রাজনীতি

জনগণের সার্বভৌমত্ব ‘স্থানান্তরযোগ্য’ নয়

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৪, ২১:০৯
দেশের সংবিধান অনুযায়ী ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ।’ অথচ সংসদ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ— রাষ্ট্রের এই তিন অংশের মধ্যে কে বেশি ক্ষমতাধর, কে কার উপরে অবস্থান করে এবং কে ‘বেশি সার্বভৌম’ তা নিয়ে আবার প্রতিযোগিতা ও বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। এই কাণ্ডজ্ঞানবর্জিত বিতর্ক কবিগুরুর কবিতার সেই চরণগুলোকেই মনে করিয়ে দেয়। “রথযাত্রা, লোকারণ্য, মহাধুমধাম ভক্তেরা লুটায়ে পথে করিছে প্রণাম। পথ ভাবে ‘আমি দেব’, রথ ভাবে ‘আমি’, মূর্তি ভাবে ‘আমি দেব’— হাসে অন্তর্যামী\” সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ও সংসদের মধ্যে কে কার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য? কে কাকে অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে? এ বিষয়কে কেন্দ্র করেই সম্প্রতি আবার বিতর্কের ঝড় তোলা হয়েছে। শীর্ষ বিচারপতিদের অপসারণের জন্য সংসদকে অভিশংসনের (impeachment) ক্ষমতা দিয়ে সংবিধান সংশোধনের জন্য সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ায় নতুন করে আবার এই বির্তকের সূত্রপাত ঘটেছে। সরকার জানিয়েছে যে এ বিষয়ে সহসাই সংবিধানের ‘ষষ্ঠদশ সংশোধনীর’ খসড়া রচিত হতে চলেছে এবং তা পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে পাস হতে যাচ্ছে। জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করার জন্য আইনের অসম্পূর্ণতা দূর করা, যুদ্ধাপরাধীদের ঝুলে থাকা রায় ঘোষণা ইত্যাদি জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণে যুক্তিহীন বিলম্ব ঘটলেও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের ক্ষেত্রে সংসদীয় অভিশংসন প্রথা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের বিস্ময়কর তাড়াহুড়া নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাছাড়া, কার্যত ভোটারদের অংশগ্রহণ ব্যতিরেকেই একটি ‘নিয়ম রক্ষার’ সংসদের দ্বারা বিচার বিভাগের কার্যক্রমের সাংবিধানিক ব্যবস্থা সম্পর্কে একটি মীমাংসিত বিষয় নিয়ে হঠাত্ করে বিতর্কে লিপ্ত হয়ে সরকার সঠিক কাজ করছে বলে কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। যুক্তি দেখানো হচ্ছে যে, ’৭২-এর সংবিধানের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্যই সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছে। কিন্তু বাস্তব ঘটনাবলি সরকারের এরূপ কোনো সদিচ্ছার প্রমাণ দেয় না। কারণ, বিগত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের আমলে যখন দেশের সর্বোচ্চ আদালত পঞ্চম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করেছিল এবং ধারাবাহিকতা রক্ষা ও জরুরি জাতীয় স্বার্থের বিবেচনায় নাগরিকত্ব ও বিচারপতিদের অভিশংসনের ব্যবস্থাকে মার্জনা (condone) করে ’৭২-এর সংবিধান তার আদি রূপে পুনঃস্থাপিত হয়েছে বলে রায় দিয়েছেন, তখন আওয়ামী লীগ তা মেনে নিয়ে অগ্রসর হওয়ার পথ গ্রহণ করেনি। বরঞ্চ, আদালতের রায়ের অর্জনকে কাটছাঁট করে, জিয়াউর রহমান ও এরশাদের আনীত সাম্প্রদায়িক সংশোধনীগুলোকে রেখে দিয়ে এবং ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলকে অবৈধ করে রচিত ’৭২-এর সংবিধানের ৩৮ নং অনুচ্ছেদের পশ্চাত্মুখী পুনঃলিখন করে ‘পঞ্চদশ সংশোধনী’ পাস করেছিল। কোথায় ছিল তখন তাদের ’৭২-এর সংবিধানের প্রতি এ ভালবাসা ও একাগ্রতা! সংবিধানের মর্মকথা ফিরিয়ে আনার কথা মুখে বললেও ‘পঞ্চদশ সংশোধনীর’ মাধ্যমে সরকার বরঞ্চ তখন তাতে বেশ কিছু ‘ভেজাল’ মিশিয়ে দিয়েছিল। ’৭২-এর সংবিধানের প্রতি একাগ্র থাকতে হলে সে সব ভেজাল, যথা: জিয়ার ‘বিসমিল্লাহ্......’, এরশাদের ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’, ৩৮ নং অনুচ্ছেদের সাম্প্রদায়িক রূপান্তর ইত্যাদি জরুরিভাবে দূর করার মাধ্যমে তার প্রমাণ দেয়া প্রয়োজন ছিল। তাছাড়া সংবিধানের প্রগতিমুখীন অগ্রগতির জন্য, আদিবাসীদের অস্তিত্ব ও অধিকারের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, অন্ন-বস্ত্র-শিক্ষা-চিকিত্সা-আশ্রয়-কর্মসংস্থান ইত্যাদিকে মৌলিক অধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা ইত্যাদি ক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধন করা প্রয়োজন ছিল। এসবের জন্য প্রয়োজন ছিল ‘ষষ্ঠদশ সংশোধনী’। কিন্তু যা একান্ত প্রয়োজন ছিল সেদিকে নজর না দিয়ে সরকার বিচার বিভাগকে নিয়ে টানাটানি শুরু করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। একথা সকলেরই জানা যে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সাংসদরা দলীয় সিদ্ধান্তের আজ্ঞাবহ হতে বাধ্য। আবার নির্বাহী বিভাগ তথা মন্ত্রিসভা কার্যত প্রধানমন্ত্রী দ্বারা চূড়ান্ত বিবেচনায় এককভাবে নিয়ন্ত্রিত। তাই, সর্বোচ্চ বিচারপতিদের অভিশংসন সংসদের হাতে নিয়ে আসার অর্থ হবে বিচার বিভাগকে সংসদ ও সরকার, তথা দলীয় প্রভাবের আওতায় বেঁধে ফেলা। এর অর্থ হবে সংসদ, সরকার ও বিচার বিভাগের মধ্যে কর্তৃত্বের ভারসাম্য বিনষ্ট করে দ্বন্দ্ব-বিবাদের সৃষ্টি করা। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার জন্য তা হবে বিপর্যয়কর। একথা সকলেরই জানা আছে যে, একটি আধুনিক ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের’ ভিত্তি হচ্ছে তার তিনটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন, অথচ পরস্পরের পরিপূরক স্তম্ভ। এগুলো হলো রাষ্ট্রের (ক) নির্বাহী বিভাগ (Executive), (খ) আইনসভা (Legislature) এবং (গ) বিচার বিভাগ (Judiciary)। এই তিন স্তম্ভের মধ্যে হরহামেশা এক ধরনের খিটিমিটি-ঠোকাঠুকি লেগে থাকাটা মোটেও অস্বাভাবিক নয়। সব দেশেই তেমন ঘটনার দেখা পাওয়া যায়। কিন্তু কোনো একটি স্তম্ভকে অপরটির অধীনস্থ করে দ্বন্দ্ব-সংঘাত-বিবাদ উস্কে দেয়াটা হবে চরম আত্মঘাতী। ডান হাতের সাথে বাম হাতের ঘুষাঘুষি-মারামারি লেগে গেলে দেহের হাল যেরূপ হয়ে ওঠার আশংকা সৃষ্টি হয়, পরিস্থিতি তখন সেরূপ হয়ে দাঁড়াবে। অভিশংসনের অধিকার কার হাতে থাকবে তা নিয়ে বিতর্ক নিছক বিধি-বিধানগত বিষয় নিয়ে একটি টেকনিক্যাল বিতর্ক নয়। বিতর্কের অন্তর্নিহিত বিষয় আরো গভীরে। এক্ষেত্রে বিতর্কের মূল বিষয় হয়ে উঠেছে ‘সার্বভৌম কে’ মর্মে মতবিরোধটি। অভিধান অনুসারে ‘সার্বভৌম’-এর অর্থ হলো ‘সম্পূর্ণ স্বাধীন; যার উপর অন্য কারো কর্তৃত্ব বা আধিপত্য নেই।’ ধর্মবিশ্বাসীরা বা থিওক্র্যাটিক-ধর্মীয় রাজনীতির অনুসারীরা বলবে যে, ‘একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই সার্বভৌম, অন্য কেউ বা কিছু সার্বভৌম নয়।’ কিন্তু তাদের যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ আমাদের সামনে বিবেচ্য বিষয় হলো পার্থিব ‘রাষ্ট্র’, যা কিনা একান্তই একটি মনুষ্য সৃষ্ট ইহলৌকিক ব্যাপার। ‘রাষ্ট্র’ কোনো দার্শনিক, আধ্যাত্মিক, পারলৌকিক বিষয় নয়। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত সংসদ ‘রাষ্ট্রের’ একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। কিন্তু একথা বলার কি কোনো সুযোগ আছে যে সংসদই হচ্ছে রাষ্ট্রের অপরাপর স্তম্ভ দু’টির, বিশেষত বিচার বিভাগের ঊর্ধ্বে? ‘সংসদ’-এর অবস্থান কি ‘সংবিধানের’ উপরে? ‘একজন পুরুষকে নারী অথবা নারীকে পুরুষ বানানো ছাড়া সংসদের সবকিছু করার ক্ষমতা রয়েছে’— সংসদের অসীম ক্ষমতা সম্পর্কে কেউ কেউ এরূপ যে মন্তব্য করতে ভালোবাসেন, তাদের সে বক্তব্যকে কি আদৌ গ্রহণযোগ্য বলে মেনে নেয়া যায়? যে কথাটি ভালোভাবে বোঝা দরকার তা হলো, “ ‘সংবিধান’ জন্ম দিয়েছে ‘সংসদের’। ‘সংসদ’ সংবিধানের জন্ম দেয়নি।” (Parliament is the creation of the Constitution. The Constitution is not the creation of the Parliament.)। বাংলাদেশের সংবিধান রচনার পটভূমি ও ভিত্তির প্রতি নজর দিলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। এই সংবিধানের ঐতিহাসিক পটভূমি হলো ১৯৭১ সালের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। বহু যুগের গণসংগ্রামের ধারায় রচিত হয়েছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের সেই অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধের সূচনাতেই রচিত হয়েছিল ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’। এই ঘোষণাপত্রের ভিত্তিতে পরিচালিত সশস্ত্র জনযুদ্ধের মধ্যদিয়ে অর্জিত বিজয় বাংলাদেশকে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর দখলমুক্ত করে প্রতিষ্ঠা করেছিল স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র। সেই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে রচিত হয়েছিল বাংলাদেশের সংবিধান। মুক্তিযুদ্ধের ফসল হলো সংবিধান। আর সংবিধানের ফসল হলো সংসদ। সংসদের মতো একইভাবে, একই সংবিধানের অন্যান্য ফসল হলো বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও রাষ্ট্রের অন্য সব প্রতিষ্ঠানসহ যাবতীয় আইন-কানুন। সংসদ আপন ইচ্ছামতো ‘যা ইচ্ছা তাই’ করতে পারে— এমন কথা ঠিক নয়। অনেক কিছু করার ক্ষমতা থাকলেও সংসদ কখনোই তার স্রষ্টা সংবিধানের মৌলিক ভিত্তি ও চরিত্রের পরিপন্থি কিছু করার ক্ষমতা রাখে না। এরূপ কিছু করা হলে তা অবৈধ বলে গণ্য হবে। পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে প্রদত্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তা অবৈধ ক্ষমতা ও কর্তৃত্ববলে প্রবর্তিত হয়েছিল বলে প্রদত্ত যুক্তির পাশাপাশি সংবিধানের মৌলিক ভিত্তি ও চরিত্রের পরিপন্থি হওয়ার যুক্তিও একইসাথে প্রদান করা হয়েছিল। অর্থাত্ কথা দাঁড়াচ্ছে এই যে, সংসদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও কর্তৃত্ববান হলেও সে সম্পূর্ণ স্বাধীন যেমন নয়, তেমনি তার উপর অন্য কারো কর্তৃত্ব ও আধিপত্য নেই— এমনও নয়। সংসদের উপরে রয়েছে সংবিধানের অবস্থান। আমাদের দেশের সংবিধানের শুরুতেই, তার প্রথম ভাগের ৭নং অনুচ্ছেদের ১নং ধারায় স্পষ্ট করে লেখা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে।’ যেহেতু ‘জনগণই’ সব ক্ষমতার মালিক, তাই (রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক, নাগরিক জীবনের পরিপ্রেক্ষিতে) একমাত্র, ‘জনগণই’ হলো সার্বভৌম, অন্য কেউ বা কিছু নয়। তবে আধুনিক রাষ্ট্র যেহেতু ‘গ্রীক নগর রাষ্ট্রের’ মতো নয় (যেখানে সব নাগরিক একত্রিত হয়ে সরাসরি সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতো), তাই সে ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন হলো, ‘জনগণ’ কোন পথ ও পন্থায় তার ক্ষমতা কার্যকর করবে? এই প্রশ্ন সম্পর্কে সংবিধানে বলা হয়েছে যে, জনগণের ক্ষমতার প্রয়োগ ‘সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে’। সংবিধানে কিন্তু একথা বলা হয়নি যে, তা ‘জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বা দ্বারা কার্যকর হবে।’ ‘জনগণের পক্ষে ক্ষমতার প্রয়োগের’ ক্ষেত্রে কেবলমাত্র সংবিধানের পঞ্চম ভাগ (আইনসভা সংক্রান্ত বিধানাবলী)-কে নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়নি। এর অর্থ স্পষ্ট। জনগণের পক্ষে ক্ষমতার প্রয়োগের পথ ও পন্থা বিস্তৃত রয়েছে সংবিধানের সর্বাংশে। সাংবিধানিক সব প্রতিষ্ঠান-সংস্থা ও বিধি-বিধানের মধ্যদিয়েই জনগণের পক্ষে ক্ষমতার প্রকাশ, প্রয়োগ ও অভিব্যক্তি নিশ্চিত করার কথা সংবিধানে বলা হয়েছে। ‘জনগণের সার্বভৌমত্ব’ কার্যকর হওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে সংবিধানের সবকিছুর মধ্যদিয়ে। বিশেষত রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভ তথা সংসদ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের কাজের মধ্যদিয়ে। জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা কোনো একক একটি রাষ্ট্রীয় স্তম্ভ বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্পণযোগ্য বা স্থানান্তরযোগ্য নয়। সংসদ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের কাজের এক্তিয়ার পৃথক-পৃথক ক্ষেত্রে পরিব্যাপ্ত। আপন-আপন পরিমণ্ডলের গণ্ডিতে কর্তৃত্ববান ও সার্বভৌম হলেও তারা এককভাবে কেউই সর্বাঙ্গীন সার্বভৌম নয়। তাছাড়া, একটি অপরটির উপরে অবস্থানকারী— এমনটিও মোটেই নয়। তাদের পরস্পরের ‘আপেক্ষিক ও আংশিক’ সার্বভৌমত্বের মধ্যে একটি নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য (check and balance) রক্ষার ব্যবস্থাও সংবিধানে রয়েছে। ভারসাম্য বজায় রেখে এমনভাবে এই তিন অঙ্গকে কাজ করতে বলা হয়েছে যেন ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ’— সংবিধানের এই মর্মকথা কার্যকর হয়। সংসদ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ— প্রতিটিই ‘আপেক্ষিক ও আংশিক’ (relative and partial) সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। পূর্ণ (total) সার্বভৌম শক্তি, অর্থাত্ চূড়ান্ত (absolute) সার্বভৌম ক্ষমতার উত্স হলো কেবলমাত্র ‘জনগণ’। সংবিধানের ‘ষষ্ঠদশ সংশোধনীর’ বিষয়বস্তু হোক সংবিধান থেকে সাম্প্রদায়িক ‘ভেজাল’ অপসারণ করা, আদিবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করা, জনগণের অন্ন-বস্ত্র-শিক্ষা-চিকিত্সা-আশ্রয়-কর্মসংস্থানের প্রাপ্তির গ্যারান্টি নিশ্চিত করা... ইত্যাদি। এগুলোই জরুরি বিষয়। ‘পথ’, ‘রথ’ না ‘মূর্তি’— কে বেশি দেবতাতুল্য সার্বভৌমত্বের অধিকারী, তা নিয়ে বিতর্ক-দ্বন্দ্ব লাগিয়ে দেয়াটা মোটেও কোনো কাজের কাজ নয়। একটি গণতান্ত্রিক সমাজের পার্থিব রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডলে দেবতাতুল্য সার্বভৌম আসনটি যে কেবলমাত্র ‘জনগণের’ জন্যই নির্ধারিত— সে কথাটি কখনই ভুলে যাওয়া উচিত নয়। জয় হোক ‘জনগণের’! লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি E-mail : [email protected]

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন