আলোকপাত

নতুন ভবন হেলে পড়ছে :ভূমিকম্প হলে কী হবে?

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৪, ২১:০৯
দেশে ভবন ধসের ঘটনা বেড়েই চলছে। একটি ভবন আরেকটির গায়ে হেলে পড়ছে। ধসে পড়ছে ভবন। ভবনের দেয়ালে। মেঝেতে ফাটল দেখা দিচ্ছে। ইতোপূর্বে ভবন ধসে বহু হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। এর বড় উদাহরণ হচ্ছে সাভারের রানা প্লাজা, রাজধানীর বেগুনবাড়ী ও পূর্ব নাখালপাড়ার ভবন ধস। সর্বশেষ ১২ আগস্ট ভোরে পুরান ঢাকার বংশালের ৯৯/১ সিদ্দিকবাজারে চারতলা একটি ভবনে ফাটল দেখা দেয় এবং হেলে পড়ে। এ খবর পেয়ে পুলিশ এসে দ্রুত ভবন থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে দেন। ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ঐ ভবনটিতে ফাটল দেখা দেয়ার পর পাশের আরো দুটি টিনশেড ঘরেও ফাটল দেখা দেয়। ঐ ৩টি ভবন সিলগালা করে দিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এর আগে ২৭ মে, ২০১৪তে রাজধানীর কল্যাণপুরে হেলে পড়ে মিজান টাওয়ার। এভাবে কোন প্রকার ভূমিকম্প ছাড়াই দেশের বিভিন্ন স্থানে ভবন হেলে পড়ছে; ধসে পড়ছে। সমপ্রতি কালে এ প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ ব্যাপক নির্মাণ ত্রুটি নিয়ে দেশে অসংখ্য বাড়ি-ঘর নির্মাণ করা হয়েছে এবং হচ্ছে। আছে জরাজীর্ণ ভবন। ভূমিকম্পজনিত কোন কারণ ছাড়াই যখন এসব ভবন হেলে পড়ে তখন প্রশ্ন, ভূমিকম্প হলে কী হবে? ধসেপড়া রানা প্লাজার মতো ছোট একটি ভবনের পেছনে উদ্ধার কাজে দেশের গোটা শক্তি প্রয়োগের পরও কতটা সময় লেগেছে তা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। উদ্ধার কাজ বিলম্ব হওয়ায় সে সময় দেশবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভও লক্ষ্য করা গেছে। রানা প্লাজার মতো একটি ভবন ধসের ঘটনায় ক’জন জীবিত আর ক’জনের লাশ উদ্ধার করা গেছে তা তো দেশবাসী জানেন। বহুজন এখনও নিখোঁজ। তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা অনুমান করা যায়। এই যখন অবস্থা ভূমিকম্প হলে কী হবে দেশে? কে কাকে বাঁচাবে? কে কার খবর নেবে? তখনতো ধসবে ৫ লাখেরও বেশি ভবন। ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হলে পুরো দেশে প্রায় ৫ লাখ ভবন ধসে পড়বে! আমাদের ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা তো তাই বলছেন। বাংলাদেশে ভূমিকম্প হলে কী হবে তা সহজেই অনুমেয়। এ দেশ মারাত্মক ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হলেও তাতে ভাবনা নেই কারোরই। সরকারও এ ব্যাপারে সজাগ নয়। এখনও দেশে প্রতিদিন অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মিত হচ্ছে। কেবল ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ভবন নির্মাণই নয় ভবনগুলোতে যেসব সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে তা খুবই নিম্নমানের। দেশে নির্মাণ কাজে প্রতিদিন যে পরিমাণ রড ব্যবহার করা হয় তার ৭০ ভাগই অতি নিম্নমানের। এর মধ্যে ১৫/২০ গ্রেডের রডও রয়েছে। ভবন তৈরির ক্ষেত্রে ভেজাল সিমেন্ট, দুর্বল ইট ব্যবহার হচ্ছে হরহামেশাই। জাপানে ঘনঘনই ভূমিকম্প হয়। তারা তা মোকাবিলাও করে। ভূমিকম্প হলে তারা এই অবস্থা থেকে দুই একদিনে বেরিয়ে আসতে পারে। জাপানের ভবনগুলো সেভাবেই নির্মাণ করা হয়। জাপানে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ভবন দোলে কিন্তু ভবন ধসে পড়বে না। আমাদের ভবনগুলো যদি জাপানের মতো করে বানানো হয় তাহলে বোধহয় এই অবস্থা থেকে আমরা কিছুটা হলেও বাঁচতে পারি। কিন্তু এখনও সেভাবে ভাবছে না জনগণ। কেউ এ ব্যাপারে সরকারের কোন পরিকল্পনা কিংবা প্রচার প্রচারণাও চোখে পড়ছে না। তাই সয়েল টেস্ট, ভালভাবে জলাশয় ভরাট, সঠিকভাবে পাইলিং, মানসম্মত উপকরণ ইত্যাদি ব্যাপারে আমাদের অধিক সতর্ক হওয়া দরকার। লেখক :সাংবাদিক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন