে
এই অবস্থা চলতে থাকলে দেশ পাবে মেধাহীন কিছু লোক। পাবে না ভবিষ্যেত আধুনিক দেশ গড়ার কারিগর। পাবে না মেধাবী নেতৃত্ব। লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে না দেশ। বাড়তে থাকবে মেধাহীনদের তালিকার লোকসংখ্যা। তাই ভবিষ্যতের চিন্তা মাথায় রেখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে একটু ভাবা দরকার। কি কি পদক্ষেপ নেয়া হলে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা সম্ভব হবে। আর মেধাবীদের সর্বোচ্চ শিক্ষার সুযোগ হবে। তারই ফল হিসেবে আমরা আশা করতে পারি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর আইন তৈরি করবে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে যারা জড়িত থাকবে তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেবে।
ইমন হোসেন
মাষ্টার্স (অধ্যয়নরত),
যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
০০০০০০০০০০০০০
প্রশ্নপত্র পরীক্ষার দিন
করা হলে প্রশ্ন ফাঁসের
আশঙ্কা কমবে
বর্তমানে বাংলাদেশে যে সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করেছে তা হল—প্রশ্ন ফাঁস। দিন দিন এ মাত্রা আরও বেড়ে চলছে। বিসিএস থেকে শুরু করে বিভিন্ন চাকরি পরীক্ষা, ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। অতিসমপ্রতি যোগ হয়েছে পাবলিক পরীক্ষা যেমন— এইচএসসি, এসএসসি, জেএসসি এবং প্রাথমিক জুনিয়র সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্ন। একটি জাতিকে মেধাশূন্য করে ধ্বংস করার জন্য এর চেয়ে বড় কোন হাতিয়ার প্রয়োজন নেই। প্রশ্ন ফাঁস নকল থেকেও নিন্দনীয়। বিভিন্ন সময়ে আমরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলনও করতে দেখেছি। কিন্তু দৃশ্যমান কোন সাফল্য দেখতে পাইনি। তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন প্রশ্ন ফাঁসের অপরাধের জন্য কঠোর আইন প্রণয়ন করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। আর যেদিন পরীক্ষা সেদিন সকালে প্রশ্নপত্র করা হলে প্রশ্ন ফাঁসের আশঙ্কা কমবে। এ ছাড়া প্রশ্নের অনেকগুলো সেট করলে সুফল আসতে পারে।
মো. নাহিদ হোসেন
আইন বিভাগ, ৩য় বর্ষ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
০০০০০০০০০০০০
প্রযুক্তি ব্যবহার
করে প্রশ্নফাঁস
রোধ করা যায়
বর্তমান প্রযুক্তির যুগে প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশ্ন ফাঁস রোধ করার চেষ্টা করা যায়। সরকার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেটসহ কম্পিউটার প্রদান করেছে। যদি প্রশ্ন অতি সতর্কতার সাথে ই-মেইলের মাধ্যমে প্রতিটি পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রেরণ এবং পরীক্ষার আধ বা এক ঘণ্টা আগে তা প্রিন্ট করে পরীক্ষা নেয়া হয় তাতে মনে প্রশ্ন ফাঁস কিছুটা রোধ করা সম্ভব হবে। এতে পরীক্ষার আধ বা এক ঘণ্টা আগে প্রশ্ন ফাঁস হলেও সৃজনশীল প্রশ্নে তেমনটা প্রভাব ফেলতে পারবে না।
মো. উজ্জল
বিবিএ (ম্যানেজমেন্ট), ২য় বর্ষ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
