সরকার পতন ঘটাতে হলে জনগণের
ঐক্য চাই
জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকেই আওয়ামী লীগ সরকারকে বাদ দেবার জন্য বিএনপি যে হুমকি দেয়া শুরু করেছে তা এখনও চলছে এবং ভবিষ্যতেও চলবে। কিন্তু তাই বলে কি আওয়ামী লীগ সরকার হাত গুটিয়ে বসে থাকবে? না, তারা ঠিকই জনগণের জন্য, দেশের জন্য অনবরত কাজ করে যাচ্ছে এবং যাবে। বর্তমানে দেশের মানুষ শান্তিতে আছে। দেশের এ অবস্থার প্রেক্ষিতে বিএনপি যদি সরকার পতনের আন্দোলন করে তাতে কিছুই লাভ হবে না। বরং দেশের সাধারণ জনগণের প্রাণ যাবে, দেশের জনগণের কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হবে।
আপনারা যদি গণতান্ত্রিক পন্থায়, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে, জনগণের জানমালের ক্ষতি না করে আন্দোলন করেন, তাহলে এ আন্দোলনে জনগণের সম্পৃক্ততা থাকবে।
খাজা মাহদী
ফটো সাংবাদিক (DUPS)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
কথায় যেমন চিড়া ভিজে না, বিএনপির সরকার পতন আন্দোলনও তেমনি সফল হবে না
বিএনপি আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতন ঘটাবে, এই ঘোষণা শুধু তাদের মুখের ফুলঝুরি ছাড়া আর কিছু নয়। কারণ কথায় তো চিড়া ভিজে না, তাই আপনাদের অতীত আন্দোলন যেমনি সফল হয়নি তেমনি বর্তমান সরকার পতন আন্দোলনও সফল হবে বলে মনে হয় না। আপনারা সরকার পতন ঘটাবেন কার স্বার্থে? আপনাদের স্বার্থে জনগণের স্বার্থ নয়, যদি জনগণের স্বার্থে হতো তাহলে রাজপথে নিরীহ জনগণকে মরতে হতো না। আপনারা আন্দোলন করুন গণতান্ত্রিকভাবে, বাসে আগুন দিয়ে নয়—কারণ আমরা নিরীহ জনগণ বাসে রিকশায় চলাফেরা করতে হবে। আপনাদের মত তো আমাদের কোন এসি প্রাইভেটকার নেই। আমরা চাই না আর কোন নিরীহ লোকের প্রাণ যাক। জনগণের কল্যাণ ভেবে আপনারা জনগণকে নিয়ে সুন্দর শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করুন। দেশ ও জনগণের ক্ষতি হয় এমন কর্মসূচি থেকে বিরত থাকুন।
মো. ইলিয়াছ সুমন
শিক্ষার্থী, বিএ
সাউথ সন্দ্বীপ কলেজ, সন্দ্বীপ।
বিএনপির সরকার পতনের আন্দোলন আদৌ প্রয়োজন আছে কি?
আওয়ামী লীগ যে উপায়েই ক্ষমতায় যাক বিএনপির রাজনৈতিক ব্যর্থতার কারণে বর্তমানে এই সরকার খুব ভালভাবে জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। সরকার জনগণকে সেই একতরফা নির্বাচনের কথা ভুলিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। বেশকিছু খাতে এই সরকার তাদের আগের মেয়াদের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করছে। আসলে আমরা যারা সাধারণ মানুষ, আমরা কখনোই সহিংসতা চাই না। আমরা একটা স্থিতিশীল অবস্থা চাই। এমতাবস্থায় সরকার পতনের আন্দোলন আমাদের ভীত করে তুলে। বিএনপির উচিত এই অবস্থায় সরকার পতনের আন্দোলন না করে তাদের দল গোছানো, বিগত আন্দোলনের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করে আগামী নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করা।
শামীম মোহাম্মদ মাসুদ
ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং
সরকারি তিতুমীর কলেজ।
আন্দোলন হতে হবে জনসম্পৃক্ত
বিএনপি যে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কথা বলছে তা এখন গণদাবি। আর এ গণদাবিকে আদায় করতে হলে জনগণকে সাথে নিয়ে গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন করে আদায় করতে হবে। বি.এন.পির সরকার পতনের আন্দোলনের শুরুতে এ কথা মনে রাখতে হবে যে, আন্দোলন যেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হতে হবে এবং তাতে জনগণের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে। গতবার সরকার পতনের আন্দোলনের নামে যেসব সন্ত্রাসী ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে তার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অন্যথায় অগণতান্ত্রিক ও জনবিচ্ছিন্ন সরকার পতনের আন্দোলন কতটা সফল হবে তা গতবারের দিকে তাকালে সহজেই অনুমেয়।
মোল্লা আবু সালেহ
৪র্থ বর্ষ, ৮ম সেমিস্টার, আরবী বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
সবার আগে দলকে গোছাতে হবে
বিএনপি সরকার একের পর এক আন্দোলনের তারিখ দিলেও দৃশ্যত তারা তা করছে না। এর একমাত্র কারণ হলো তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা। হাতেগোনা মাত্র কয়েজন ছাড়া বাকিরা এসিরুমে বসে বুলি ছাড়ে। এভাবে ঘরে বসে থেকে সরকার পতনের আন্দোলন হয় না। তারা যদি সক্রিয়ভাবে আন্দোলন করতে চায় তাহলে প্রথমে তাদের দলকে গোছাতে হবে। তা হবে তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত। দেশে আন্দোলন করার মতো এখনো বিরাজমান অনেক ইস্যু রয়েছে। দলকে চাঙ্গা করার মাধ্যমে জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথে নামতে হবে। নেতাকর্মীদের মাঠে থেকেই তার নেতৃত্ব দিতে হবে। অন্যথায় অতীতের মতো তাদের আন্দোলন কখনো সফলতার মুখ দেখবে না।
হাসান তারেক
সাংবাদিকতা বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
