আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও করলে জনসমর্থন পাওয়া যাবে না
সম্প্রতি বিএনপির নেত্রী সরকার পতনের আন্দোলনের যে ডাক দিয়েছেন, তাতে নতুন করে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় তা বলা মুশকিল। গত বছরের সরকার বিরোধী আন্দোলনের যে ভয়াবহ রূপ আমরা লক্ষ্য করেছি, তা আবার ফিরে আসুক সেটা কোনভাবেই কাম্য নয়। বিএনপি নেত্রীকে অবশ্যই জনগণের কথা মাথায় রেখে কর্মসূচি দিতে হবে। আন্দোলনের নামে অহেতুক জ্বালাও-পোড়াও করলে জনসমর্থন বা আন্দোলনের সফলতা কোনটাই পাওয়া যাবে না। তার চেয়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচি দিয়ে ধীরে ধীরে বৃহত্? আন্দোলনের দিকে যাওয়াই বিএনপির জন্য অধিক সমীচীন হবে বলে আমি মনে করি।
জাহিদ হাসান,
মাষ্টার্সে অধ্যয়নরত,
বায়ো এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিপার্টমেন্ট,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর।
সরকার পতন নয়, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মানসিকতার পতন চাই
বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে এই দেশটাকে নিয়ে টানা-হেঁচড়া করছে স্বার্থান্বেষী একটি মহল। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে লুকিয়ে আছে। তারা দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করে গড়ে তুলছে বিশাল অট্টালিকা, প্রাসাদ আর অস্ত্র সমৃদ্ধ কেডার বাহিনী। যার দ্বারা প্রতিনিয়ত নির্যাতিত হচ্ছি আমরা সাধারণ মানুষ। তাই সরকার পতন নয় এমন মানসিকতা সম্পূর্ণ দল ও নেতার পতন চাই।
তাওহিদ আল-আশিক,
একাদশ শ্রেণি,
কম্পিউটার বিভাগ,
পাঁচবিবি কলেজ, জয়পুরহাট।
বিএনপিকে আন্দোলন করতে হলে জনগণকে
সঙ্গে নিয়েই করতে হবে
গণতন্ত্র মানে জনগণের শাসন। যে শাসন ব্যবস্থায় জনগণের পূর্ণ মূল্যায়ন থাকবে, জনগণের কথা ভাবে। গণতন্ত্রে জনগণের চাওয়াকে সর্বাগ্রে মূল্যায়ন করবে। সরকার হবে কেবল জনগণের প্রতিনিধি মাত্র। আর বিরোধী দল সরকারের দোষ-ত্রুটি ধরবে, সরকারের সমালোচনা করবে, যাতে সরকার স্বৈরাচারী হতে বিরত থাকে। এ প্রেক্ষিতে বলা যায় কোন দলই গণতন্ত্র ভাবাপন্ন নয়। গণতন্ত্রে ক্ষমতা লিপ্সা থাকলে চলবে না। উভয় দলকেই জনগণের চাওয়াকে গুরুত্ব দিতে হবে। ক্ষমতা লিপ্সা পরিত্যাগ করে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে হবে। এই অর্থে বিএনপি যদি সরকার পতন আন্দোলন করতে চায়, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে হবে। মানুষকে পুড়িয়ে মেরে আন্দোলন হয় না।
মো. হুমায়ুন কবির নাঈম,
নৃবিজ্ঞান বিভাগ,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
গণআন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাতে হবে
বিএনপি বাংলাদেশের প্রাচীন জন মানুষের একটি শক্তিশালী দল। শহীদ জিয়ার রক্ত দিয়ে গড়া এই প্রিয় দলটি। স্বাধীনতার পর থেকে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে চারবার দেশ পরিচালনা করেছিল শহীদ জিয়ার এই দলটি। কিন্তু বর্তমানে বিএনপি নামক এই বৃহত্ দলটি এই সময় পর্যন্ত জনগণকে সম্পৃক্ত রেখে বড় কোন আন্দোলন সফল করতে পারেনি। কারণ হিসেবে দেখলে দেখা যায় এই দলটির বড় নেতারা আন্দোলনে সরাসরি মাঠে নামেনি। বিএনপির উচিত আন্দোলনের প্রস্তুুতি নেয়া। আর আন্দোলনে নামার পূর্বে জেলা- উপজেলায় জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো। বর্তমান দেশের এই ক্লান্তিলগ্নে বিএনপি জনসমর্থন আদায় করে সরকার পতনের আন্দোলনে নামতে হবে।
ইমন হোসেন,
মাষ্টার্স (অধ্যয়নরত),
যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
বিএনপি’র সরকার পতনের আন্দোলন
সফল হবে না
বিগত নির্বাচন বৈধ ছিল কি অবৈধ ছিল আমরা সাধারণ মানুষ এতকিছু বুঝি না। তবে নির্বাচন পরবর্তী গত সাত/আট মাস আমরা যে কিছুটা হলেও শান্তিতে আছি তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আন্দোলনের নামে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর, নিরীহ মানুষ হত্যা যদি হয় নৈমিত্তিক ব্যাপার এবং সেই সঙ্গে আমাদের মত সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তাহীনতায় কলেজ, ভার্সিটি করতে গিয়ে লাশ হয়ে ঘরে ফিরতে হয় তাহলে সেরকম নেতিবাচক আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা কোথায়? মানুষ যখন ক্ষমতাসীন সরকারের কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে উঠবে, তখন কোন দলের আহবানে নয়, নিজেরাই মাঠে নেমে আন্দোলন শুরু করবে।
শোয়েখ মোহাম্মদ রাব্বি,
বিবিএ, ২য় বর্ষ,
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি,
ধানমণ্ডি, ঢাকা।
