নতুন যুগান্তর :ছাপার বই থেকে ই-বুক

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৪, ২০:৪৩
যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছাপার বই ই-বুকে রূপান্তর হয়ে যাচ্ছে। এমন কী পাঠ্যবইও ডিজিটাল আকারে পরিবর্তিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়। সভ্যতার ইতিহাসে মুদ্রণযন্ত্রের আবিষ্কার এক যুগান্তকারী ঘটনা। যেই যুগান্ত এখন অন্য যুগান্তের মুখোমুখি। এই মুদ্রণযন্ত্রই জ্ঞানের ভাণ্ডারকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিল এক সময়ে। মানুষের শিক্ষা-সংস্কৃতির এই উন্নতির অনেকাংশ জুড়েই রয়েছে ছাপা বইয়ের ভূমিকা। কিন্তু নতুন যুগে মেহগনির তাক জুড়ে শত হাজার গ্রন্থ এবার হয়ত আস্তে আস্তে জাদুঘরের সামগ্রী হয়ে উঠবে। কারণ, ডিজিটাল বা ই-বুক ছাপা বইয়ের জায়গা দখল অনিবার্য ঘটনা। ভারতীয় উপমহাদেশে মুদ্রণযন্ত্র আসে ষোড়শ শতাব্দীতে, পর্তুগিজ মিশনারিদের হাত ধরে। পরে আস্তে আস্তে তা গোটা ভারতেই ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমদিকে শুধু ধর্মপুস্তক ছাপা হত, পরে অন্যান্য বিষয়ের সব ধরনের বইপত্রই ছাপা আরম্ভ হয়। পরবর্তী সময়ে মুদ্রিত গ্রন্থ, পুস্তক, পত্র-পত্রিকাই হয়ে ওঠে শিক্ষা বিস্তারের প্রধান হাতিয়ার। ধর্মপুস্তক, পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি বিনোদনের সামগ্রী হিসেবেও গ্রন্থের চাহিদা বাড়তে থাকে। শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বইপত্রের চাহিদাও বাড়তে থাকে সমান তালে। শিক্ষিত সমাজে বইপত্রের চাহিদা ক্রমবর্ধমান, তবে এখন তার উপাদানের ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে। পাশ্চাত্য দেশগুলিতে অনেক দিন আগে থেকেই ছাপা বই-কাগজের জায়গা ডিজিটাল বই দখল করে নিতে শুরু করেছিল। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলি দেরিতে হলেও সে পদ্ধতি গ্রহণ করেছে প্রয়োজনের তাগিদেই। ছাপা বই হাতে নিয়ে পড়ার একটা আলাদা অনুভূতি আছে ঠিকই। আমরা তাতে অভ্যস্ত হয়ে আছি দীর্ঘকাল। তবু এই পরিবর্তন স্বাগত। শুধু সময় বাঁচানোই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবেশের প্রশ্নটিও। বই ছাপার কাগজ তৈরি হয় গাছ থেকে। ই-বুক ক্রমে ছাপা বইয়ের স্থান দখল করলে কাগজের ব্যবহার কমবে, সেই সূত্রে কমবে গাছ কাটার পরিমাণও। ই-বুকের আরও একটি সুবিধা হল এর প্রচার সংখ্যা। পাঠ্যপুস্তক বা হাতে গোনা কিছু বিশেষ বই ছাড়া অন্যান্য বেশিরভাগ বই-ই ছাপা হয় সীমিত সংখ্যায়। ই-বুকে সে সমস্যা নেই। ওয়েবসাইটে রাখা একটি বই পড়তে পারেন লক্ষ লক্ষ পাঠক। সেদিক থেকে বিচার করলে গ্রন্থপত্রিকার ডিজিটাল সংস্করণ তার পাঠকবৃদ্ধিরও সহায়ক বললেও অত্যুক্তি হবে না। —অরণ্য আহমেদ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন