অভিনন্দন শিল্পী শাহাবুদ্দিন

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০১৪, ২১:২৬
বহুভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও মূকাভিনয়শিল্পী পার্থপ্রতিম মজুমদারের পর তৃতীয় বাংলাদেশি হিসাবে ফ্রান্সের ‘নাইট ইন দি অর্ডার অব দি আর্টস অ্যান্ড লিটারেচার’ উপাধিতে ভূষিত হইয়াছেন বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ। সেইসাথে দেশের জন্য বহিয়া আনিয়াছেন বিরল সম্মান। উল্লেখ্য যে, ফ্রান্স অথবা বিশ্বের শিল্প ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য ফরাসি সরকার ১৯৫৭ সাল হইতে এই উপাধি প্রদান করিয়া আসিতেছে। শিল্পীর কাজকর্ম সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন এমন সকলেই একবাক্যে স্বীকার করিবেন যে, যোগ্য ব্যক্তি হিসাবেই তিনি এই সম্মাননা লাভ করিয়াছেন। ফ্রান্সের সংস্কৃতি ও যোগাযোগমন্ত্রী অরিলি ফিলিপেত্তিও তাঁহার অভিনন্দন বার্তায় সেই কথা স্মরণ করাইয়া দিয়াছেন। বলিয়াছেন ফরাসি সংস্কৃতিতে শিল্পীর অনন্য অবদান ও অঙ্গীকারের কথা। দীর্ঘ চার দশক যাবত্ ফ্রান্সে বসবাসকারী এই শিল্পীর অবদান যে কেবল সেই দেশের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নহে— তাহাও বলার অপেক্ষা রাখে না। দুই দশকেরও বেশি সময় আগে, ১৯৯২ সালেই, ‘মাস্টার পেইন্টার্স অব কনটেমেপারারি আর্টস’-এর সংক্ষিপ্ত তালিকায় তাহার নাম অন্তর্ভুক্ত হইয়াছে। তিন দশক ধরিয়া তাঁহার চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হইতেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী নরসিংদীর রায়পুরার সন্তান ৬৩ বছর বয়সী এই শিল্পী বাংলাদেশেও স্বাধীনতা পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাইয়াছেন। কিন্তু তিনি এমন একজন শিল্পী— যাঁহার স্বাতন্ত্র্য কোনো পদক-পুরস্কার কিংবা উপাধির মুখাপেক্ষী নহে। তাঁহার চিত্রকর্ম ইউরোপীয় চিত্রপ্রেমিকদের যেমন অভিভূত করে, তেমনি বাঙালিচিত্তেও ইহার অভিঘাত অসামান্যই বলা চলে। বিশেষ করিয়া বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ড তাঁহার অনন্য হাতের ছোঁয়ায় রঙ ও গতির আশ্চর্য সংমিশ্রণে যেইভাবে জীবন্ত হইয়া উঠিয়াছে— এককথায় তাহার তুলনা বিরল। অল্পদিন বিদেশে বসবাস করিয়াও অনেকে দেশ ও দেশের মানুষকে ভুলিয়া যান। কেহ কেহ ইহা লইয়া এক ধরনের আত্মশ্লাঘায়ও ভুগিয়া থাকেন। এই ক্ষেত্রেও শাহাবুদ্দিনের অনন্যতা অনুসরণযোগ্য। দীর্ঘকাল শিল্প ও শিল্পীদের তীর্থভূমি বলিয়া বিবেচিত ফ্রান্সের সৃজনশীল কর্মযজ্ঞের প্রাণকেন্দ্রে বসবাস করিয়াও তিনি নিজের দেশকে বিস্মৃত হন নাই। বাসিন্দা হন নাই কোনো গজদন্তমিনারের। বলা আবশ্যক যে, শাহাবুদ্দিন মুক্তিযোদ্ধা। জীবন বাজি রাখিয়া যুদ্ধ করিয়াছিলেন দেশের জন্য। গর্বের বিষয় হইল, সেই যুদ্ধ তিনি এখনও জারি রাখিয়াছেন। অস্ত্রের পরিবর্তে হাতে তুলিয়া লইয়াছেন রঙ-তুলি এবং নিরন্তর প্রমাণ করিয়া চলিয়াছেন যে মারণাস্ত্রের চাইতে রঙ-তুলির ক্ষমতাই অধিক। সর্বোপরি, সগৌরবে বহন করিয়া চলিয়াছেন অপরিসীম ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত লালসবুজ পতাকা। এমন সন্তানকে লইয়া কাহার না গর্ব হয়! আপনাকে অভিনন্দন অনন্য শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন