বিএনপির উচিত দেশের উন্নয়নের দিকে তাকিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করা
দেশে এই মুহূর্তে এমন কোন অবস্থার সৃষ্টি হয়নি যে আন্দোলন করে সরকার পতন করতে হবে। দেশের উন্নয়ন যেহেতু ত্বরান্বিত হচ্ছে, দারিদ্র্যের সীমা হ্রাস পাচ্ছে, শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে, যোগাযোগ ব্যবস্থার দেখার মত অগ্রগতি হচ্ছে। এমন অবস্থায় দেশের জনপ্রিয় একটি দল হিসেবে বিএনপির উচিত দেশের উন্নয়নের দিকে তাকিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করা। একই সাথে সরকার যদি কোন ক্ষেত্রে দুর্নীতির আশ্রয় নেয় তা জনগণের মাঝে তুলে ধরুন। সরকার কোন ক্ষেত্রে ব্যার্থ হলে,জনগণই তদের ক্ষমতা থেকে নামানোর চেষ্টা করবে। তখন আপনারা শুধু চালিকাশক্তির ভূমিকা পালন করবেন।
সফিউল আলম প্রধান
অনার্স ১ম বর্ষ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
বিএনপির ইস্যুবিহীন সরকার পতন আন্দোলনে জনগণ সমর্থন দেবে না
প্রত্যেক আন্দোলনের একটি ইস্যু থাকে। যেমন ’৫২-র ভাষা আন্দোলন রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে এবং ’৭১-র মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার দাবিতে এই আন্দোলনগুলোতে কৃষক শ্রমিক জনতা সকলেই অংশগ্রহণ করেছিল। বিএনপি সরকার পতন আন্দোলনে বর্তমানে তেমন কোন ইস্যু নেই তাই জনগণ এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করবে না। আর জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া কোন আন্দোলন সফল হওয়া সম্ভব নয়। বিএনপিকে ইস্যু খুঁজে বের করতে হবে এবং যাতে করে মানুষ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে, তা হলেই বিএনপি আন্দোলনে সফল হতে পারবে।
নাজমুল আহসান
এলএলবি প্রথম বর্ষ
টাংগাইল ল’ কলেজ, টাংগাইল
শান্তি-শৃংখলা রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব
দেশের চলমান বর্তমান অবস্থা এখন অনেকটা সন্তোষ-জনক। যে যার কাজ করে যেতে পারছে। কৃষক তার মালামাল নিয়ে বাজারে যেতে পারছে, শ্রমিক শিল্পে কাজ করতে যেতে পারছে, রিকশাচালক রাস্তায় যেতে পারছে। এখন চলমান রাজনৈতিক অবস্থা সন্তোষজনক বলে মনে হয়। তবে বিএনপি আন্দোলনের যে ডাক দিয়েছে তা কতটা জনসম্পৃক্ততা পাবে সেটা সময়ই বলে দিবে। বিএনপি যদি নিজের স্বার্থে আন্দোলন না করে যদি দেশের স্বার্থে আন্দোলন করে তবে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অতএব সরকারের বিরুদ্ধে নামার আগে তাদের সাংগঠনিক শক্তি মজবুত করতে হবে।
আকাশ আহমেদ জাতসা
অনার্স (সমমান) ২য় বর্ষ, সমাজবিজ্ঞান
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ), কুষ্টিয়া
দেশ ও জাতির উন্নয়নে বিএনপি আন্দোলন
করলে ফল পাবে
বিএনপির সরকার পতনের আন্দোলনে নেমে কোন উল্লেখযোগ্য বা তাত্পর্যমূলক কর্মসূচি ঘটায়নি। বা তাদের আন্দোলন জনগণের স্বার্থে, সমগ্র দেশ ও জাতির স্বার্থে ভূয়সী প্রশংসার দাবি রেখেছে এমন নজির বর্তমানে নেই। যেটা তারা ঘটিয়েছে তা হলো—দিনের পর দিন অগ্নিসংযোগ, অর্থনৈতিক চাকাকে বিকলাঙ্গ, ছাত্র-শিক্ষক, সুশীল সমাজ ও আপামর জনসাধারণের স্বপ্ন, আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধূলিসাত্ ইত্যাদি।
হাসিনা সাঈদ (মুক্তা)
লালমাটিয়া মহিলা কলেজ,
মত্স্যবিদ্যা বিভাগ, সদ্য উত্তীর্ণ ও বর্তমানে
বিভিন্ন প্রতিযোগিতা-মূলক, পরীক্ষার পরীক্ষার্থী
আন্দোলন যেন সাধারণ মানুষের প্রাণ কেড়ে
নেয়ার আন্দোলন না হয়
আন্দোলন কিছুদিন আগে আমরা দেখেছি। যেখানে মানুষের জীবনের কোন নিরাপত্তা ছিল না। আন্দোলন মানেই হরতাল, অবরোধ, পেট্রোল বোমা— যারা নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। অনেকে এটাকে সার্থক আন্দোলন মনে করেন। আবার আন্দোলন যদি শান্তিপূর্ণভাবে করা হয় তবে সরকারি দলের বিশিষ্টজনেরা বলেন- আন্দোলন কিংবা হরতাল সার্থক হয়নি তারা প্রতিহত করেছে। এভাবে একটা দেশকে ভাল রাখা যায় না। আন্দোলন করে এর আগে কিছু হয়নি, এবারো হবে বলে মনে হয় না। সবাইকে কিছু ছাড় দেয়ার মনোভাব নিয়ে আলোচনা করা উচিত।
আফিফী আক্তার (ঈশিতা)
ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট
কম্পিউটার বিভাগ
সহিংস আন্দোলন কখনোই গণতন্ত্রের চর্চা হতে পারে না
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপিকে সফল আন্দোলন করতে হলে, তাদের জনসমর্থনের পাশাপাশি যেটা খুব দরকার, সেটা হল সাহসী এবং যোগ্য নেতা। বিএনপিতে সাহসী নেতার বড়ই অভাব। তাদের মধ্যে সাংগঠনিক ঐক্য প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। ভাড়া করা লোক দিয়ে বা ইট-পাথরের চার দেয়ালের ভিতর বসে আন্দোলন হয় না। এভাবে যদি বিএনপি আবারও আন্দোলনে নামে তাহলে সফলতা তো দূরের কথা, রাজনৈতিক বিষবাষ্পের অতল গর্ভে হারিয়ে যাবে তারা। তবে আন্দোলন হতে হবে অবশ্য অবশ্যই অহিংস। কেননা সহিংস আন্দোলন কখনোই গণতন্ত্রের চর্চা হতে পারে না। গণতন্ত্র কখনোই তপ্ত বুলেটের রক্তস্রোত সমর্থন করে না। তবে এক্ষেত্রে প্রত্যেক রাজনৈতিক দলকে অবশ্যই গণতন্ত্রমুখী হতে হবে। জয় হোক মানবতার, সমৃদ্ধি হোক বাংলাদেশ।
আশিকুর রহমান
কৃষি অনুষদ, লেভেল-০৩, সেমিস্টার-০২
পটুয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
