চীনের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ইউনানে গত রবিবার বিকেল সাড়ে চারাটায় ৬.১ মাত্রার ভুমিকমপ আঘাত হানে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, মৃতের সংখ্যা অন্তত চারশ’। আশংকা করা হইতেছে, এই সংখ্যা আরও বাড়িতে পারে। দশ সহস্রাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হইয়া মাটির সহিত মিশিয়া গিয়াছে। প্রদেশের বিভিন্ন এলাকা যেন এক মৃত্যুপুরীর রূপ পরিগ্রহ করিয়াছে। ইহার আগে ১৯৭০ সালে ৭.৭ মাত্রার যে ভূমিকমপটি ইউনানে আঘাত হানিয়াছিল তাহাতে প্রায় পনেরো হাজার লোক প্রাণ হারায়। চীন সরকার ইতোমধ্যে ব্যাপক উদ্ধার তত্পরতা শুরু করিয়াছে। সরকারী পত্রিকা সিনহুয়া জানাইয়াছে সরকার ভূমিকমপ পরবর্তী অতি জরুরি সকল সামগ্রী সত্ত্বর পাঠানোর ব্যবস্থা করিয়াছে। বিপর্যয়ের একদিন পরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং প্রদেশের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে যান। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও উদ্ধারকর্ম পরিচালনায় যাহাতে কোনো ত্রুটি না থাকে সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়াছেন। তবে শঙ্কার কথা হইল-ভূমিকমেপ অঞ্চলটির যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হওয়ায় জীবিতদের উদ্ধার কিংবা জরুরি খাদ্য পৌঁছানো একরকম অসাধ্য হইয়া পড়িয়াছে। ইহার পর শুরু হইয়াছে ভারি বর্ষণ যাহা আরও কয়েক দিন পর্যন্ত চলিতে পারে বলিয়া জানাইয়াছে দেশটির সরকারী আবহাওয়া অধিদপ্তর। ইহার মানে ইউনানে যে মানবিক দুর্গতি তাহা হইতে সহসাই বাহির হইয়া আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ। চীনের এই জাতীয় দুর্যোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সমবেদনা জ্ঞাপন করিয়াছে, মানবিক সহায়তার আশ্বাসও দিয়াছে বন্ধুপ্রতিম অনেক রাষ্ট্র।
ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা চিহ্নিতকরণ ব্যতীত এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় বিষয়ে এখনও কোনো পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নহে। প্রযুক্তি ক্ষেত্রে চরম উত্কর্ষের এই যুগেও। ফলে দুর্যোগ হইতে আত্মরক্ষার কৌশল রপ্ত করিবার প্রশিক্ষণ দেওয়া হইয়া থাকে। ইহাতে হতাহতের সংখ্যা কমিয়া আসে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষেত্রে দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধার ও পুনর্বাসন তত্পরতা সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রবিবারের ভূমিকমেপর পর ইউনানবাসি যে অসহায়াবস্থার মধ্যে পতিত হয় তাহাতে যেকোনো পদক্ষেপই যে খুব সামান্য কাজে দিয়াছে-ইহা বলা যায়। ব্যাপক এলাকা জুড়িয়া যে ক্ষতি সাধিত হইয়াছে, সময় লাগিলেও, তাহা হয়ত কাটাইয়া উঠা সম্ভব। কিন্তু যাহারা স্বজন হারাইয়াছেন তাহাদের ক্ষতি অপূরণীয়। স্বজনহারা এই মানুষগুলিকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজিয়া পাওয়া কঠিন। ইউনানে যে শোকের ছায়া নামিয়া আসিয়াছে তাহা বিশ্বের মানবিক বোধসমপন্ন সকলকে সমানভাবে ব্যথিত করিয়াছে। তবে এই মুহূর্তে যাহা করিবার তাহা হইলো ধ্বংসস্তূপ হইতে জীবিতদের উদ্ধারে সর্বশক্তি নিয়োগ। পরিস্থিতি উন্নয়নে চীন সরকারকে সহায়তা করিবার ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানবিক দায়িত্ব রহিয়াছে। মানুষের বিপর্যয় যেখানেই ঘটুক না কেন তাহা কেবল ঐ এলাকার বা জনগোষ্ঠীর নহে বরং বিশ্বমানবের। ইতিমধ্যেই কয়েকটি দেশ সহায়তার যে আশ্বাস দিয়াছে তাহাকে কাজে লাগাইতে হইবে-কোনোপ্রকার কালক্ষেপণ ব্যতিরেকে। চীনের দুর্যোগ কবলিত মানুষের প্রতি আমরা জানাই গভীর সমবেদনা। ইউনানবাসি দ্রুতই স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়া আসুক, প্রত্যাশা ইহাই।
