শিক্ষা পরামর্শ

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৪, ২০:৩২
রোকেয়া আক্তার বেগম অধ্যক্ষ, গ্রীন ফিল্ড স্কুল এন্ড কলেজ, মিরপুর প্রাক্তন অধ্যক্ষ, ভিকারুননিসাা নূন স্কুল এন্ড কলেজ প্রিয় ছাত্র/ছাত্রীবৃন্দ আমার শুভেচ্ছা নিও, স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে তোমরা এখন কলেজের গন্ডিতে পা দিয়েছ, ছোট পরিসর হতে একটু বৃহত্ পরিসরে প্রবেশ করতে যাচ্ছো। তোমাদের নতুন এই পথচলা সুন্দর এবং মসৃণ হোক এই শুভ কামনা করছি। পূর্বের ভুলগুলো সংশোধন করে তোমরা আরো বেশী সফলতা বয়ে আনবে এমন আশা যেমন তোমাদের আছে একই রকম প্রত্যাশা আমাদের সকলের। তোমাদের শিক্ষাজীবন আরো বেশী সাফল্যময় করার জন্য কিছু পরামর্শ দেয়া হলো যা তোমরা মেনে চলবে। প্রথম থেকেই নিয়মিত কলেজে উপস্থিত থাকবে এবং বিষয়ভিত্তিক সকল শিক্ষকদের পরামর্শ খাতা কিংবা ডাইরিতে নোট করে রাখবে। ক্যাম্পাসে অযথা আড্ডাবাজি করে সময় নষ্ট না করে অবসর সময়ে দলগত পড়াশুনার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকবে এতে কঠিন বিষয়গুলো পরস্পর আলোচনার মধ্য দিয়ে সহজ হয়ে যাবে। অযথা কোচিং সেন্টারের দিকে না দৌড়ে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের একাধিক লেখকের বইয়ের সমন্বয়ে নোট তৈরী করে পড়াশুনা করার কাজে বেশী মনোযোগী হবে। প্রয়োজনে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে বিষয়ভিক্তিক শিক্ষকদের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। শিক্ষকরা কলেজে যে বিষয়গুলো আলোচনা করবেন বাসায় সে বিষয়গুলোর উপর একাকিত্বে সময় দিবে। বাসায় নিজে নিজে পড়তে গিয়ে কোন সমস্যায় পড়লে পরের দিন কলেজে গিয়ে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের সহায়তা নিবে। মনে রাখবে শিক্ষকরা সবসময় ছাত্র/ ছাত্রীদের মঙ্গল কামনা করে তাই শিক্ষককে অযথা ভয় না পেয়ে তোমাদের সমস্যাগুলো তাদের সাথে শেয়ার করে সমাধানের পথ খুঁজে নিবে। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের সময় খুবই অল্প সময় হওয়ায় প্রথম থেকেই সময়ের দিকে খেয়াল রেখে পড়াশুনার প্রতি মনোযোগী হতে হবে। লেখাপড়ার পাশাপাশি সুস্থ এবং আদর্শবান নাগরিক হিসাবে নিজেকে গড়ে তুলবে, যা তোমাদের জন্য অমঙ্গল সে বিষয়গুলো সম্পর্কে তোমরা সজাগ থাকবে এবং সে কাজগুলো করা থেকে বিরত থাকবে। অভিভাবকদের প্রতি আমার একটি বিশেষ পরামর্শ আপনাদের সন্তানদের সাথে আপনারা বন্ধুর মত আচরণ করবেন এবং আপনার সন্তান কোথায় যাচ্ছে কার সাথে চলাফেরা করছে তার খবর রাখবেন। প্রয়োজন না হলে অযথা মোবাইল ব্যবহার করতে দিবেন না। কারণ আপনাদের সন্তানরা এখনও ভালো খারাপ বুঝতে শিখেনি তাই সবসময় সন্তানদের আপনাদের তত্ত্বাবধানে রাখার চেষ্টা করবেন। আপনার সন্তানকে পারিবারিক বন্ধনের মধ্যে রেখে লেখাপড়ার পাশাপাশি সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করে আপনার সন্তানকে একজন ভালো মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার জন্য আপনাদের ভূমিকাও অনস্বীকার্য।