পশ্চিমের বিরুদ্ধে রাশিয়ার পাল্টা ব্যবস্থার তাত্পর্য

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০১৪, ২১:৪০
ইউক্রেন লইয়া পশ্চিমা দুনিয়ার সহিত রাশিয়ার বিবাদ আরো একপ্রস্থ গভীর হইয়াছে। বৃহস্পতিবার দেশটি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র হইতে খাদ্য ও কৃষিজাত সামগ্রী আমদানি বন্ধ করিবার ঘোষণা দিয়াছে। ইউক্রেনের ক্রিমিয়া দখল করিয়া লইবার অভিযোগ করিয়া পশ্চিমা বিশ্ব কর্তৃক রাশিয়ার বিরুদ্ধে নানাবিধ ব্যবস্থা গ্রহণের পাল্টা ব্যবস্থা হিসাবে এই ঘোষণা আসিয়াছে। রাশিয়া জানাইয়াছে যে, এখন হইতে আগামী এক বত্সর ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নরওয়ে হইতে মাংস, ফল-ফলাদি, সবজি ও দুগ্ধজাত কোন খাবার আমদানি করা হইবে না। হিসাবমতে, রাশিয়া বত্সরে ৪৩ বিলিয়ন ডলারের খাদ্য আমদানি করিয়া থাকে। ইহার মধ্যে ইউরোপ ও আমেরিকা হইতে আমদানির পরিমাণ ৩০ বিলিয়ন ডলার। তাহা হইলেও বিশ্লেষকরা মনে করিতেছেন যে, সর্বশেষ এই ঘোষণার ফলে আমেরিকা ও পশ্চিমা বিশ্বের অর্থনীতিতে বিরাট কোনো চাপ পড়িবে—এমনটি বলিবার সুযোগ নাই। তবে ইহার ফলে ইউক্রেনকে কেন্দ্র করিয়া রাশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে বিরাজমান সঙ্কট ঘনীভূত হইবে। স্মর্তব্য, ক্রিমিয়া দখলে লইবার অভিযোগে প্রাথমিকভাবে ক্রেমলিন ও ক্রিমিয়ার কিছু শীর্ষ কর্তা ও তাহাদের সহিত সংশ্লিষ্ট কিছু কোম্পানির সম্পদ জব্দ করে পশ্চিমা বিশ্ব। গত সপ্তাহে পরিসর বাড়াইয়া কয়েকটি রাষ্ট্রীয় ব্যাঙ্কের অর্থায়ন, অনেকগুলি অস্ত্র ও জ্বালানি খাতের প্রযুক্তি বিষয়ক চুক্তি অবরোধের আওতাভুক্ত করা হয়। ধারণা করা হইতেছে যে, সর্বশেষ ঘোষণাগুলি আসিবার পরেই পাল্টা-ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত লইবার দিকে ঝুঁকিয়া পড়ে রাশিয়া। দেশটির দাবিমতে, পশ্চিমা বিশ্বের গৃহীত পদক্ষেপগুলি পাল্টা-ব্যবস্থা গ্রহণকে অপরিহার্য করিয়া তুলিয়াছে। এখানেই শেষ নহে। পশ্চিমা বিশ্বের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকিলে সামনের দিনগুলিতে কেবল খাদ্য ও কৃষিপণ্য নহে বরং রুশ ভূখণ্ডের উপর দিয়া ইউরোপিয় ও মার্কিন বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়েও সক্রিয় চিন্তা-ভাবনা করিতেছে মস্কো। ইহাছাড়াও পশ্চিমা বিমানগুলির চলাচলের জন্য উন্মুক্ত আকাশসীমার পরিবর্তে সীমিত করিডোর ব্যবস্থা চালু করিবার সম্ভাবনার কথাও জানানো হইয়াছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ হইতে উড়াল দেয়া বিমানগুলিকে এশিয়া যাইবার জন্য রাশিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার করিতে হয়। উল্লেখ্য, স্নায়ুযুদ্ধের আমলে পশ্চিমা বিমানের সোভিয়েত আকাশসীমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। কোন সন্দেহ নাই যে পৃথিবীর ব্যস্ততম আকাশ-পথটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন করিয়া নিষেধাজ্ঞা জারি হইলে তাহা আকাশ ভ্রমণ ও পরিবহন ব্যয় বিপুলভাবে বাড়াইয়া তুলিবে যাহার প্রভাব কেবল পশ্চিম বিশ্ব নহে বরং বাকী বিশ্বের উপরেও পড়িবে। রাশিয়ার ঘোষণার পর পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয় ইউনিয়নের পক্ষ হইতে যেই ধরনের প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হইয়াছে তাহাতে বিরাজমান সঙ্কটের সমাধানের পথ প্রশস্ত হইবার কোন আলামত দেখা যাইতেছে না। উদাহরণস্বরূপ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন রাশিয়ার ঘোষণাটিকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্য-প্রণোদিত” হিসাবে সমালোচনা করিয়া নতুন করিয়া ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দিয়াছে। বুঝিতে অসুবিধা হয় না যে, উভয় পক্ষের মধ্যে এহেন পাল্টাপাল্টি চলিতে থাকিলে ইউক্রেনকে ঘিরিয়া উত্থিত সঙ্কটের সমাধান হইবে না। বরং এই দুইপক্ষের টানাপোড়েন বিশ্ব রাজনীতির অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে অধিক সঙ্কটের দিকে ঠেলিয়া দিবে। সন্দেহ নাই যে, বিশ্ব বর্তমানে দুই প্রধান শক্তির মহড়া দেখিবার মত অবস্থাতে কোনভাবেই নাই। কিন্তু পরাশক্তিরা বিশ্বশান্তির বিষয়ে আদৌ ভাবিতেছে কিনা তাহা স্পষ্ট নহে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন