রাজধানীতে ভেজাল ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ভেজাল ইয়াবার ব্যবসা করে আব্দুল্লাহ জুবায়ের নামে যুবক এখন গুলশানের নিকেতন এলাকায় দুইটি ফ্ল্যাটের মালিক। তার রয়েছে একটি মিতসুবিশি পাজেরো জিপ গাড়ি। রবিবার রাতে ডিবি পুলিশ খিলগাঁওয়ের খিদমাহ হাসপাতালের সামনে বিশ্বরোডে তার জিপ গাড়িটি আটক করে তল্লাশি চালায়। এসময় ঐ গাড়ি থেকে ৫৫ হাজার ভেজাল ইয়াবা ও ইয়াবা তৈরির যন্ত্রপাতি উদ্ধার করে। ডিবি গ্রেফতার করে আব্দুল্লাহ জুবায়ের (৩০), আইয়ুব আলী (৪৫), শামসুল আলম (২৪) ও মোস্তাকিন হোসেন ওরফে সানিকে (৩২)। এসময় মুরাদ নামে তাদের আরেক সহযোগী পালিয়ে যায়। গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযান সম্পর্কে জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পূর্ব বিভাগের উপ-কমিশনার জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর। উপস্থিত ছিলেন মিডিয়া বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সাঈদুর রহমান ও সহকারী কমিশনার সাত্যকি কবিরাজ ঝুলন।
সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, চট্টগ্রামেও আব্দুল্লাহ জুবায়েরের ভেজাল ইয়াবা তৈরির কারখানা আছে। চট্টগ্রামে সফলভাবে ভেজাল ইয়াবার ব্যবসা করার পরই সে ঢাকায় ভেজাল ইয়াবা তৈরির কারখানা স্থাপন করে। ডিবির উপ-কমিশনার জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর জানান, জুবায়েরের বাড়ি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ সীমান্তে। ইয়াবা ও ইয়াবা তৈরির সরঞ্জামসহ পাজেরো গাড়িটি কক্সবাজার থেকে সায়েদাবাদ হয়ে বিশ্বরোড দিয়ে মালিবাগের দিকে যাচ্ছিল। তখনই গাড়িটি জব্দ করা হয়।
তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আব্দুল্লাহ জুবায়েরই মূলহোতা। সে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত ভারতে পড়াশুনা শেষে দেশে ফিরে প্রায় দেড়বছর আগে ইয়াবার ব্যবসা শুরু করে। প্রতিমাসে জুবায়ের অন্তত একটি করে ইয়াবার চালান আনত। প্রতি চালানে ইয়াবা থাকত কমপক্ষে আড়াই থেকে তিন লাখ। প্রতি পিস ইয়াবা ৫০ টাকা লাভে পাইকারী বিক্রি করত। জুবায়েরের গুলশানের নিকেতনের সি ব্লকের ৫ নম্বর সড়কে ২০৫/৩ নম্বর বাড়িতে দুইটি ফ্ল্যাট আছে। এরই একটিতে জুবায়ের ভেজাল ইয়াবা তৈরির কারখানা স্থাপন করছিল। ইয়াবা ব্যবসার টাকা দিয়েই সে পাজেরো জিপের মালিক। চট্টগ্রামে সফলভাবে ভেজাল ইয়াবার ব্যবসা করার পর জুবায়ের ঢাকায় কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। সে মোতাবেক একটি ফ্ল্যাটে কারখানার অনেক কিছুই সে স্থাপন করে। বাকি সরঞ্জামগুলো নিয়ে সে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় আসছিল।
অভিযান পরিচালনাকারী সিনিয়র সহকারী কমিশনার আসাদুজ্জামান জানান, ঐ বাড়ির কারখানা ঘিরে প্রচুর সিসিটিভি রয়েছে। জুবায়ের ঐ বাড়ির উপর কেউ নজর রাখে কি না বা সন্দেহজনক কেউ ঘুরাফেরা করে কি না সে বিষয়ে নজর রাখতেই সিসিটিভি লাগিয়েছে। বনশ্রীতে আরও একটি ভেজাল ইয়াবা তৈরির কারখানা স্থাপনের জন্য ফ্ল্যাট নিয়েছে। তবে সেখানে তেমন কোন সরঞ্জাম সেট করেনি। জুবায়েরের সঙ্গে মিয়ানমারের ইয়াবা সম্রাটদের যোগাযোগ আছে। জুবায়ের বড়মাপের ইয়াবা ব্যবসায়ী। গ্রেফতার হয়েছে জুবায়েরের তিন সহযোগী। গ্রেফতারকৃত ৪ জনকে ডিবি পুলিশের হেফাজতে ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে ঢাকার সিএমএম আদালত।
