ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বটে

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৪, ২১:৪৯
উন্নয়নশীল দেশের যে ক্ষেত্রটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হয় বলিয়া বিশেষজ্ঞগণ মত দেন, তাহা হইল শিক্ষা। বোধগম্য কারণেই বিশেষায়িত শিক্ষাও সবিশেষ গুরুত্ব পাইবার দাবি রাখে। আমাদের দেশেও দৃশ্যত শিক্ষাখাত যথেষ্ট গুরুত্ব পাইয়া আসিতেছে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি সবধরনের শিক্ষার প্রসার ঘটিয়াছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও অনেকগুণে বৃদ্ধি পাইয়াছে। ইহা মুদ্রার এক পিঠের চিত্র। অন্যপিঠে যে ছবিটি পাওয়া যায় তাহা বাস্তবিকই নৈরাশ্যকর। ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজটি কিন্তু তারই সাক্ষ্য বহন করে। এই সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজটির কার্যক্রম শুরু করে ২০০৯ সালে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও নির্মিত হয় তখনই। সরবরাহ করা হয় শিক্ষা উপকরণও। শিক্ষার্থীও আছেন প্রায় তিনশত। নাই কেবল কোনো শিক্ষক। শুরু হইতেই ডেপুটেশনে আনা শিক্ষক দিয়া শিক্ষা কার্যক্রম চালাইয়া নেওয়া হইতেছে। এই কলেজের প্রিন্সিপাল মহোদয়ও অতিথি। পাশের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজেরও দায়িত্ব পালন করিয়া যাইতেছেন। শিক্ষা সহায়ক সাধারণ জনবল নিয়োগ—তাহাও সম্পন্ন হয় নাই। অনিয়ম এবং উদাসীনতার এর চাইতে বড় কোনো দৃষ্টান্ত খুঁজিয়া বাহির করিবার আর কোনো প্রয়োজন আছে বলিয়া মনে হয় না। এমতাবস্থায় যাহা হইবার তাহাই হইতেছে। প্রতি বত্সর এই শিক্ষকবিহীন প্রতিষ্ঠান হইতে অর্ধশতাধিক ‘প্রকৌশলী’ বাহির হইতেছেন। এই কলেজ হইতে যাহারা পাস করিয়া বাহির হইতেছেন তাহাদের জ্ঞান ও দক্ষতা লইয়া প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়। শিক্ষকবিহীন এই প্রতিষ্ঠানটি কী করিয়া অন্য প্রতিষ্ঠানের জনবল লইয়া চলিতে পারিতেছে, সে এক বিরাট প্রশ্ন। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষকশূন্যতার এই খবর উচ্চ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরই অজানা থাকিবার কথা নয়। নাকি জানিয়াও তাহারা নির্বিকার? এই বিষয়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কী কোনো যৌক্তিক উত্তর রহিয়াছে? নানান কারণে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে শিক্ষকের সঙ্কট রহিয়াছে-একথা অজানা নহে। কিন্তু শিক্ষকের সংখ্যা শূন্যের কোঠায় থাকিবার মত পরিস্থিতি সত্যিই বিস্ময়কর। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনরকম সমস্যা যদি থাকিয়াই থাকে, তাহা হইলে কলেজটি স্থাপন করিবার কী প্রয়োজন ছিল? কেনই বা বহু কোটি টাকা ব্যয়ে অবকাঠামো নির্মাণ করা হইল? কয়েকটি বিভাগ লইয়া শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হইলেও দীর্ঘকালীন শিক্ষক শূন্যতায় তাহাতে বিরতি কিংবা যথাযথ ব্যবস্থাও গৃহীত হয় নাই। সাংবাত্সরিক কয়েকশত শিক্ষার্থীর জীবন লইয়া এহেন ছেলেখেলা করিবার কোনো অধিকার কি কাহারও রহিয়াছে? যাহারা সঠিক শিক্ষা হইতে বঞ্চিত হইয়া কোনরকমে একটি সনদ লইয়া বাহির হইতেছেন, তাহাদেরই বা কী হইবে। উদ্বেগের এইখানেই শেষ নহে, এই অমার্জনীয় ঔদাসীন্যের খবর কেবল তখনই জানা গিয়াছে যখন বঞ্চিত ও ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থিগণ দীর্ঘ অপেক্ষার পর নয় দফা দাবিতে আন্দোলনে নামিয়াছেন। এতদিন যাবত্ প্রতিষ্ঠানটির বেহাল দশা কাহারও দৃষ্টিগোচর হয় নাই? সে যাহাই হউক, এখন আমাদের বলিবার কথা এই যে, যত দ্রুত সম্ভব ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষকশূন্যতার অবসান করিতে হইবে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লইয়া এইরূপ খামখেয়ালিপনা গ্রহণযোগ্য হইতে পারে না।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন