থাইল্যান্ড পরিস্থিতি ও গণতন্ত্র

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৪, ২১:০৯
রাজনীতির সহিত অর্থনীতির সম্পর্ক প্রত্যক্ষ ও অবিচ্ছেদ্য। এই সত্য শুধু একটি রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে নহে, বরং সারা বিশ্বের প্রেক্ষাপটেই প্রযোজ্য। থাইল্যান্ডও ইহার বাহিরে নয়। গত দেড় বত্সরাধিককাল ধরিয়া রাজনৈতিক নানান সংকট পার করিয়া চলিয়াছে দেশটি। অর্থনীতিরও ক্ষতি হইয়াছে। বিবাদমান রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতভিন্নতা দেখা যায়। উদীয়মান অর্থনীতির থাইল্যান্ডেও দরিদ্র মানুষের রাজনৈতিক দল বলিয়া পরিচিত পুয়ে থাই পার্টি ও মধ্যবিত্ত এবং উচ্চশ্রেণির দল ডেমোক্র্যাট পার্টির মধ্যে রাজনৈতিক নানা বিষয়ে মতবিরোধ রহিয়াছে। গত বত্সরে এই বিরোধ চরম অবস্থায় পৌঁছে পরিস্থিতি সহিংস হইয়া পড়ে। পুয়ে পার্টির নেত্রী দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে ক্ষমতাচ্যুত করিবার জন্য বিরোধীপক্ষ উঠিয়া-পড়িয়া লাগে। তাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী পদে তিনি থাকিলেও দেশ পরিচালিত হইতেছে তাহার ভাই নির্বাসিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার নির্দেশে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থকগণ কয়েক মাস ধরিয়া শহরে অবস্থিত সরকারি অফিস ঘেরাও করিয়া অভিনব কায়দায় আন্দোলন চালায়। আন্দোলন কর্মসূচির পরিসর ছিল কেবল সরকারের বিভিন্ন দফতরগুলি। আন্দোলনকারীদের দ্বারা ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয় নাই বলিলেই চলে। তবে বলা বাহুল্য, রাজনৈতিক ঐ অচলাবস্থায় সার্বিক অর্থনীতির ক্ষতি সাধিত হইয়াছে। পর্যটন শিল্পে আয় নামিয়া যায় উল্লেখযোগ্য হারে, সার্বিক উত্পাদন বাধাগ্রস্ত হয়, বিনিয়োগ ক্ষেত্রেও ইহার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়া যাইতে আগামী কয়েক মাস লাগিয়া যাইতে পারে বলিয়া অর্থনীতিবিদদের অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করিয়াছেন। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী যখন অন্তরীণ তখন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব লইতে চলিয়াছেন জেনারেল প্রায়ুথ চান ওশে। তিনি অস্থিতিশীলতার সুযোগে এই বত্সরের মে মাসে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তাহার বিরুদ্ধেও আন্দোলন চাঙ্গা হইলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, খুব দ্রুতই একটি নিরপেক্ষ সাধারণ নির্বাচনের ব্যবস্থা করিতেই ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করিয়াছেন তিনি। কিন্তু জেনারেল ওশে সমস্যার সমাধানে দ্রুতই কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হইয়াছিল যে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকিবার ফন্দি আঁটিয়াছেন তিনি। গত ২১ তারিখ পার্লামেন্টের ১৯১ জন সদস্যকে নিজের পক্ষে লইয়া পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণের ঘটনায় সেই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হইয়াছে। ইতিমধ্যেই তিনি দেশের নিম্নমুখী অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের কার্যকর উদ্যোগ লইবার কথা বলিয়াছেন। অর্থনীতি হয়তো পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়াও আসিতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হইল, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কোন সরকার প্রধান কি অর্থনৈতিক স্বস্তি আনিতে পারেন না? জনগণের ভোটে নির্বাচিত নেতৃবৃন্দের এই অবরুদ্ধ অবস্থা, প্রলম্বিত রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক সমস্যা আরও প্রকট হইতে পারে। এমতাবস্থায় শীঘ্রই প্রতিশ্রুত সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করা হইলে থাইল্যান্ডের আর্থ-সামাজিক পরিমণ্ডলে শান্তি-স্বস্তি ফিরিয়া আসিতে পারে। জেনারেল ওশে এই ব্যাপারে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিবেন—এমনটিই প্রত্যাশিত।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন