এখনই সতর্ক হইতে হইবে

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৪, ২১:৩১
নিন্দুকেরাও স্বীকার করিবেন যে, সরকারের সাফল্যের তালিকা দীর্ঘ। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দাসহ নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতির ধারাবাহিকতা আন্তর্জাতিক পরিসরেও স্বীকৃত ও প্রশংসিত হইতেছে। বিশেষ করিয়া জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) অর্জনে আমাদের সাফল্য উদাহরণ হিসাবে বিবেচিত হইতেছে বিশ্বব্যাপী। অব্যাহত রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং উপর্যুপরি প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর্বততুল্য বাধা অতিক্রম করিয়া এইসব অর্জন কীভাবে সম্ভব হইল বা হইতেছে—তাহা রীতিমতো বিস্ময়ের কারণ হইয়া দাঁড়াইয়াছে দেশি-বিদেশি উন্নয়ন বিশেষজ্ঞদের নিকট। বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা তো এতোটাই উচ্ছ্বসিত যে তিনি বাংলাদেশকে অপরিসীম সম্ভাবনাময় একটি দেশ হিসাবে অভিহিত করিয়া আসিতেছেন অব্যাহতভাবে। বাংলাদেশ এবং ইহার জনগণকে লইয়া এই উচ্ছ্বাস তাহার একার নহে। যতো সীমাবদ্ধতাই থাকুক, আমাদের দেশটি যে অতি মনোহর এবং এই দেশের মানুষ যে অসাধ্য সাধন করিতে পারে—তাহা অনুধাবন করিবার জন্য শুধু বর্তমান সরকারের শাসনামলে বাংলাদেশের যে অভূতপূর্ব অর্জন- তাহাই যথেষ্ট বলিয়া বিবেচিত হইতে পারে। এই অগ্রযাত্রার মূল চালিকাশক্তি যে এই দেশের অদম্য জনগণ তাহাতে সন্দেহ নাই। তবে ইহাও অনস্বীকার্য যে, এই ক্ষেত্রে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছাকেও কোনোভাবেই খাটো করিয়া দেখা যাইবে না। বিশেষ করিয়া স্বাধীনতার ঊষালগ্নে বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখিয়াছিলেন ইহাকে বাস্তবে রূপায়িত করিবার জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কী প্রাণান্ত পরিশ্রম করিয়া চলিয়াছেন—তাহাও সংশ্লিষ্ট মহলের অজানা নহে। কিন্তু প্রশাসনের একশ্রেণির সুযোগসন্ধানী কর্মকর্তার সহায়তায় ক্ষমতার অপব্যবহার করিয়া তথাকথিত কিছু নেতা-কর্মী যেইভাবে ঘুণপোকার মতো সর্বস্ব উদরস্থ করিবার অপচেষ্টায় লিপ্ত হইয়াছেন—তাহাতে সকল অর্জনই প্রশ্নবিদ্ধ হইয়া পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়াছে। সুলুকসন্ধান করিলে দেখা যাইবে যে, ইহাদের বেশিরভাগই নবাগত—ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরে যাহারা ‘হাইব্রিড’ বলিয়া পরিচিত। মাঠপর্যায়ে যাহা চলিতেছে তাহাতে দেশের মানুষ যেমন ত্যক্ত-বিরক্ত হইয়া পড়িতেছে, তেমনি নিন্দুকদের হাতেও অস্ত্র তুলিয়া দেওয়া হইতেছে। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য তৃণমূল পর্যায়ে যেইটুকু সম্পদ বরাদ্দ হইতেছে, তাহার অনেকটাই লোপাট হইয়া যাইতেছে। অন্যদিকে, অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজও ব্যাহত হইতেছে অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে। প্রশাসনের মদদপুষ্ট এই মহলটি কোনো নিয়মনীতির পরোয়া করেন না। নীতি বা আদর্শ নহে, বরং ক্ষমতার বর্মকে কাজে লাগাইয়া নিজেদের আখের গোছানোই হইল তাহাদের মূল উদ্দেশ্য। আর এই ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র ব্যাঘাত ঘটিলে দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তাদেরও হুমকি-ধামকি দেওয়া হইতেছে। তাহাতে প্রশাসনেও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হইতেছে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগাইয়া নিন্দুকেরা তিলকে তালে পরিণত করিতেছেন। অপ্রিয় হইলেও সত্য যে, এই অবস্থা চলিতে থাকিলে সরকারের শীর্ষমহল যে বাংলার মাটিতে সোনা ফলানোর নিরলস প্রয়াস চালাইয়া যাইতেছেন—তাহা পথভ্রষ্ট হইলেও বিস্ময়ের কিছু থাকিবে না। অবশ্য ক্ষমতার অপব্যবহারের এই ধারা যেমন হঠাত্ করিয়া সৃষ্টি হয় নাই, তেমনি কোনো সরকারই এই দায় হইতে মুক্ত ছিল না। আর গুটিকয় সুযোগসন্ধানী ভুঁইফোড় নেতা-কর্মীর এই বাড়াবাড়ি ও ঔদ্ধত্যের কুফল ভোগ করিতে হইয়াছে গোটা জাতিকে। ইহার জন্য অঢেল মূল্যও দিতে হইয়াছে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে। সোনার বাংলার স্বপ্নকে সফল করিতে হইলে অতীতের এই তিক্ত অভিজ্ঞতা হইতে এখনই শিক্ষা গ্রহণ করিতে হইবে। কঠোর হইতে হইবে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন