আন্দোলনের নামে সহিংসতা জনগণের
কাম্য নয়
বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঈদের পরে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন। ঘোষণার পর-পরই জনগণ একে অপরের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করছে “তিনি কিসের আন্দোলন করবেন? আন্দোলনের তো একটা সুনির্দিষ্ট ইস্যু থাকে। ইস্যুবিহীন আন্দোলন করলে শান্তিপূর্ণ এ দেশে অশান্তি নামবে। জনগণ শান্তি চায়, স্বস্তি চায়। বিগত দিনে কত আন্দোলনই তো হল। ধর মার, কাট কাট, গাড়ি ভাংচুর, জ্বালাও-পোড়াও আরো কত কি? তাতে কি হল? সিলপাটার ঘষাঘষিতে মরিচের জান শেষ হচ্ছে। অর্থাত্ দু’দলের রেষারেষিতে জনগণের জান শেষ হচ্ছে। যারা বুদ্ধিমতি তারা বুদ্ধি দিয়ে যুক্তি দিয়ে প্রতিপক্ষের যুক্তি খণ্ডন করে কিংবা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে। আর যাদের বুদ্ধির স্বল্পতা রয়েছে তারাই প্রতিপক্ষের যুক্তি খণ্ডাতে না পেরে বলে ধর ওকে.. মার ওকে..কাট ওকে..। সুতরাং, আন্দোলন নয় আপোষে দাবি উত্থাপন করা উচিত। আন্দোলন যদি করতেই হয় তবে আন্দোলনের নামে যেন দেশে সহিংসতা বিরাজ না করে জনগণ তাই কামনা করে।
নূর সালাম খান,
অনার্স (শেষ বর্ষ), বাংলা বিভাগ
সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা।
০০০০০০০০০০০০০০০০
সরকারের পতন ঘটাতে হলে বিএনপিকে আগে সাংগঠনিক শক্তি অর্জন করতে হবে
বিএনপি ও তার জোট ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকেই বর্তমান সরকারকে ফেলে দেবার জন্য সেই যে হুমকি দেয়া শুরু করেছিল তা আজো থামে নেই। তারা সরকার পতনের আন্দোলনের কথা বলেই যাচ্ছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। মুখের যে আস্ফাালন তারা যদি কাজে দেখাতে পারতেন, তাহলে বুঝতাম সরকার পতন হয়তো হয়ে যাবে। আজ না হউক কাল হবে। কিন্তু সে লক্ষণ তো দেখতে পাচ্ছি না। তাদের আন্দোলন সফল হবার লক্ষণও কম। কারণ তাদের দলের মধ্যে যে সীমাহীন কোন্দল তা থামাতে না পারলে আন্দোলন হবে কেমন করে। সম্প্রতি ঢাকায় বিএনপির যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাতে তো কোন্দল দেখা যাচ্ছে। সভাপতি সম্পাদককে মানছেন না। সম্পাদকের কক্ষে তালা লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। এ চিত্র বিএনপির প্রতিটি জেলার। ঢাকায় আন্দোলন জোরদার করতে পারলে এবং জনগণকে সাথে নিয়ে সে আন্দোলকে যদি বেগবান করতে পারে বিএনপি, তাহলে হয়তো একটা কিছু হতে পারে। কিন্তু বিএনপি যেভাবে আন্দোলন করে সেভাবে বর্তমান সরকারের পতন ঘটাতে পারবে না।
কামরুল ইসলাম,
তৃতীয় বর্ষ (অনার্স), রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগ,
নেত্রকোনা সরকারি কলেজ, নেত্রকোনা।
০০০০০০০০০০০০
যে আন্দোলনে জনগণ নেই
সে আন্দোলন কখনোই সফল হতে পারে না
২০০৮-এর নির্বাচনের পর হতে বিএনপিও তার জোট তত্কালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল। কিন্তু তারা কিছুই করতে পারেনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নামে যে আন্দোলন তারা শুরু করেছিল তাতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পূর্বে যে নৈরাজ্য তারা করেছিল, তার মাশুল এখন তাদের দিতে হচ্ছে। তারা সরকারেও নেই, সংসদে বিরোধী দলেও নেই। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে বিএনপি থেমে থেমে আন্দোলন করার কথা বলে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে বিরাট বিরাট হুমকিও দিচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অনেক ভুল-ত্রুটি থাকলেও এবং জনদুর্ভোগ থাকলেও বিএনপি সেদিকে না গিয়ে শুধু সরকার পতনের ডাক দিয়ে চলেছে। কিন্তু তারা এতে জনগণের কোন সারা পাচ্ছে না। যে আন্দোলনে জনগণ নেই, সে আন্দোলন কখনই সফল হতে পারে না। বিএনপি যদি সরকার হটাতে চায়, তাহলে তাকে আগে নিজ দলকে শক্তিশালী করতে হবে। জনদুর্ভোগগুলো চি?িহ্নত করে জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলন করতে হবে, তা হলে হয়তো তারা যা চাচ্ছে তা হতে পারে বলে আমার ধারণা। তবে জনকল্যাণে আন্দোলন হতেই পারে। বিএনপিও তার জোট যদি সেভাবে এগুতে পারে, তাদের আন্দোলন সফলও হতে পারে।
ফারহানা ইয়াসমিন,
দ্বিতীয় বর্ষ (সম্মান), বাংলা বিভাগ,
গৌরিপুর সরকারি কলেজ,
ময়মনসিংহ।
০০০০০০০০০০০০০০০
এই মুহূর্তে বিরোধী
দলের তীব্র আন্দোলন প্রয়োজন
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঈদের পরে যে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন সে ডাকে সর্বস্তরের জনগণের সাড়া দেয়া উচিত। গণতান্ত্রিক এ দেশে রাজনীতির নামে যে অরাজকতা চলছে তা বন্ধ করা দরকার। মনে হচ্ছে গণতন্ত্র নয় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের এ দেশ। বিগত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন যে অনিয়মে অনুষ্ঠিত হল তা আমজনতার কাম্য নয়। এই মুহূর্তে পুনরায় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য বিরোধী দলের সাথে আমজনতার কণ্ঠ মিলানো উচিত। জনগণ তার ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার দেখতে চায়।
মো. রুহুল আমিন,
বাণিজ্য শাখা প্রথম বর্ষ,
সরকারি বাংলা কলেজ,
মিরপুর, ঢাকা।
