মার্চের অর্ধেক শেষ, গাইবান্ধার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পেয়েছে মাত্র একটি বই

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২২, ১০:৪২

চলতি বছরের প্রায় আড়াই মাস পরও গাইবান্ধায় ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে এখনো পৌঁছেনি অধিকাংশ বই। এ পর্যন্ত একেকজন শিক্ষার্থী ১৪টি নতুন বইয়ের মধ্যে পেয়েছে মাত্র একটি বই। ফলে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস এখনো পুরোদমে শুরু হয়নি। বিদ্যালয়ে কমছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। 

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষাকর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর নতুন করে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যায়। এ কারণে গত ২১ জানুয়ারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়। কয়েক দফায় এই ছুটি বাড়িয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে শ্রেণিকক্ষে সশরীরে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু এখনো বই না পওয়ায় ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে মাত্র একদিন তিনটি বিষয়ে পাঠদান করা হচ্ছে।

সূত্রটি আরো জানায়, গাইবান্ধার সাত উপজেলায় ৪২০টি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে মোট ১৪টি বিষয়ে পাঠদান করা হয়। বিষয়গুলো হচ্ছে চারুপাঠ, আনন্দপাঠ (বাংলা দ্রুত পঠন), ইংলিশ ফর টুডে, ইংলিশ গ্রামার অ্যান্ড কমপোজিশন, গণিত, বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, বিজ্ঞান, চারু ও কারুকলা, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ধর্ম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, কৃষিশিক্ষা অথবা গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা এবং শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্হ্য। এই ১৪টি বইয়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের কেবলমাত্র তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বইটি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গত শনিবার পর্যন্ত জেলায় আর কোনো বই দেওয়া হয়নি।

সাদুল্লাপুর কে এম পাইলট সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবিহা রহমান বলেন, শিক্ষকরা পুরোনো বই দিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করাচ্ছেন। কিন্তু আমাদের কাছে বই না থাকায় এসব বিষয়ে কিছু বোঝা যাচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাইবান্ধা সদর উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেন, বই না থাকার কারণে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী উপস্থিতি অনেকটাই কমে গেছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবককে বুঝিয়ে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফেরানো হচ্ছে।

সাদুল্লাপুর বহুমুখী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এরশাদ আলী বলেন, বই না পাওয়ায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। পড়ালেখার প্রতি ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনীহার সৃষ্টি হয়েছে। গাইবান্ধা আসাদুজ্জামান গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. ইদ্রিস আলী বলেন, এমনিতেই করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। ফলে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন সশরীরে পাঠদান শুরু হয়েছে। কিন্তু বইয়ের অভাবে ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠদান করা যাচ্ছে না। বিষয়টি শিক্ষা বিভাগকে জানিয়েও ফল হচ্ছে না। গাইবান্ধা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনায়েত হোসেন বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণির বই সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আগামি ২৫ মার্চের মধ্যে সব বিষয়ের বই পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। 

ইত্তেফাক/ ইআ