ঢাকা এখনও ফাঁকা

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৪, ২১:৩৬
ঈদের ছুটি শেষ হইয়াছে গত বৃহস্পতিবার। মাঝখানে আবার গিয়াছে দুইদিনের সাপ্তাহিক বন্ধ। আর আজ সোমবার। ঈদ অবকাশের পর চারদিন চলিয়া গিয়াছে। কিন্তু আড়মোড়া ভাঙ্গিয়া এই ব্যস্তসমস্ত নগরী জাগিয়া উঠে নাই এখনও। সচিবালয় এবং অন্য সকল সরকারি অফিসের বেশিরভাগ চেয়ারই ফাঁকা। ভিড় নাই পথে ও ফুটপাতে। জ্যাম নাই, জট নাই। বাস ট্রাক এবং বিবিধ যন্ত্রযানের উত্কট শব্দ, হর্ণের কানফাটানো উত্পাত-তাও অনেক কম। পাড়া—মহল্লা এবং পথের পাশের চায়ের দোকানেরও বেশিরভাগই বন্ধ, এখনও ঝাপ খুলে নাই। রাজধানীর আয়েশি মানুষ যাহারা, তাহারা বলিবেন, বেশ তো ভালই। এমনই যদি হইত এই শহরের প্রতিটি দিন, তাহা হইলে কতই না ভাল হইত। ভাল তো হইত বটেই! কিন্তু এই ভাল ভাল নয়। কেননা ঈদ অবকাশে কর্মমুখর জীবনের খেরোখাতা হইতে আলস্য করিয়া তিন-চারদিন কিংবা পুরা একটি সপ্তাহ গাপ করিয়া দেওয়া কোনো শুভবোধের পরিচয় বহন করে না।গত শুক্র ও শনিবারে রাজধানীতে কর্মব্যস্ততা ছিল না। তাহা খুব অস্বাভাবিক মনে হয় নাই। কিন্তু একি কথা, ছুটির পরে অর্ধ সপ্তাহ চলিয়া যাইবার পরও কর্তব্যকর্মের আহ্বান উপেক্ষা করা হইবে অবলীলায়! এইভাবে শ্রমঘন্টা নষ্ট করা কোনো কাজের কথা হইতে পারে না। যে কোনো উপলক্ষে কাজে ফাঁকি দেওয়া আমাদের একশ্রেণীর লোকের সহজাত প্রবণতা হইয়া দাঁড়াইয়াছে যেন। ফি বত্সর দুই ঈদের অবকাশে আমরা এই খারাপ প্রবণতার বহিঃপ্রকাশ দেখিতে পাই কমবেশি। ঈদে-পার্বণে মানুষ কর্মস্থল ছাড়িয়া নাড়ির টানে বাড়ি যাইবে, আত্মীয়-পরিজনের সঙ্গে আনন্দে যোগ দিবে, ইহাই তো স্বাভাবিক। ইহার প্রয়োজনও আছে। মানুষ যন্ত্র নয়,রোবট নয় যে, তাহার কোনো বিশ্রামের প্রয়োজন হইবে না। মানুষের অবশ্যই প্রয়োজন সময় সময়ান্তরে অবকাশের। কাহারও পক্ষেই বিরামহীনভাবে কাজ করিয়া যাওয়া সম্ভবপর নহে, তাহা কায়িকই হউক আর মানসিকই হউক। অবকাশের এই প্রয়োজনীয়তা কমবেশি সকলেই বুঝেন। সেজন্যই রহিয়াছে সাপ্তাহিক ছুটি, আছে নানান অবকাশ। রিক্রিয়েশন লীভেরও ব্যবস্থা আছে। উন্নত দেশসমূহে কর্মজীবী মানুষ উইকএন্ডের অবকাশ যতটা সম্ভব নির্ভার উদ্যাপন করিয়া থাকেন। ইহাতে কর্মী মানুষের কর্মস্পৃহা বাড়িয়া যায়। প্রতিটি নূতন সপ্তাহে মানুষ পুনরুদ্যমে কাজে লাগিয়া যান। ইহাতে উত্পাদনশীলতাও বৃদ্ধি পায়। কিন্তু তাহারা ছুটির মেয়াদ টানিয়া বড় করিয়া নেন না। কিন্তু আমরা! সব ক্ষেত্রেই যত পাই তত চাই। এখন এমনিতেই সপ্তাহে দুইদিন ছুটি। ঈদের ছুটি মিলাইয়া তিন-চারদিন অবকাশ যাপনের পর কাজে না ফিরিতে পারার কী কারণ থাকিতে পারে! যেইখানে অবকাশ যাপনের পর নব উদ্যমে কর্মে ঝাঁপাইয়া পড়িবার কথা, সেইখানে দেখি আমাদের ঝিমুনিই কাটে না! গাত্রোত্থান করিতেই হপ্তা পার! একটা করিয়া অবকাশ আসে আর আমাদের অনেকের অতিরিক্ত ছুটিভোগের বাসনা প্রবল হইয়া ওঠে। তাহা কতক ক্ষেত্রে অনুমোদিত, কতক অননুমোদিত। সরকারি অফিসে যাহারা ছুটি মঞ্জুর করেন তাহারাও বেশ উদার। বিনা অনুমতিতে অতিরিক্ত ছুটি কাটাইলে জবাবদিহিতার মুখে পড়িতে হয় এমন দৃষ্টান্তও খুব বেশি নাই। সে যাহাই হউক, এই মানসিকতার অবসান হওয়া দরকার। যাহারা ছুটির সুযোগে কাজে ফাঁকি দেওয়ার বাহানা করেন তাহারা তো আসলে ফাঁকি দেন নিজেদেরই।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন