মানুষ পরিবর্তনে ভয় পায়। সব সময় একটা স্টেরিওটাইপ বা একঘেয়ে চিন্তা করেই সে অভ্যস্ত। ছেলেবেলা থেকে সে যা দেখেছে, তা-ই বিশ্বাস করতে চায়; যা করেছে, তা-ই করতে চায়। ফলে যখন কেউ পরিবর্তনের সম্ভাবনা বা ধারণা নিয়ে হাজির হয়, তাকে সে হুমকি মনে করে। অধিকাংশ মানুষই এটা ভেবে আত্মতৃপ্তি পায়, সে যা জানে এবং বোঝে তা-ই সঠিক। ফলে কেউ যখন তার জানা-বোঝা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বা কোনো ধরনের পরিবর্তনের কথা বলে, তখন সে এটাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে গণ্য করে।
এর একটি রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় ধারাবাহিকতা আছে।
একটা দেশের জাতীয় রাজনীতির যে চরিত্র তা ওই দেশের মানুষের মনোজগতে প্রভাব ফেলবেই। যেমন আমাদের রাজনীতির প্রধান চরিত্র ইনটলারেন্স বা অসহনশীলতা।তা যেকোনো দলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। বিরুদ্ধ মত সহ্য করার ক্ষমতা সম্ভবত আমাদের কোনো রাজনৈতিক দলের মধ্যেই নেই। আমাদের মানুষের মধ্যেও এই চূড়ান্ত অসহনশীলতা লক্ষ্যণীয়। ফলে কেউ যখন পরিবর্তনের কথা বলে, মানুষ তা সহ্য করতে চায় না। সে ভাবে, এই পরিবর্তন তার জীবন ও কর্মকে হুমকির মুখে ফেলবে।
দ্বিতীয়ত ধর্ম।আমরা শৈশব থেকেই এটা দেখে অভ্যস্ত যে ধর্ম—সে যাই হোক না কেন—কোনো ধরনের সমালোচনা সহ্য করে না। আপনি গঠনমূলক সমালোচনা করতে চাইলে বা ধর্মের কোনো বিষয় নিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক তর্কে লিপ্ত হতে চাইলে, একটা পক্ষ আপনাকে মৌলবাদী বলবে, আরেকটা পক্ষ বলবে নাস্তিক। যেন মাঝামাঝি কোনো অবস্থান নেই।এটাও আমাদের অসহনশীলতারই একটা রূপ।
‘ধর্ম সমালোচনা সহ্য করে না’- এই কথাটি নিয়েও যদি এখন তর্ক শুরু হয়, আমাকেও হয়তো সেই অসহনশীলতারই শিকার হতে হবে। আমরা শৈশব থেকে আরেকটা জিনিস দেখে অভ্যস্ত। তা হলো, শিশু যখন কোনো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করে, বাবা মা বলেন,‘চুপ কর…’। বাবা মা একই ধরনের প্রশ্ন একাধিকবার শুনলেই সন্তানের ওপর বিরক্ত হন। ফলে ধমক দিয়ে থামিয়ে দেয়ার যে ‘সংস্কৃতি’ সে শৈশব থেকে দেখে অভ্যস্ত, বড় হয়ে সে সেই একই কাজ করে। অর্থা? কেউ প্রশ্ন করলেই সেও বলে, ‘চুপ কর…’। মানুষ আসলে কোনো ধরনের পরিবর্তন সহ্য করতে চায় না। কারণ যে-কোনো পরির্তনের আগে দরকার সংশ্লিষ্ট বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ করা। কিন্তু কেউই এটা পছন্দ করে না যে কেউ তাকে চ্যালেঞ্জ করুক।
লেখক :সাংবাদিক
