বন্যা পরবর্তী কৃষি পুনর্বাসন

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৪, ২১:১৪
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়াছে। ভারী বর্ষণ ও উজান হইতে নামিয়া আসা পানি এই বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করিয়াছে। বন্যায় নানামাত্রিক ক্ষতি সাধিত হইলেও কৃষি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয় সবচাইতে বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাটের সংস্কারকর্ম বন্যার পানি নামিয়া যাইবার পরই শুরু করা হয় যাহা সারা বত্সরই চলিতে থাকে। কিন্তু বন্যায় শত শত একর ফসলী জমি প্লাবিত হওয়ায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য পুনর্বাসন কার্যক্রম হাতে নেওয়া জরুরি। দেশের অর্থনীতিতে কৃষির যে অবদান তাহা অন্য যেকোনো খাতের তুলনায় অধিক স্থিতিশীল। কাজেই বন্যা কবলিত অঞ্চলে কৃষি পুনর্বাসনের ব্যাপারটিকে অধিক গুরুত্ব প্রদান করা অত্যাবশ্যকীয়। এই বত্সরও বাড়ন্ত আমন ধানের অনেক খেত বন্যার পানিতে ডুবিয়া গিয়াছে। ফলে ধান উত্পাদনের এইবারের যে লক্ষ্যমাত্রা তাহা পূরণ হওয়া কঠিন। বিগত কয়েক বত্সরে ধান-চালের মওজুদে যে স্বয়ংসমপূর্ণতা আসিয়াছে এই বত্সর তাহা ধরিয়া রাখাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়িতে পারে। প্লাবিত অঞ্চলগুলিতে চলতি বত্সরই নূতন করিয়া ধান আবাদের জন্য প্রয়োজন ধানের চারা। বন্যায় প্লাবিত হয় নাই এইরকম উঁচু জায়গায় আমনের বীজতলা তৈরি করিয়া উত্পাদিত চারা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বিতরণের বাবস্থা করা হইলে আমন উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া সম্ভব। বন্যার পানি নামিয়া যাইবার পর পরই কৃষকদের মধ্যে স্বল্পমূল্যে সার বিতরণের প্রস্তুতিও গ্রহণ করিতে হইবে এখনই। তবে লক্ষ্য রাখিতে হইবে, সার বিতরণে যেন কোনো অনিয়ম না ঘটে। কেননা সরকারি বা বাণিজ্যিকভাবে রাসায়নিক সারের সরবরাহ লইয়া প্রত্যেক বত্সরই কমবেশি অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। যথাসময়ে সার না পাওয়ার ফলে উত্পাদন ব্যাহত হয়। কৃষিক্ষেত্রে উত্পাদনশীলতা অব্যাহত রাখিতে প্রান্তিক চাষিদের এই সময় বিশেষ ব্যবস্থায় অল্প সুদে বা কতকক্ষেত্রে বিনা সুদে ঋণদানের ব্যবস্থা আখেরে দেশের সার্বিক কৃষি উত্পাদনের জন্যই মঙ্গলজনক। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি লইতে দেখা যায়। কিন্তু এই সহায়তা কর্মসূচির সুফল প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্বারে পৌঁছায় কিনা তাহাও এক বিরাট প্রশ্ন। দেখা যায়, কৃষির সহিত কোনোভাবেই জড়িত নন এমন অনেকেও সরকারি সহায়তার আওতাভুক্ত হইয়াছেন। কিন্তু নেহাত দরিদ্র কিংবা বন্যা প্লাবনে ক্ষতিগ্রস্ত এমন বহু কৃষক বত্সরের পর বত্সর কোনোপ্রকার সহায়তা পান নাই। এইসব ক্ষেত্রে অবশ্য কৃষি অধিদফতরের মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলিরই দায়িত্ব বেশি। সহায়তা দানের জন্য প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নির্বাচনের কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের গড়িমসি লক্ষ্য করা যায় যাহা মোটেও কাম্য নহে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদেরকে তাত্ক্ষণিকভাবে সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা বাঞ্ছনীয়। মনে রাখিতে হইবে, কৃষক বাঁচিলে আমাদের অর্থনীতিও বাঁচিবে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন