শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংস্কৃতি ও সমৃদ্ধির সেতুবন্ধন

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২২, ০০:০২

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য সংস্কৃতি চর্চার জন্য আলাদা একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা ও তাদের প্রতিভাকে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা ভেবে প্রায় সাত বছর আগে যাত্রা শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ (ডিইউসিএস)। এরপর থেকে দেশের গণমাধ্যম ও সংস্কৃতির সাথে সম্পর্কিত প্রতিটি সমৃদ্ধ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের সাথে শিক্ষার্থীদের সেতুবন্ধন তৈরি করে দিচ্ছে সংগঠনটি। গান, কবিতা, নাটক ও নৃত্যের নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করছে নিয়মিত।

‘অন্বেষণেই উদ্ভাসন’—স্লোগানকে সামনে রেখে ও শুদ্ধ বাংলা সংস্কৃতি চর্চার প্রত্যয়ে ২০১৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় সংগঠনটি। এর প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তখনকার শিক্ষার্থী সাহস মোস্তাফিজ। এরপর একই বিভাগের আহসান রনি, রাগিব রহমান, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের হিল্লোল শেখর সমদ্দারের কাঁধ হয়ে এখন নেতৃত্ব এসেছে বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্রী সাদিয়া আশরাফী থিজবীর কাঁধে। সংগঠনটির প্রথম নারী সভাপতি তিনি। সদ্যই দায়িত্বে আসা পঞ্চম কার্যনির্বাহী কমিটিতে তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন জয় দাস। প্রতিবছরের শেষে নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও সংগঠনের পথচলা যেন আরও দৃঢ় ও পরিণত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী ডিইউসিএস-এর মডারেটরের দায়িত্বে রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গণ্ডির বাইরেও সুনাম অর্জন করেছেন ডিইউসিএস-এর সদস্যরা। বর্তমানে ডিইউসিএস-এ প্রায় ৬ শতাধিক সদস্য আছেন। এছাড়া সাবেক সদস্য বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইরাও বিভিন্নভাবে এর পাশে থেকে সহযোগিতা করছেন। বছরব্যাপী বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে সংগঠনটি। সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান হিসেবে প্রতিবছর বসন্ত উৎসব আয়োজন করা হয়; যেখানে প্রদর্শিত হয় গ্রামবাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। নাগরদোলা, বায়োস্কোপ, সাপের খেলা, বানর নাচ, পুতুল নাচ, লাঠিখেলা ইত্যাদি হারিয়া যাওয়া বিভিন্ন লোকজ উপাদান তো থাকেই, সেই সাথে থাকে সংগঠনের সদস্য এবং দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত ব্যান্ড দলের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাক্ষিক অনন্যা আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ছিলেন ডিইউসিএস-এর সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

এছাড়াও সংগঠনটির সদস্যরা ক্যাম্পাস এবং দেশের বাইরেও দেশের প্রতিনিধিত্ব সুনাম বয়ে এনেছেন বহুবার। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা নিয়ে গিয়েছেন ভারত, চীন, নেপাল, থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কাসহ একাধিক দেশে। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রথম সারির নাট্যদলের অংশগ্রহণে ‘নাট্য উৎসব’ আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ। ‘নাট্যজন সম্মাননা’ প্রদান করা হয় তিন নাট্যকর্মীকে। শোকের মাস আগস্টে আয়োজন করা হয় ‘বঙ্গবন্ধুকে চিঠি লেখার প্রতিযোগিতা’। এছাড়া মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী, পহেলা বৈশাখসহ বিভিন্ন বিশেষ দিবসে নানা আয়োজন ও পরিবেশনা থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সংগঠনটির পরিবেশনা ‘হূদয়ে বাংলাদেশ’ সকলের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে। 

ডিইউসিএস-এর সভাপতি সাদিয়া আশরাফী থিজবী বলেন, "দুই বাংলার সর্ববৃহৎ নাট্য আয়োজন 'গঙ্গা-যমুনা নাট্যোৎসবেও' আমাদের পরিবেশনা ছিল। আমরা শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের দক্ষতা আরও বাড়াতে প্রায়ই বিভিন্ন কর্মশালা আয়োজন করি। করোনাকালীন সময়ে ভার্চুয়াল আয়োজনের মাধ্যমেও সক্রিয় থেকেছেন ডিইউসিএস-এর সদস্যরা। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে ক্যাম্পাস খোলার পরই তারা 'জীবনের জয়গান' নামের একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। আর প্রায় সব অনুষ্ঠানেই দেওয়া হয় যেকোনো সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে বার্তা। মাদকাসক্তি, ধর্ষণ, আত্মহত্যা, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি অপরাধমূলক কাজের বিরুদ্ধেও সোচ্চার ডিইউসিএস।"

তিনি বলেন, 'সামনে নবীন বরণ নিয়ে ব্যস্ততা আছে। এছাড়া এবারই আমরা প্রথমবারের মতো আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এই আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।'

ডিইউসিএস-এর সাধারণ সম্পাদক জয় দাস বলেন, 'করোনার কারণে স্থবির ছিল গোটা বিশ্ব। শিক্ষাঙ্গনও এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এখন সব স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে। আমরা সংগঠনের কার্যক্রমেও গতি বাড়াতে চাই। নতুন সদস্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এবার আমরা নিয়মিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মন দেবো।'

ইত্তেফাক/এসটিএম