প্রশ্নপত্র ফাঁস : প্রতিকারের উপায় কী?

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৪, ২২:১০
এভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে জাতির ভবিষ্যত্ হবে অন্ধকার কতিপয় অসাধু লোকজন টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের কাছে মোবাইলে খুদেবার্তা, ফেসবুক ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস করছে। ফলে শিক্ষার্থীদের যোগ্য মেধার বিকাশ হচ্ছে না। তাই কর্মক্ষেত্রে অযোগ্যরা স্থান পাচ্ছে এবং জাতির ভবিষ্যত্ হুমকির মুখে পড়ছে। এক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থে আমাদের ব্যক্তি সচেতনতা ও সরকারি উদ্যোগ একান্ত প্রয়োজন। সরকারি প্রশাসনের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে সঠিক তদন্ত কমিশন গঠন ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা জরুরি। সরকারিভাবে এ সমস্যার সমাধান করা না হলে তা আরো প্রকট হবে। ফলে জাতির নেতৃত্ব হবে অযোগ্য এবং জাতির ভবিষ্যত্ হবে অন্ধকার। ইমরান হোসাইন সাংবাদিকতা বিভাগ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ০০০০০০০০০০ সরকারের কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের মাধ্যমে তা দূর করা যাবে ইদানীং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা আমাদের মত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিরাট উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেধাবী শিক্ষার্থীরা যেখানে সারা বছর কঠোর পরিশ্রম করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয় ভাল ফলাফলের আশায়, সেখানে মুষ্টিমেয় কিছু শিক্ষার্থীর অভিভাবক তাদের সন্তানদের ফাঁস করা প্রশ্নপত্র ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ করে আমাদের মত সাধারণ শিক্ষার্থীদের বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে কলুষিত করে তুলছে। অথচ এসকল অপরাধীদের ব্যাপারে কঠোর শাস্তি প্রণয়নের কোনো উদ্বেগ আজ পর্যন্ত কোনো সরকারকে গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। আন্তরিকতার সহিত সরকারের কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের মাধ্যমে এরকম জঘন্য কার্যক্রম থেকে আমরা অবশ্যই বের হয়ে আসতে পারি। উজ্জ্বল আহমেদ এনাম মেডিক্যাল কলেজ ঢাকা ০০০০০০০০০ পুরো জাতি ধীরে ধীরে ধাবিত হবে মেধাহীনতার দিকে বর্তমানে আমাদের দেশের সমস্যাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত সমস্যা হচ্ছে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া। এর কুফল তাত্ক্ষণিকভাবে না পাওয়া গেলেও এর ভয়াবহতা সুদূরপ্রসারী। প্রশ্ন ফাঁস নামক এ ভয়াবহ ব্যাধি অতিসত্বর দূর না করা যায় তাহলে ভবিষ্যতে কড়ায়-গন্ডায় এর মাশুল গুনতে হবে। পুরো জাতি ধীরে ধীরে ধাবিত হবে মেধাহীনতার দিকে। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত্। আজকের শিশুকে যদি সঠিকভাবে গড়ে তোলা না হয় তাহলে এটা হবে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা। প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিকার হিসেবে প্রথমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্বীকার করতে হবে যে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। বরাবর অস্বীকার করার কারণে যারা প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত তারা বিচারের সম্মুখীন হওয়ার পরিবর্তে উত্সাহিত হচ্ছে। এরকম আর কতদিন চলতে পারে? কতদিনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দায়িত্বশীলদের বোধোদয় হবে? এ দুর্যোগ থেকে রেহাই পেতে হলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় স্বীকার করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। আয়েশা আক্তার সমাজকল্যাণ বিভাগ, ইডেন কলেজ ০০০০০০০০০০ একটি দেশকে মেধাশূন্য করবার জন্যই প্রশ্নপত্র ফাঁস করছে বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা প্রসারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। সঠিক সময় পরীক্ষা নেয়া, ঠিক সময়ে ফলাফল ঘোষণা, পরীক্ষার আগে অভিন্ন প্রশ্নে মডেল টেস্ট নেয়া, সৃজনশীল প্রশ্ন কাঠামো এসব ক্ষেত্রে সাহসিকতার প্রমাণ রেখে চলছে। এমনকি পরীক্ষায় বাজারদর নকল প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু একটি সমস্যা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে আর তা হল প্রশ্ন ফাঁস। একটি দেশকে মেধাশূন্য করার জন্য এর থেকে বড় কোনো অস্ত্র প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন থেকে শুরু করে সব পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এখন নিত্যদিনের ঘটনা। এই কলঙ্ক ছোট ছোট কোমলমোতি শিশুদের পাবলিক পরীক্ষা যেমন পিএসসি, জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষায়ও মিশেছে। নাফিজ আহম্মেদ আই বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ০০০০০০০০০০ প্রশ্নপত্র ফাঁস জাতির উন্নতির অন্তরায় যে কোন পরীক্ষার্থী অনেক আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যখন যায় তখন মেধাবী ছাত্রদের মেধার মান যাচাইয়ের ক্ষমতা হ্রাস পায়। ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে অনেক সময় অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয় / নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে জীবনটা ধ্বংসের দিকে চলে যায়। ফলে অভিভাবকেরা যে আশা নিয়ে সন্তানদের লেখাপড়া করান -তা হতাশায় পর্যবসিত হয়। তাই প্রশ্নপত্র যাতে ফাঁস না হয় সেজন্য দুর্নীতি দমন ব্যুরোকে একটু সক্রিয় ভূমিকায় আসতে হবে। কারণ সরকার দেশে আইন প্রণয়ন করতে পারেন কিন্তু তা বাস্তবায়ন করতে হবে যারা দায়িত্বশীল তাদের আর জনগণের কারণ জনগণ যদি অন্যায়ভাবে প্রশ্নপত্র না কিনে তাহলে প্রশ্নপত্রের দায়িত্বে যারা থাকেন তারা দমন হবে।এজন্য অভিভাবক শ্রেনী এবং সমাজের এলিটদের সক্রিয় অংশ গ্রহন জরুরি। কাজী কোহিনূর বেগম তিথি দ্বিতীয় বর্ষ, হোমিওপ্যাথি কলেজ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন