মির্জাপুরে নির্বিচারে কাটা হচ্ছে টিলা

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২২, ০৫:৩০

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি চিহ্নিত প্রভাবশালী মহল নির্বিচারে কাটছে টিলার লাল মাটি। একই সঙ্গে বিভিন্ন নদীতে বাঁধ দিয়ে কাটা হচ্ছে বালু। আর এসব মাটি ও বালু বহনে ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রাম ট্রাক। এসব মাটিবাহী ড্রাম ট্রাকের চলাচলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট। নদীতে বাঁধ নির্মাণের ফলে নাব্য হারিয়ে পানি প্রবাহিত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

এতে এক দিকে সরকার বিপুল পরিমাণ সরকারি রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বাধা দিতে গেলেই মামলা দিয়ে হয়রানিসহ ভয়ভীতি দেখাচ্ছে প্রভাবশালী মহলটি।

সরজমিনে উপজেলার মীর দেওহাটা, বহুরিয়া, ফতেপুর, গোড়াই, তরফপুর, বাঁশতৈল আজগানাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মাটি ব্যবসায়ীরা পাহাড়ের টিলা ও নদীর বুকে ভেকু বসিয়ে বালি এবং লাল মাটি কেটে নিচ্ছে। বংশাই ও লৌহজং নদীর কয়েকটি এলাকায় ভরাট করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফতেপুর, থলপাড়া, চাকলেশ্বর, গোড়াইল, ত্রিমোহন নদীর ঘাট, কোদালিয়া, হাঁটুভাঙ্গা, সৈয়দপুর, আজগানা, দেওহাটা, কোর্ট বহুরিয়া, ওয়ার্শি, নাগরপাড়া, উফুলকী, গুনটিয়া, মাঝালিয়াসহ ৩০-৪০ স্পটে চলছে মাটি কাটা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক জন মাটি ব্যবসায়ী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরকারি নদী, খাল ও জলাশয়ের মাটি কাটা হয় না। বিভিন্ন ব্যক্তিমালিকাধীন জমির মাটি ক্রয় করে কাটা হয়। 

ওয়ার্শি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাহবুব আলম মল্লিক হুরমহল ও ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফসহ চার জন জনপ্রতিনিধি (ইউপি চেয়ারম্যান) বলেন, এলাকার একটি প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ীরা নানাভাবে পাহাড়ের লাল মাটি এবং নদীর বুকে রাস্তা নির্মাণ করে বালির ব্যবসা করে যাচ্ছে। বালি ও মাটি কাটার ফলে এলাকার বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও রাস্তাঘাটের ক্ষতি হচ্ছে। প্রশাসন এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মীর্জা মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, নদীর বালি ও পাহাড় কেটে মাটি চুরি প্রতিরোধের জন্য দিন-রাত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জেল-জরিমানা করা হচ্ছে। মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, পাহাড়ের লাল মাটি এবং নদী থেকে বালি কাটার কোনো অনুমোদন কাউকে দেওয়া হয়নি। পরিবেশ রক্ষার জন্য নদী, খালবিল ও জলাশয়ের কোনো শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না এমন সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। যারা নদীর বুকে রাস্তা নির্মাণ করে বালি কেটে নিচ্ছে এবং পাহাড়ের লাল মাটি চুরি করে নিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষার্থে এ অভিযান চলমান থাকবে।

ইত্তেফাক/এমএএম