গত সোমবার হোয়াইট হাউস জানাইয়াছে যে, আগামী মাসের প্রারম্ভে অভিবাসন প্রসঙ্গে একটি নির্বাহী ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিতে পারেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ধারণা দেওয়া হইয়াছে যে, প্রেসিডেন্টের ঘোষণাতে কয়েক মিলিয়ন অবৈধ অভিবাসীর জন্য ওয়ার্ক পারমিট বিতরণের সুযোগ করিয়া দেওয়ার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকিতে পারে। ওবামার এহেন সিদ্ধান্ত আগামী নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিতব্য কংগ্রেস নির্বাচনে তাঁহার দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য ইতিবাচক হইবে কিনা তাহা লইয়া বিশ্লেষক মহলে মতভেদ দেখা দিয়াছে। বিরোধী দল রিপাবলিকান পার্টি যে ওবামার সিদ্ধান্তকে বিদেশি-প্রীতির নজির হিসাবে চিহ্নিত করিয়া মূলধারার ভোটারদের নিজের দিকে টানিতে সর্বৈব চেষ্টা করিবে তাহাও ইতিমধ্যে স্পষ্ট হইয়া গিয়াছে।
ধারণা করা হইতেছে যে, আগামী মাসের আট তারিখে কংগ্রেসের অধিবেশন বসিবার পূর্বেই ওবামার পক্ষ হইতে পাঁচ হইতে ছয় মিলিয়ন পর্যন্ত অবৈধ অভিবাসীর বরাত খুলিয়া দেয়া নির্বাহী আদেশটি আসিতে পারে। হোয়াইট হাউসের ভাষ্যমতে, নির্বাহী ঘোষণাটি যদি অধিবেশন বসিবার পরে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে অভিবাসন সংস্কার বিষয়ক বিল পাস হইয়া যাইবার মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় হইয়া পড়ে তাহা প্রেসিডেন্টের সুখের কারণ হইবে। সিনেটে পরবর্তীতে যাহাই ঘটুক না কেন, ওবামার ঘোষণাটি যে মার্কিন রাজনীতিতে আরো একবার অভিবাসন নীতিমালা বিষয়ক ঝড় তুলিতে যাইতেছে তাহা ইতিমধ্যে স্পষ্ট হইয়াছে। উল্লেখ্য, চলতি মাসের প্রথম দিনেই কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভের রিপাবলিকান ককাসের নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য অবৈধ অভিবাসীদিগকে নির্বাহী অ্যামনেস্টি প্রদান হইতে প্রেসিডেন্টকে বিরত থাকিবার পক্ষে ভোট দেয়। ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত উচ্চকক্ষ সিনেটে নিম্নকক্ষের এই উদ্যোগ খারিজ হইয়া গেলেও, অ্যামনেস্টি প্রদানকে ইস্যু ধরিয়া প্রেসিডেন্টকে বিদেশিপন্থি ও আমেরিকান-বিরোধী হিসাবে চিত্রিত করিতে চাহিবে রিপাবলিকানরা। তাহারা ইতিমধ্যে বলিতে শুরু করিয়াছে যে, বারাক ওবামা একটি নির্দয় উদ্যোগ লইয়া অগ্রসর হইতেছে যাহার ফলে পাঁচ অথবা ছয় মিলিয়ন নূতন ওয়ার্ক পারমিটধারী বিদেশি অদক্ষ আমেরিকানদের সহিত শ্রম বাজারে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হইবে। বর্তমান আইনানুসারে পর্যটক ও অবৈধ অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে কাজ-কর্ম করিবার অধিকারপ্রাপ্ত হন না।
সামপ্রতিক জনমতগুলিও অবশ্য এই ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের উত্সাহের কারণ হইয়া উঠিয়াছে। বেশিরভাগ জনমত জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, ওবামার অভিবাসন বিষয়ক নীতিমালার ব্যাপারে ভোটারগণ সাংঘাতিক নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। ইহাছাড়াও একটি জরিপে ৬৭ শতাংশ উত্তরদাতা অবৈধ অভিবাসনকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য “সাংঘাতিক” অথবা “অত্যন্ত গুরুতর” একটি সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করিয়াছেন। এমন এক পরিস্থিতিতে নভেম্বরের নির্বাচনকে মাথার মধ্যে রাখিয়া খোদ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মধ্যেই বারাক ওবামার উদ্যোগ কতখানি সাদরে গৃহীত হইবে তাহা লইয়া সন্দেহের অবকাশ থাকিয়া যাইতেছে। ভোটের হিসাব-নিকাশ হইতে মুক্ত থাকিবার কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্টদিগকে সাধারণত দ্বিতীয় মেয়াদে আসিয়া অভ্যন্তরীণ কোন বিষয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনিবার ব্যাপারে খুব একটা উদ্যোগী হইতে দেখা যায় না। এইক্ষেত্রে ওবামা কিছুটা ব্যতিক্রমী। অত:পর এই প্রশ্ন ওঠাও অস্বাভাবিক নয় যে, বারাক ওবামা আসলে কার স্বার্থ রক্ষা করিতে চাহেন? তিনি আমেরিকার স্বার্থের ওপরে অভিবাসন প্রত্যাশী বিদেশিদের স্বার্থকে স্থান দিতে চাহিতেছেন বলিয়াও অনেকে মনে করিতেছেন। এমতাবস্থায় বিষয়টি শেষ পর্যন্ত বারাক ওবামার জন্য সুখপ্রদ কোনো ফল বহিয়া আনিবে বলিয়া মনে হয় না।
