সঙ্গতকারণে বর্তমান বিশ্বের কিছু কিছু রাষ্ট্রের গণতন্ত্র এখন হতাশার সাথে বলতেই পারে- ‘আমাতে নেই আমি’। এ যুগে অনেক কিছুরই সংজ্ঞা বা ডেফিনিশন (definition) বদলে যাচ্ছে। গণতন্ত্র এখন কোন কোন দেশে পরিচয় সংকটে আক্রান্ত এবং দিশাহীন রাজনীতি তরুণ প্রজন্মের অপেক্ষায় দিন গুণছে। কয়েকশ’ বছর আগের ভূ-মানচিত্রের দিকে তাকালে যেমন বর্তমানের সাথে মেলানো কষ্টকর তেমনি মানবজীবন,পরিবার,সমাজ ও রাজনীতির দিকে তাকালে ক্ষেত্রবিশেষে অতীতের সাথে বর্তমানের মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। খাদ্যের জগতেও চলছে ফরমালিন, কার্বাইড এবং জি.এম (Genetically modified) ফুডের যুগ। এমনিভাবে আগামীদিনে হয়তো আরো অনেক কিছুরই সংজ্ঞা ও রূপ পরিবর্তন হয়ে যাবে। তবে, আর যাই কিছু হোক না কেন,মানব জীবন,সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে যে সকল মৌলিক বিধান মানুষ শত শত বছরের অভিজ্ঞতায় অর্জন করেছে সেগুলো ওলট-পালট হয়ে গেলে নির্ঘাত সামাজিক বিপর্যয় নেমে আসবে।
কালক্রমে গণতন্ত্র আজ তার আদি সংজ্ঞা হারাতে বসেছে। রাজনীতির অবস্থাও তথৈবচ। গণতন্ত্র মানে জনগণের শক্তি; জনগণের শাসন। গ্রীক ইতিহাসে এথেন্সবাসীরা যখন রাজার পরে রাজা অথবা ক্ষুদ্র অভিজাত ধনাঢ্য শ্রেণির পরিবর্তে নগরবাসীদের সমন্বয়ে সরকার পরিচালনা শুরু করে তখন থেকেই গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু বলে ধরে নেয়া হয়। রাজতন্ত্র,অভিজাততন্ত্র কিংবা স্বৈরতন্ত্রে রাষ্ট্রের তথা সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে নাগরিকদের কোন ভূমিকা থাকে না। অন্যপক্ষে গণতন্ত্র এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে জনগণ সম্মিলিতভাবে যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। গণতন্ত্রের চর্চা শুরু হবার পর দেখা গেল, চলমান সবগুলো পদ্ধতির চাইতে এটি বেশ সুবিধাজনক ও কার্যকরী। এর মাধ্যমে মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিয়ে তাদের পছন্দ অনুযায়ী প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে। কিন্তু,কালক্রমে ক্ষমতালিপ্সু ,নীতিহীন, চতুর রাজনীতিকরা গণতন্ত্রের বিকৃতিকরণে এগিয়ে গেল। তারা গণতন্ত্র এবং রাজনীতির ভেতরে অবস্থান করেই গণতন্ত্রের অন্ধিসন্ধি বের করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কৌশল বের করে ফেলে। তাই বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্র ও রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ এখন তাদের হাতে। এসকল অতি-মেধাবী রাজনীতিকদের বুদ্ধি ও কৌশলের সাথে সাধারণ মানুষ সহজে পেরে ওঠে না।
সংজ্ঞা অনুযায়ী গণতন্ত্র জনগণের জন্য, জনগণের মধ্য থেকে, জনগণের দ্বারা গঠিত সরকার। তাত্ত্বিকভাবে জনগণের ভোটের দ্বারা বলা হলেও বাস্তবে অধিকাংশ দেশেই সকল মানুষ ভোটদানের সুযোগ পায় না, সকল মানুষের ভোট বিবেচনায় আসে না এবং যারা ভোটার নয় তারাও ভোট দিয়ে থাকে- অপ্রকাশ্যে বা প্রকাশ্যে। গণতন্ত্র মানুষের জন্য- কথাটি কাগজে-কলমে এবং বক্তৃতাতেই সীমাবদ্ধ থাকে। সকল সময়ে সকল দেশে তা মানুষের জন্য প্রযোজ্য না হয়ে প্রভাবশালী, ধূর্ত, অসত্ ও পেশীশক্তিধারীদের কব্জায় চলে যায়। নির্বাচনে জয়ী সংখ্যাগরিষ্ঠরা নির্বাচন পরবর্তী সময়টাকে একান্তই নিজেদের টার্ম এবং একটি সুবর্ণ সুযোগ হিসাবে বিবেচনা করে থাকে। এমনকি নির্বাচনের আগেই কোন কোন দেশে শুরু হয়ে যায় কালনেমির লঙ্কাভাগ। পরাজিত সংখ্যালঘুরা কোন কোন দেশে ক্ষমতাসীনদের চাপে কোণঠাসা হতে হতে হতাশায় নিপতিত হয়ে কাউন্টার-প্রোডাক্টিভ কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে। এজন্য গণতন্ত্র ও সুস্থ রাজনীতির স্বার্থে নির্বাচনে বিজিত এবং পরাজিত সকল দলকে নিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। যারা নির্বাচনে হেরে বিরোধী দলের মর্যাদা নিয়ে পার্লামেন্টে যায় তাদের সেই মর্যাদা ক্ষমতাসীনদের দয়া বা অনুকম্পা নয়। বরং সেটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতির মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং লিখিত সংবিধানে তার রূপরেখাও দেয়া থাকে। এই কারণেই বিরোধী দলকে রাষ্ট্র পরিচালনার অংশীদার বলা হয়। তবে যে সকল দেশে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দক্ষ নির্বাচন কমিশন থাকে সেখানে রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য হয়েই পারস্পরিক সমঝোতা বজায় রাখে।
কোন কোন দেশে সরকারি দল ও সরকার একাকার হয়ে যায়। সেখানে সরকারের গণতান্ত্রিক ভারসাম্য থাকে না। দলের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সরকার অধিক মাত্রায় কর্তৃত্ববাদী ও লোভাতুর হয়ে উঠলে বিরোধী দলগুলো রাস্তায় নেমে আসে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় তাদের রাজনৈতিক আন্দোলনগুলো ব্যক্তিস্বার্থ ও ক্ষুদ্রগোষ্ঠী স্বার্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কারণ, অধিকাংশ নেতা পরিবারতন্ত্রের সীমা অতিক্রম করতে পারে না। অথচ, জনগণ একটা সময়ের পর বংশানুক্রমিক নেতৃত্বের অবসান কামনা করে। এক্ষেত্রে অতিমাত্রায় ক্ষমতাবিলাসী সরকারগুলো তাদের বিরুদ্ধে কোন বৃহত্তর গণ-আন্দোলন বা প্রতিবাদ দানা বেঁধে ওঠার আগেই তাতে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করে। একবার সরকার গঠন করে সমগ্র প্রশাসন ব্যবস্থাকে নিজেদের আজ্ঞাবহ করে সাজাতে পারলে নিরস্ত্র মানুষকে অন্তত কয়েক বছরের জন্য হলেও বিভাজন ও শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে শাসন করা সম্ভব। কারণ, কোন সরকার যদি রাষ্ট্রের যাবতীয় রিসোর্স ও শক্তি তাদের ক্ষমতা রক্ষার কাজে ব্যবহার করতে পারে তাহলে নিরস্ত্র মানুষের পক্ষে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় সরকারের জন্য বড় ধরনের কোন চাপ বা সংকট সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। তার উপর যদি সরকারের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে সেক্ষেত্রে তারা বেশি পরিমাণে আত্মবিশ্বাসী ও স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠতে পারে। এটি গণতন্ত্রের একটি সীমাবদ্ধতা। তবে,সফল গণতান্ত্রিক দেশসমূহে সরকার প্রধানগণ দেশের স্বার্থে,জনগণের স্বার্থে নিজের বা পরিবারের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে থাকেন।
গণতন্ত্রের একটি চমত্কার বৈশিষ্ট্য হলো জনগণের ভোটাধিকার এবং নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার নির্ধারণ করা। যখন গণতন্ত্র আসেনি, তখন শাসকরা একবার অধিষ্ঠিত হতে পারলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ক্ষমতা ছাড়তে চাইতেন না। জনগণ অথবা প্রজাগণের সামনে শাসক বদলের কোন পথ খোলা ছিল না। জনগণ বাধ্য হয়ে বংশ পরম্পরায় তাদের কর্তৃত্ব মেনে নিতো। এই প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর সরকার বা শাসক বদলের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। কিন্তু তাতেও অতি চালাক ক্ষমতাপ্রিয় রাজনীতিকগণ নির্বাচনে কৌশল খাটিয়ে ফলাফল নিজেদের অনুকূল নিয়ে আসার চেষ্টা চালায়। তবে,একটা সময়ে ক্ষমতা আঁঁকড়ে থাকার কোন কৌশল আর কাজে আসে না। জনগণ তখন সোচ্চার হয়ে ওঠে। সেই সকল অবস্থায় ক্ষমতার পালাবদল ঘটে যায়, কখনো নিয়মতান্ত্রিক অথবা কখনো অনিয়মতান্ত্রিক পন্থায়। বৈধ, স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ পন্থায় যেখানে নিয়মিত ক্ষমতার পালাবদল সংঘটিত হয়, সে সকল দেশেই গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।
ক্ষমতাপ্রিয় উচ্চাভিলাষী রাজনীতিকদের জন্য সময়ে সময়ে গণতন্ত্র একটি বোঝা স্বরূপ। কারণ, গণতন্ত্রী হতে হলে অন্যের মতামতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হয়। গণতন্ত্রে অবৈধ,অস্বচ্ছ কাজ বাস্তবায়ন করা বেশ কষ্টকর। যারা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে চায়,যাদের ক্ষমতায় থাকা একান্ত প্রয়োজন, যাদের জন্য ক্ষমতা হারাবার পর বিপদে পড়ার সম্ভাবনা থাকে,যারা ক্ষমতার মোহে বিভোর হয়ে গেছে,ক্ষমতায় না থাকলে যাদের ভাল লাগে না, ক্ষমতার সাথে যাদের জীবন-জীবিকা ও অস্তিত্বের প্রশ্ন জড়িত, ক্ষমতার আশেপাশে না থাকলে যারা অন্যের ক্ষতি করে নিজের স্বার্থ হাসিল করতে পারবে না তাদের জন্য গণতন্ত্র একটি সমস্যাই বটে। তবু বর্তমানে যেহেতু গণতন্ত্রের জয়জয়কার তাই গণতন্ত্রের পোশাক পরে গণতন্ত্রী সেজে গণতন্ত্র সাইনবোর্ডের আড়ালে থেকে তারা স্বার্থ হাসিলে তত্পর। পার্টির অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের প্রশ্ন উঠলেই তারা গর্বের সাথে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা বলে থাকে। পার্টিকে এমনভাবে সাজানো হয় যাতে তৃণমূল থেকে শুরু করে বাঘা-বাঘা ঝানু নেতারাও দলনেতা বা তার প্রিয়ভাজনদের বিনা-দ্বিধায়, বিনা প্রশ্নে সমর্থন দিয়ে যাবে। বাস্তবে অনেক দেশেই গণতন্ত্র এখন জনস্বার্থের রক্ষাকবচ না হয়ে বিশেষ কোন একটি গোষ্ঠী বা দলের কতিপয় সদস্যের সুযোগ-সুবিধা আদায়ের ফোরামে পরিণত হয়েছে। সরিষার ভূত যেমন সরিষাতেই থাকে তেমনি গণতন্ত্রের কাঠ-ঠোকরারা এখন গণতন্ত্রের খোঁড়লেই আবাস গেড়েছে। জনগণ যাদেরকে গণতন্ত্রের অভিভাবক হিসাবে ভোট দেয়, শ্রদ্ধা করে, কুর্নিশ জানায়, ক্ষমতাধর বানায় তারাই গণতন্ত্রকে চাবুক মারতে মারতে নিয়ে যায় জঙ্গলের দিকে।
বর্তমানে বেশকিছু রাষ্ট্রে যে ধরনের গণতন্ত্র চর্চা হচ্ছে তাতে সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে বা আইন প্রণয়নে জনগণের চিন্তা-চেতনার প্রতিফলন প্রশ্ন সাপেক্ষে। কারণ,উচ্চাভিলাষী নির্বাচনী মেনিফেস্টো প্রচার করে প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে ফান্ড রেইজিং করে সুপার মার্কেটিং পদ্ধতিতে ভোটারদের বিভ্রান্ত করে নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া তেমন একটা কঠিন নয়। পরবর্তীতে সরকারে যোগ দিয়ে আইন প্রণেতাগণ জনগণের সাথে দিব-দিচ্ছি খেলতে-খেলতে চার-পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করে দিতে পারেন অনায়াসে। জনগণের হাতে তখন একটাই সুযোগ থাকে- সেটি হলো পরবর্তী নির্বাচন। ভোটের অধিকার এবং স্বাধীন নিরপেক্ষ নির্বাচনকে গণতন্ত্রের ডানহাত হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, আমরা সুযোগ পেলেই গণতন্ত্রের ডানহাতে আঘাত করতে দ্বিধা করি না। দেশে দেশে নিরুপায় জনগণ বছরের পর বছর এই ধরনের দৃশ্য দেখতে দেখতে রাজনীতির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। অথচ, রাজনীতিবিদগণের নিকট রাজনীতি ও জনসেবা হলো পরম কাম্য বিষয়। প্রচার-প্রচারণা, নির্বাচন, সরকার গঠন এবং সংসদীয় দুর্গের শীতল হাওয়ায় বসে সমস্বরে হাত উঠিয়ে আইনের পর আইন প্রণয়ন ও পাস করে আত্মতৃপ্তির সাথে তারা ঘরে ফেরেন। তাদের সেই সকল মহান কর্মকাণ্ডের সুফল সাধারণ মানুষ কতটা ভোগ করতে পারছে তারা তা জানেন কিনা, সন্দেহ।
বর্তমানে বংশানুক্রমিক শাসন, রাজতন্ত্র, অভিজাততন্ত্র, একনায়কতন্ত্র, স্বৈরশাসন, কিংবা মিলিটারি শাসন-ইত্যাদির পরিবর্তে মানুষ গণতন্ত্রকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। কারণ,গণতান্ত্রিক দেশের সংবিধানে সকল নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার,চলাফেরার স্বাধীনতা,সমাবেশের স্বাধীনতা, সংগঠনের স্বাধীনতা, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, বাক-স্বাধীনতা, পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা,সম্পত্তির অধিকার ইত্যাদি লিপিবদ্ধ থাকে। মোটকথা গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় মানুষ বিধিবদ্ধ আইনের সুরক্ষায় বাস করতে পারে। এতে সরকারি ক্ষমতার উপর আইনের নিয়ন্ত্রণ আরোপিত থাকে এবং শক্তিমানের অত্যাচার থেকে সাধারণ মানুষ রক্ষা পায়। গণতান্ত্রিক সমাজে শাসক ও শাসিত উভয়ের জন্য আইনের কার্যকারিতা সমানভাবে প্রযোজ্য হয়ে থাকে। সরকার থাকে জনবান্ধব এবং সেখানে জনগণের সামাজিক নিরাপত্তা ও সুষম সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়। সর্বস্তরে থাকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। কিন্তু অধিকাংশ দেশে সরকারগুলো গণতন্ত্রকে নিজের মতো করে সাজাতে গিয়ে মানুষের সামাজিক সম্পর্কগুলো জটিল করে তোলে। পোশাকী গণতন্ত্রে সবাইকে সমানভাবে দেখা হয় না। সামাজিক বৈষম্য, দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও দমন-পীড়নের মাধ্যমে মানুষের মাঝে বিভাজন সৃষ্টি করা হয়। প্রধান নেতা তার ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা,নাম,যশ,ক্ষমতা ও পারিবারিক শাসনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য দলীয় লোকদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। দলীয় লোকেরাও সুযোগ বুঝে নিজেদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। প্রধান নেতা নিজেও এই জটিল-কুটিল রাজনীতির ধূম্রজালে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। কোন কোন দেশে রাজনীতির এই দুষ্টচক্রে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে চলতে একদিন গণতন্ত্র এবং রাজনীতি উভয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে। তখন সেখানে নতুন করে আবার গণতন্ত্রের আয়োজন শুরু হয়।
লেখক :অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল
