বিএনপি’র সরকার পতনের আন্দোলন

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৪, ২০:৫৮
সাংগঠনিক শক্তি অর্জন এবং জনসমর্থন আদায় করেই বিএনপিকে সরকার পতনের আন্দোলনে নামতে হবে গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে আমাদের দেশে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে, শিক্ষা ব্যবস্থায় বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিচ্ছে, নানা রকম সামাজিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। এসব সমস্যা দেখা দিচ্ছে কারণ সরকার দেশ ভালভাবে চালাতে অনেকটা ব্যর্থ। তাই এই দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সরকার পতনের আন্দোলন করতে পারে। কিন্তু আন্দোলনে নামার আগে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় এখন বিএনপি অফিসে তালা ঝুলতে দেখা যায়। আবার বিএনপির অনেক নেতা কারাগারে আটক রয়েছে। এর থেকে বোঝা যায় বিএনপি দলটি এখন অনেকটাই অসংগঠিত। একটি অসংগঠিত দল কোন আন্দোলন সফল করতে পারে না। তাই আন্দোলনে নামার আগে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করতে হবে। জনসমর্থন ছাড়া কোন আন্দোলন সফল হতে পারে না। আন্দোলন সহিংস হলে দেশের জানমালের অনেক ক্ষতি হয়। হরতাল-অবরোধ আন্দোলনের অংশ হলে শিক্ষা ব্যবস্থা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের মারাত্মক ক্ষতি হয়। দেশের এই ক্রান্তিকালে বিএনপি জনগণকে সাথে নিয়ে একটি নিয়মতান্ত্রিক সরকার পতনের আন্দোলন করা উচিত বলে আমি মনে করি। মো. রিফাতুল ইসলাম, দ্বিতীয় বর্ষ, মানবিক বিভাগ, নটর ডেম কলেজ, ঢাকা আন্দোলনের নামে অশান্তি সৃষ্টি করা কারো কাম্য নয় আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা সব সময় নিজেদের স্বার্থের জন্যই রাজনীতি করে থাকেন। তা হলে সরকার নামক এই আসনটির জন্য তারা এত পাগল কেন? বিরোধী পদে থেকে দেশের জন্য একটা কাজও কি করা সম্ভব হয় না। সরকার পতনের জন্য আন্দোলনের নামে আপনারা যে টাকা খরচ করবেন তা জনগণের কল্যাণে ব্যয় করুন। তাতে দেশের উপকার হবে আর আপনার খ্যাতিও বাড়বে। আপনারা যদি দেশের উন্নতির জন্য কাজ করে যেতে চান তাহলে দেশের সমস্যাগুলো তুলে ধরে সরকারের সাথে পরামর্শ করে তা সমাধা করুন। আসলে আমাদের দেশের মানুষের মন-মানসিকতা এত নিচু হয়ে গেছে যে, আমরা কখনোই ভালোর দিকে চিন্তা করি না। যতক্ষণ ভালোর দিকে চিন্তা করি তার চেয়ে অনেক গুণ বেশি খারাপের দিকে চিন্তা করি। একজন শিক্ষকের আদর্শ যদি হয় ভুলে ভরা তবে তার ছাত্ররা কেমন হতে পারে? আমরা সকলে স্বার্থবাদী বলেই সামান্য কিছু অর্থের জন্য আন্দোলনের নামে অশান্তির পথে গিয়ে জীবন দিতে কুণ্ঠাবোধ করি না। পরিশেষে বিএনপির প্রতি আমার আকুল আবেদন, সরকার পতনের নামে মিথ্যা অশান্তি সৃষ্টি না করে দেশের জনগণকে ভালো থাকতে দিন। একজন নেতা হিসাবে দেশের জনগণকে ভালবাসুন, দেশের জনগণ আপনাকে ভালবাসবে। দেশকে সমৃদ্ধশালী ও উন্নয়নশীল করতে ভালো কাজ করুন। আমরা আপনার পাশে থাকবো। মো. আলফাজ উদ্দিন, দেবীগঞ্জ কলেজ, স্নাতক শেষ বর্ষ, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড় আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হলে জনগণ সাথে থাকবে বর্তমান ২০ দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ঈদের আগে কঠিন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ঈদের পর সরকার পতনের আন্দোলনে নামবে। এখনও কোন সম্ভাবনা দেখছি না। গত পাঁচ বছরে বেগম খালেদা জিয়া রাজপথে অবরোধ, হরতালসহ অনেক ধরনের বড় বড় কর্মসূচি দিয়েছে। কিন্তু সরকার পতন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এবার যদি আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে হয় তাহলে আশা করা যায় জনগণ তাদের সাথে সম্পৃক্ত হবে। আর ২০ দলীয় জোটের আন্দোলনও সফল হবে আশা করছি। ইমন হোসেন, মাস্টার্স (অধ্যয়নরত), যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ‘পতন’ নামক ধ্বংসলীলার ‘পতন’ ঘটাতে হবে ! বিএনপি বাংলাদেশের একটি প্রভাবশালী প্রাচীন দল। কিন্তু তাদের রাজনৈতিক বিচক্ষণতার অভাবে দলটির প্রতি মানুষের আস্থার ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। দলের আদর্শের সাথে দলীয় কর্মকাণ্ডের ব্যাপক ভিন্নতা, প্রশ্নবিদ্ধ বিতর্কিত রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে সখ্যতা থাকায় জনগণের কাছে দলটির গ্রহণযোগ্যতা কমেছে। তবে, তা শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে বললে ভুল হবে। অনেকেই দলটির নতুন কৌশল নিয়ে উদগ্রীব। ঈদ পরবর্তী সরকার পতনের আন্দোলন সহিংস, নাকি অহিংস হবে সেটার উপরেই নির্ভর করবে দলটির ভবিষ্যত্। কেননা ইতোমধ্যেই দলটির তিক্ত আন্দোলনের ক্ষত জনগণ ভুলে যায়নি, এমনকি আন্দোলনে তাদের আশানুরূপ কোন লাভই হয়নি। সুতরাং, বিএনপির নীতি-নির্ধারকদের এবার খুব হিসেব করেই আন্দোলন করতে হবে। জনগণকে তারা কি যন্ত্রণাদায়ক সেই গতানুগতিক ‘পতন’-এর সাধ যদি আবার দিতে চায় তাহলে হিতে বিপরীত হয়ে নিজেদেরই ‘পতন’ হতে পারে। সুতরাং, শুধু বিএনপি নয়, প্রতিটি বড় দলকেই পতনের রাজনীতির সংস্করণ করতে হবে। আশেক তানভীর অনীক, বিএসএস (সম্মান), লোক প্রশাসন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন