কোনো স্মার্টফোনের ম্যালওয়্যারকে অনেক সময়ই নিরাপদ কোনো অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়ে থাকে। আর এই ছদ্মবেশী ম্যালওয়্যার অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে খুব সহজে জনপ্রিয় সব অ্যাপ্লিকেশন হ্যাক করা সম্ভব। সম্প্রতি একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনে জিমেইলের অ্যাপ্লিকেশন হ্যাক করে তার প্রমাণ দিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া এবং ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের একদল গবেষক। কেবল জিমেইল অ্যাপ্লিকেশনই নয়, তাদের হ্যাকিংয়ের তালিকায় আরও রয়েছে অ্যামাজন, এইচঅ্যান্ডআর ব্লক, নিউএগ, ওয়েবএমডি, চেজ ব্যাংক প্রভৃতি। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে সহজে তারা হ্যাক করতে পেরেছেন জিমেইল অ্যাপ্লিকেশন। শতকরা ৯২ ভাগ সাফল্যের সাথে জিমেইল হ্যাক করতে পেরেছেন তারা। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এই পরীক্ষাটি পরিচালিত হলেও গবেষকরা জানিয়েছেন, আইওএস কিংবা উইন্ডোজ ফোনসহ সব ধরনের স্মার্ট মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমেই এই পদ্ধতি কাজ করবে। এই হ্যাকিংয়ে গবেষকরা ব্যবহার করেছেন একটি ব্যাকগ্রাউন্ড ওয়ালপেপার অ্যাপ্লিকেশন, যা মূলত একটি ম্যালওয়্যার। এটি ইন্সটল করার মাধ্যমে গবেষকরা কোনো একটি অ্যাপ্লিকেশনের প্রসেসের শেয়ারড মেমোরিতে প্রবেশের সুযোগ পেয়ে যান। এরপর ওই অ্যাপ্লিকেশনে কী করা হচ্ছে তার সবকিছুই মনিটর করতে পারেন। এভাবেই কোনো অ্যাপ্লিকেশনে লগ-ইন করার সময়েই রিয়েল-টাইমে তার সব তথ্য হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব। গবেষকদের পরীক্ষায় অ্যামাজনের অ্যাপ্লিকেশনের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া সবচেয়ে কঠিন হয়েছে। এই অ্যাপ্লিকেশনের ক্ষেত্রে তাদের সাফল্যের হার ৪৮ শতাংশ। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, চতুর হ্যাকাররা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে আরও অনেক বেশি সাফল্যের সাথে হ্যাকিং করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ্লিকেশন না হলে স্মার্টফোনে ইন্সটল না করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। গুগল অবশ্য এই গবেষণাকে স্বাগতই জানিয়েছে। তাদের একজন মুখপাত্র জানান, এই ধরনের গবেষণা অ্যান্ড্রয়েডকে আরও নিরাপদ করতে সহায়তা করবে।
