বিএনপি’র সরকার পতনের আন্দোলন

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৪, ২১:২০
ঘরে বসে আন্দোলন হয় না মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিএনপি নানা ইস্যুতে আন্দোলন করে আসছে। তার মধ্যে অন্যতম তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। কারণ স্যুট-টাই পরে ঘরে বসে আন্দোলন হয় না। আন্দোলন করতে গেলে রাস্তায় নামতে হবে, কর্মীদের পিছনে রেখে নিজে এগিয়ে যেতে হবে। অন্যায়ের কাছে মাথানত না করে বুক চিতিয়ে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। ভাবতে হবে মরতে যখন হবেই, তবে মৃত্যুকে ভয় না করে বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করে, ন্যায্য অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, দেশের স্বার্থে, দশের স্বার্থে নিজের জীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়ে আন্দোলন করতে হবে। নানা অজুহাতে বিএনপির সাহসী ও আন্দোলনে পারদর্শী নেতা-কর্মীদের জেলে পুরছে। তাই বিএনপির উচিত লাখো যুবকের স্বপ্নের নেতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে দলকে ও নেতা-কর্মীদেরকে চাঙ্গা করে আন্দোলনে নামা। কারণ বিএনপি এখন অনেকটাই নিস্তেজ। নিস্তেজ নেতা-কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করতে তা অতীব জরুরি। আর সরকার দেশ পরিচালনায় সফল হলে, তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে কে? সবাইকে বিভিন্নভাবে সুযোগ-সুবিধা দিলে আন্দোলনকে প্রভাবিত ও বেগবান করবে কে? আর নিস্তেজ আন্দোলন মুখ থুবড়ে পড়বেই। শাহজাহান আলী মূসা সমাজকর্ম,মাস্টার্স (ফাইনাল), সরকারি বাঙলা কলেজ, ঢাকা। ০০০০০০০০০০০ আন্দোলনের নামে অশান্তি চাই না যদি বিরোধী দল সত্যি সত্যি সরকার পতনের আন্দোলনে নামেন তাহলে দেশের বর্তমান অবস্থা থেকে জনগণ কতটা শান্তিতে থাকবে। বিনাশ হবে নাকি শত শত লোকের প্রাণ, পুড়বে নাকি শত শত বাস, ট্রাকসহ, ঘুমন্ত জীবিত মানুষ। ক্ষতি হবে নাকি দেশের কোটি কোটি টাকার সম্পদ। দেশের সর্বস্তরের মানুষ কতটা নিশ্চিতে রাস্তায় চলাচল করতে পারবে? যদি মানুষের জানমালের কোন ক্ষতি না হয়, যদি দেশের কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট না হয়, যদি সারাদেশ ধ্বংসলীলায় মেতে না ওঠে। এসবের দিকে লক্ষ্য রেখে যদি বিরোধী দল সরকার পতন করতে পারেন, তাহলে আন্দোলন করুন। আমি বিরোধী দলকে বলতে চাই আন্দোলনের সময় আপনার সন্তানকে মিছিলের সামনের লাইনে দিন। যখন পুলিশ আপনার সন্তানকে ধরে নিয়ে লাঠিচার্জ করবে, তখন আপনার যতটা খারাপ লাগবে, ঠিক অন্য কোন মায়ের সন্তানকে ধরে নিয়ে গেলে সেই মায়ের ততটাই খারাপ লাগবে। আপনারা যদি দেশটাকে এতটাই ভালবাসেন তাহলে দেশের এই ধ্বংসলীলায় মেতে না উঠে দেশের হয়ে কাজ করুন। আমরা সরকার পতনের নামে দেশের মধ্যে অশান্তি চাই না। মিস ঝর্ণা আক্তার স্নাতক, বি.এস.এস. দেবীগঞ্জ কলেজ, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়। ০০০০০০০০০ বিএনপির রোগাক্রান্ত আন্দোলনে আওয়ামী লীগের কিছুই হবে না বিরোধী দল ঈদের পর পরই আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। কিন্তু কে করবে আন্দোলন? বলিষ্ঠ কণ্ঠের নেতাদের নামে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা চলছে। তাদের চোখে ভাসে জেলখানা আর কানে হাতকড়ার আওয়াজ আসে। তারা অকারণের আন্দোলনে বেশি নড়বে তো মরবে। এবার ছাত্রদল-শিবিরের কথাই বলি, তারা যে ধরনের মারদাঙ্গা আন্দোলন বিগত দিনে করেছে তার সঠিক জবাব তো ছাত্রলীগ দিয়েছেই। পল্লব কুমার যশোর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, ডিপার্টমেন্ট ইলেকট্রিক্যাল, সপ্তম সেমিস্টার। ০০০০০০০০০০০ সরকার পতনের আন্দোলন নাকি জ্বালাও পোড়াও আন্দোলন দেশের মানুষ এখন আর আগের মত অজ্ঞ নয়। তারা সবাই বুঝে আপনারা ক্ষমতার জন্য আন্দোলন করেন। দেশের উন্নতির জন্য নয়। আপনারা আমাদের সাধারণ মানুষের কথা মোটেও ভাবেন না, বিগত আন্দোলনেও অনেক জ্বালাও-পোড়াও করছেন। অনেক অসহায় মায়ের বুক খালি করছেন আর কত! কই ঐ আন্দোলনে তো বড় কোন রাজনৈতিক লোক, বা তার ছেলে-মেয়ে পুড়ে যাইনি, মারা যায়নি। মারা গেছে আমাদের মত অসহায় অনেকগুলো মানুষ। আপনারা শুধু টিভির পর্দায় অথবা পত্রিকায় হেডিংগুলো দেখছেন, আর দূর থেকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। আপনারা আন্দোলনের নামে দেশের কোটি কোটি টাকা নষ্ট করছেন। আমি দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আপনাদেরকে বলবো- আপনারা জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন না করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করুন। তাতে দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবেন। এম ইসলাম সোহেল অর্নাস, ২য় বর্ষ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, তিতুমীর সরকারি কলেজ। ০০০০০০০০০০০ দেশের জন্য কাজ করতে হবে বর্তমান বিরোধী দল তথা বিএনপি আন্দোলনের যে ডাক দিয়েছে তা কতটা সার্থক হবে জনগণ নির্ধারণ করবে। অতএব বর্তমান সরকার অবশ্যই বিরোধী দলের প্রতি সহানুভূতি দেখাবে এমনটা অনেকেই আশা করে। মিটিং মিছিল এগুলো রাজনৈতিক অধিকার। এ অধিকার যেন কেউ নষ্ট না করে সেদিকে সবার নজর দিতে হবে। প্রয়োজনে দেশের মানুষের জন্য উভয় রাজনৈতিক দলকে ছাড় দিতে হবে। একটা কথা বলা প্রয়োজন যে, আজ যে সরকারি দল একসময় সেটি থাকবে বিরোধী দল হিসেবে। আকাশ আহমেদ জারসা অর্নাস, সমাজ বিজ্ঞান, ৩২১০, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ), কুষ্টিয়া।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন