কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ধরলা নদীর তীব্র ভাঙ্গনে ভিটামাটি হারিয়ে শত শত পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। গত এক মাসে ধরলার ভাঙ্গনে নদীর নিকটবর্তী ৮টি গ্রামের শত শত বিঘা আবাদি জমি, সুপাড়ি বাগান, বাঁশঝাড়, বসতভিটা, কাঁচাপাকা রাস্তা, মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নিঃস্ব হয়ে পড়েছে ১৫০টি পরিবার। ধরলা নদীর ভাঙ্গনে যতীন্দ্র নারায়ণ, কিশামত শিমুলবাড়ী, কান্দা পাড়া, পেচাই, পশ্চিম ধনিরাম, চরবড়লই, মরানদী, সরকারটারী, সোনাইকাজী, রামপ্রসাদ, চড়গোরকমন্ডল, ওপারের কুলাঘাট ইউনিয়নের চরশিবেরকুটি ও বোয়ালমারী গ্রামের প্রায় আড়াইশ’ মানুষজন সর্বস্ব হারিয়ে ওয়াবদা বাঁধ কিংবা রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। দিনে বেশকিছু বসত ভিটা নদী গিলে খাওয়ায় অনেকেই আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। ধরলার পশ্চিম পাড়ের ফুলবাড়ী-লালমনি পাঁকা সড়কটির ২ কি.মি. পর্যন্ত ধরলার গর্ভে চলে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
শিমুলবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান শরিফুল আলম মিয়া সোহেল জানান, ধরলার ভাঙ্গনে এ বছর যতিন্দ্র নারায়ণ গ্রামেরই ২০টি পরিবারের ভিটেমাটি নদীতে চলে গেছে। ভাঙ্গন কবলিত অসহায় এ পরিবারগুলোকে চাল ডালসহ সামান্য সাহায্য দেয়া হলেও তাদের স্থায়ী পুনর্বাসন সম্ভব হয় নাই।
ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নজির হোসেন জানান, নদী ভাঙ্গনের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবগত করা হয়েছে । সরকারি উদ্যোগ ছাড়া স্থানীয়ভাবে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।
কুড়িগ্রাম ও লালমনিহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড দায়িত্বরত নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তাহের বলেন, ভাঙ্গন রোধের জন্য চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন কিন্তু বরাদ্দ না থাকায় ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
