বিএনপির আন্দোলন
কার বিরুদ্ধে?
বিএনপি এখন যে আন্দোলনে ডাক দিচ্ছে তা কার বিরুদ্ধে? আমরা নিরীহ জনগণ তাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র ও সহিংস আন্দোলন করে লাভ কি? তারা কি দেশের অগ্রগতি ও প্রগতিকে আটকে দিতে চাচ্ছে? দেশ এখন এগিয়ে যাচ্ছে— এই এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অধিকার কারোর নেই। জোর করে কোন আন্দোলন করা ঠিক নয়। এতে যে পরিবারের ক্ষতি হয় তার দায়দায়িত্ব কে নেবে? আমরা শান্তি চাই, কোন জোর-জবরদস্তি চাই না। অহিংসার পথে আন্দোলন করলে দেশের মানুষ কিছু বলবে না। কিন্তু গত বছর বোবা প্রাণী, বৃক্ষ আর মানুষের উপর যে জুলুম-নির্যাতন এবং হিংস্রতা করা হয়েছে তা বন্ধ করা দরকার। আন্দোলনের ডাক দেয়ার পূর্বে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি অবশ্যই বিএনপিকে ভাবতে হবে।
নাওয়াঝিশ মুহম্মদ আলী
বিবিএ, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল
ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।
০০০০০০০০০০০
সরকারের পতন ঘটাতে হলে
টিভি টকশো বাদ দিয়ে জনগণের
সাথে মাঠে থাকতে হবে
বর্তমান সরকারকে হটানোর জন্য বিএনপি ও তার জোট যে আন্দোলনের কথা বলছে, সেভাবে আন্দোলন করে এই সরকারকে হটাতে বা পতন ঘটাতে পারবে না। কারণ এই সরকারের যেমন গণভিত্তি রয়েছে, তেমনি বিএনপি তার আন্দোলনকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রায় নিয়ে যাবার কৌশল এখনো রপ্ত করতে পারেনি। ৫ জানুয়ারির পর থেকে আমরা বিএনপির সরকার পতনের আন্দোলন দেখে আসছি। তারা শুধু বিদেশি কূটনীতিকদের বাড়ি-ঘরে ছুটাছুটি করছেন, কিন্তু জনগণের কাছে যাচ্ছেন না। জনগণ শুধু বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে আন্দোলনের ডাক দিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি মনে করছে, এভাবেই তাদের আন্দোলন সফল হবে। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। আন্দোলন বড় কঠিন জিনিস। জেল জুলুম অত্যাচার সইতে হবে। কিন্তু বিএনপি নেতা- কর্মীদের সে ধৈর্য আছে কি? না নেই। কারণ তারা পুলিশ দেখলেই দৌড়ে পালায়। মোবাইলে আন্দোলন সফল করার কথা বলে। আর টিভি চ্যানেলের সামনে গিয়ে কথা বলে বেশি, যত না আন্দোলন করেন। সরকারের পতন ঘটাতে হলে টিভি টকশো বাদ দিয়ে জনগণের সাথে মাঠে থাকতে হবে। বর্তমান সরকারের পতন ঘটাতে হলে বিএনপিকে জনগণের কাছে গিয়ে দেশের সমস্যাগুলোর কথা বলতে হবে। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। দলের মধ্যের অপশক্তিকে বের করে দিতে হবে এবং ত্যাগী নেতাদের নিয়ে আন্দোলন করতে হবে।
বেলায়েত হোসেন
তৃতীয় বর্ষ (সম্মান),
রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগ,
নেত্রকোনা সরকারি কলেজ, নেত্রকোনা।
0000000000000
সরকার পতনের
আন্দোলনে বিএনপি
জয়ী হতে পারবে না
বিএনপি বার বার বলছে এই সরকার অবৈধ। এই সরকারকে আর রাখা যাবে না। এসব কথা তারা বলেই যাচ্ছেন দীর্ঘদিন থেকেই। ঈদের পরে তাদের চূড়ান্ত আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন। কথা হলো তারা মুখে যত বলে কাজে তত দেখা যায় না। তারা ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে যায়নি কিন্তু উপজেলা নির্বাচনে এ সরকারের অধীনেই অংশগ্রহণ করেছে। এটা কেমন কথা। যারা এক মুখে বলে সরকার অবৈধ অন্য দিকে নির্বাচনে অংশ নেয়। আগামী ক’দিনের মধ্যে তারা আন্দোলনে যাবে এবং সরকারের পতন ঘটাবে বলে যে ঘোষণা তারা দিয়েছে তা কতটুকু সত্য হয় তা দেখার বিষয়। লক্ষ্য করা যায় তাদের আন্দোলনের সঙ্গে নাকি যুক্ত হচ্ছে না তৃণমূলের নেতারা। তৃণমূলের যে বিশৃংখল অবস্থা তা ঘোচাতেই হয়তো অনেক সময় নিবে। তাহলে তারা কাদের নিয়ে আন্দোলন করবে। তাই বলা যায় বিএনপির আন্দোলনে সরকারের পতন ঘটবে না বলে অনেকটা নিশ্চিত করে বলা যায়।
চাঁদনী খন্দকার
সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ,
বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ।
০০০০০০০০০০০০০
সরকার পতন
নাকি মানুষ
হত্যা
আর কতটা রক্ত ঝড়লে বন্ধ হবে আপনাদের আন্দোলনের নামে প্রহসন, আর কতজন মায়ের বুক শূন্য করলে সফল হবেন আপনারা, আর কতজন সন্তানের চোখে অশ্রু ঝড়াতে পারলে প্রতিহিংসার আগুন নিভে সিক্ত হবে আপনাদের রাজনীতি। জানি সে প্রশ্নের যৌক্তিক উত্তর আপনাদের কাছে নেই, নেই নিঃস্বার্থ দেশ প্রেমও, আছে শুধু জনগণকে বোকা বানিয়ে ক্ষমতায় আসার মির্জাফরী চক্রান্ত। ভাবতেও অবাক লাগে আপনারা জনগণের স্বার্থে আন্দোলন করবেন, কিসের জন্য আন্দোলন করবেন, সরকার পতন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য? নাকি অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের জন্য? যদি বলেন জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, তবে বলব আপনারা মিথ্যা বলছেন, কারণ জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা জনগণকে হত্যা করে হয় না এবং জানমালের ক্ষতি করে হয় না। সত্যি বলতে আন্দোলন করে গাড়িতে আগুন দিতে পারবেন, মানুষ পুড়িয়ে মারতে পারবেন কিন্তু জনগণের/দেশের উন্নয়নে কোন অবদান রাখতে পারবেন না। দেশের জনগণ ভালো আছে দয়া করে ভালো থাকতে দিন।
নূর-ই-আলম অপু
মাস্টার্স শেষ পর্ব, সমাজকর্ম বিভাগ,
ভাওয়াল বদরে সরকারি কলেজ, গাজীপুর।
