মাত্র ১৮ বছর বয়সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ভিডিও নির্মাণে নতুন এক উদ্যোগ গড়ে তুলেছেন পলিটেকনিক শিক্ষার্থী তানজিল আহমেদ। পড়াশোনার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোক্তা বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ এআই ভিডিও কমার্শিয়াল কোম্পানি চালু করেছেন, যা যা ইতোমধ্যেই প্রযুক্তি ও মিডিয়া অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বর্তমানে এআই দিয়ে ভিডিও তৈরি সহজ হলেও, সেসব ভিডিওর বেশির ভাগেই দেখা যায় কৃত্রিমতা ও বাস্তবতার অভাব। তানজিল এই প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে কাজ করছেন। তার প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন ভিডিও তৈরি করা, যেখানে মানবিক আবেগ, বাস্তবসম্মত দৃশ্য ও স্বাভাবিক এক্সপ্রেশন বজায় থাকে।
তানজিল জানান, তিনি মূলত ‘হিউম্যানাইজড এআই ভিডিও’ নির্মাণে গুরুত্ব দিচ্ছেন। অর্থাৎ, ভিডিওতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার থাকলেও দর্শকের চোখে তা যেন স্বাভাবিক ও বাস্তব মনে হয়। প্রতিটি ভিডিওতে ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল, লাইটিং ও শট কম্পোজিশনের দিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়া হয়, যাতে কমার্শিয়াল ফিল্মের মান বজায় থাকে।
পলিটেকনিকে পড়াশোনার পাশাপাশি এত জটিল প্রযুক্তিগত খাতে দক্ষতা অর্জন সহজ ছিল না বলে জানান তানজিল। তবে আগ্রহ ও নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। তাঁর কাজের গুণগত মান ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নজর কেড়েছে। সম্প্রতি একজন নেটফ্লিক্স ফিচারড প্রডিউসার তাঁর সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
নিজের ভাবনা প্রসঙ্গে তানজিল আহমেদ বলেন, আমি কখনোই শুধু ট্রেন্ড অনুসরণ করতে চাইনি। এআই ব্যবহার করে এমন ভিডিও বানাতে চেয়েছি, যেগুলো মানুষের আবেগের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করবে। প্রযুক্তি যেন গল্প বলার মাধ্যম হয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তানজিল তার প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, সঠিক দিকনির্দেশনা ও সুযোগ পেলে বাংলাদেশের তরুণদের পক্ষেও বিশ্বমানের প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগ গড়ে তোলা সম্ভব।

