পুরান ঢাকায় স্বর্ণকার খুন, অলঙ্কার লুট

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৪, ২২:১৪
পুরনো ঢাকার বাবুবাজারে একটি স্বর্ণালঙ্কার কারখানার কারিগর বাদল মালাকারকে শ্বাসরোধে হত্যার পর স্বর্ণালঙ্কার লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির সাক্ষ্য নিয়েছে। সাক্ষ্য মোতাবেক হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুইজনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে বাবুবাজার এলাকার ৫৫ নম্বর হাজ্বী রহমত উল্লাহ মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ মার্কেটের পঞ্চম তলার একটি স্বর্ণালঙ্কার তৈরির কারখানা থেকে কারিগর বাদল মালাকারকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। বাদল মালাকারের মুখে, মাথায় ও বুকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের ধারণা, বাদল মালাকারকে শারীরিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তার পিতার নাম সীধাম মালাকার। বাড়ি ঢাকা জেলার সাভার থানাধীন হেমায়েতপুরের হরিণধরা গ্রামে। বাদল মালাকার ২ ভাই এক বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন। বাদল মালাকারের মামা বিমল চন্দ্র মালাকার জানান, বাদল ১৫ বছর ধরে ওই কারখানায় স্বর্ণালঙ্কার তৈরি করছিল। কারখানাটি বিভিন্ন নামি-দামি জুয়েলার্সের স্বর্ণালঙ্কার তৈরি করে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় বাদল মালাকারের পিতা অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ১০ ভরি ওজনের স্বর্ণ ও একলাখ টাকা খোয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম জানান, এক ব্যক্তির সাক্ষ্য মোতাবেক হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুইজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবিরুল ইসলাম জানান, কারখানাটির মালিক সুবল পোদ্দার ও মার্কেটের এক নিরাপত্তা কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের দেয়া তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই কারাখানায় সঞ্জয় ও তার এক সহযোগী সেখানে যায়। বাদল তাদের পাঁচতলায় নিয়ে যান। এরপরই রাতের কোনো এক সময় হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, নগদ টাকা ও স্বর্ণ এবং স্বর্ণালঙ্কারের লোভে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটতে পারে। হত্যাকাণ্ডের পিছনে পূর্বশত্রুতা আছে কি-না সে বিষয়টি নিশ্চিত নয়। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। সন্দেহভাজনদের গ্রেফতারে ধারাবাহিক অভিযান চলছে।