জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে আলুর চিপস তৈরি করে প্রায় তিন-শতাধিক পরিবার এখন স্বাবলম্বী। আলুর চিপস তৈরির মাধ্যমে এসব পরিবারের অভাব দূর হয়েছে। হাতে তৈরি করা আলুর চিপসের বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব চিপস রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।
আজ বুধবার সকালে সরেজমিনে শ্রীকৃষ্টপুর, কেশবপুর ও চকরঘুনাথ গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, এসব গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক পরিবারের নারী-পুরুষ আলুর চিপস তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কেউ আলু সিদ্ধ করছেন, কেউ আলু কাটছেন, আবার কেউ কাটা আলুর চিপসগুলো রোদে শুকাতে দিচ্ছেন।
বাজার থেকে (ক্যাটিনাল) আলু প্রতি মণ ৪২০ থেকে ৪৩০ টাকায় সংগ্রহ করে আলুগুলো মেশিন দ্বারা কেটে সিদ্ধ করার পর রোদে শুকিয়ে তৈরি হচ্ছে চিপস। এক মন আলু থেকে ৮/৯ কেজি চিপস তৈরি হয়। আর সেই শুকনো আলুর চিপসগুলো বাজারে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন এই তিন গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক পরিবার। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সারাবছর আলুর চিপস ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, রংপুর, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। এই চিপস তৈরি করতে একটু পরিশ্রম বেশি হলেও লোকসানের মুখ দেখতে হয়নি আজ পর্যন্ত। যে সব ব্যবসায়ীর পুঁজি বেশি তারা বেশি করে আলু কিনে চিপস তৈরি করে সংরক্ষণ করেন। কিন্তু এই তিনটি গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের আলু কিনে চিপস তৈরি করে সংরক্ষণ করার সামর্থ্য নেই। এ সব গ্রামের চিপস ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন এনজিও থেকে চড়াসুদে ঋণ নিয়ে কোন মতে তারা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।
শ্রীকৃষ্টপুর গ্রামের চিপস ব্যবসায়ী আবু রায়হান বলেন, পাঁচ মন আলু সিদ্ধ করে কেটে সেগুলো রোদে শুকিয়ে এক মন শুকনো চিপস তৈরি করা যায়। এক মন শুকনো চিপস তৈরি করতে ২ হাজার টাকার মত খরচ হয়। সময় লাগে দুই দিন। আর এক মন চিপস বাজারে পাইকারি বিক্রি হয় সাড়ে তিন হাজার টাকায়। দুই দিনে লাভ হয় দেড় হাজার টাকা। আর তেলে ভেজে হাতে বিক্রি করলে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা লাভ হয়। সাধারণত আমরা তেলে ভেজে হাতে বিক্রি করি। বাপ দাদার এ ব্যবসা এখনো আমরা করে আসছি। এ ব্যবসা করে আমরা পরিবারের উন্নতি করেছি। আমাদের ছেলে মেয়েরা স্কুলে লেখাপড়া করছে। আমাদের বাড়িঘরেরও উন্নতি হয়েছে।
চকরঘুনাথ গ্রামের চিপস ব্যবসায়ী হেলাল হেসেন বলেন, আলুর চিপস একটি লাভজনক ব্যবসা। সারাবছর আমরা এই ব্যবসা করি। আলু চিপস সংরক্ষণ করার জন্য এনজিও থেকে চড়াসুদে ঋণ নিয়ে আলু কিনতে হয়। সরকার যদি আমাদের মত ছোট ব্যবসায়ীদেরকে স্বল্পসুদে ঋণের ব্যবস্থা করেন তাহলে আমরা উপকৃত হব।
আক্কেলপুর পৌরসভার মেয়র মো. শহিদুল আলম চৌধুরী বলেন, পৌরসভার গ্রাম শ্রীকৃষ্টপুর আর এই গ্রামে আলুর চিপস তৈরির ফলে খাদ্য হিসেবে আলুর বহুবিদ ব্যবহার হচ্ছে। সরকার যদি এই শিল্পের সাথে জড়িত পরিবার গুলোকে প্রয়োজনে সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা দেন তাহলে এই পরিবারগুলো গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখবে।
আক্কেলপুর উপজেলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, আলুর বহুবিদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে আলুচাষিদের উৎপাদিত আলুর ন্যায্যমূল্যও নিশ্চিত হবে।
