জননিরাপত্তায় সরকার কাজ করে যাবে..........প্রধানমন্ত্র্রী

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৪, ২২:০৬
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত জোট দেশে যে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল তা থেকে জনগণকে মুক্তি দিয়ে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে বর্তমান সরকার। ঈদের পরও আমরা দেশে শান্তি বজায় রাখতে কাজ করে যাবো। যাতে দেশের জনগণ তাদের সার্বিক নিরাপত্তা সব সময় পায়। সোমবার বিকালে গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির আন্দোলন মানে খুন খারাবি এবং ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ। পাঁচ জানুয়ারি বিএনপি নির্বাচন ঠেকাতে আন্দোলনের নামে তারা বাস, ট্রাক ও ট্রেনে আগুন দিয়েছে। ৫৫ জন ড্রাইভারকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। কোরআন শরিফে আগুন দেয়ার মত জঘন্য কাজ করেছে। এই আগুনের ক্ষত নিয়ে অনেক মানুষ এখন দুঃসহ জীবন যাপন করছে। প্রধানমন্ত্রী ফিলিস্তিনে শিশু এবং সাধারণ মানুষের উপর যে হত্যাযজ্ঞ চলছে তাকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে অবিলম্বে তা বন্ধের জন্য মুসলিম উম্মা ও বিশ্ব বিবেককে আরো সোচ্চার হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনে শিশু এবং ভাই-বোনদের উপর যেভাবে হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে এটা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়, মেনে নেয়া যায় না। তিনি বলেন, আমরা ফিলিস্তিনিদের সাথে আছি এবং থাকবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে রমজান মাসে খাদ্যদ্রব্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ছিল। হত দরিদ্রদের মধ্য রমজান মাসে বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে মানুষ নির্বিঘ্নে ট্রেন, বাস লঞ্চে বাড়ি ফিরতে পেরেছে। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যেখানে যখন প্রয়োজন মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিয়েছি। সারা দেশের মানুষ আনন্দ উত্সাহে কেনা-কাটা করেছে। মানুষের যে আর্থিক উন্নতি হয়েছে এতে তা প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, তাঁর সরকার দেশকে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা মুক্ত করার পদক্ষেপ নেয়ায় দারিদ্র্য সীমা আরও এক ভাগ কমে ২৫ ভাগে নেমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তব্যের পর তার সভাপতিত্বে নেতৃবৃন্দের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। বৈঠকে আগামী ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসকে সামনে রেখে আগস্ট মাসজুড়ে শোকের কর্মসূচি গৃহীত হয়। জানা গেছে, বৈঠকে আগামী নভেম্বর মাসে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, অতি শিগগিরই রাজধানীর প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হবে। এরপরই ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের মাধ্যমে নগর নেতার নাম ঘোষণা করা হবে। সূত্র জানায়, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল দেশের পাঁচ বিভাগে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি সমাবেশ করবে। এসব সমাবেশে বিরোধী দলের অপপ্রচারের জবাব ও সরকারের সফলতা তুলে ধরবে ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।