স্বাধীনতা এমন একটি শব্দ, যা একটি জাতির জীবনযাত্রাকেই বদলে দেয়। একাত্তরের ২৬শে মার্চ দিনটি বাঙালির ২৩ বছরের শোষণ দমনের পথে শেষের শুরু। যে অধ্যায়ে লেগে আছে দাঁত কামড়ানো মানসিকতা, যা ছিনিয়ে আনে বিজয়।
বর্তমান প্রজন্ম স্বাধীনতা শব্দটির মানে ভুলতে বসেছে। ত্যাগের মহিমায় ফের আলোকিত করতে হবে তরুণদের। তারুণ্যের হাতেই অর্পিত স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম। স্বাধীনতা দিবসের শিক্ষাকে ছড়িয়ে দিতে হবে সবার মাঝে। আমার চোখে স্বাধীনতা মানে শালীনতার সাথে নারীদের এগিয়ে চলা। নারীদের নিরাপদ এক রাষ্ট্রের নিশ্চয়তা প্রদান করা। স্বাধীনতা মানে, শ্রম ও সততার মিশেলে দেশ ও দশের সেবা করা। যে যেখানে আছি, যার যার জায়গা থেকে মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়া। মুক্ত বিহঙ্গ হয়ে লাল সবুজের বুকে ছড়িয়ে দিতে চাই জাগরণের সুর।
—ফাহিদা সুলতানা, দর্শন বিভাগ, ২য় বর্ষ, নোয়াখালী সরকারি কলেজ
স্বাধীনতা, মুক্তি, ডানা মেলে বাঁচবার উল্লাস। স্বপ্ন-ডাঙায় একদিন একটি স্বপ্ন দেখা হয়েছিল। নতুন করে বাঁচবার। নতুন করে রাঙাবার। সব কালো স্বপ্ন মুছে ফেলে, হায়নার কবল থেকে ছিন্ন করে তুলে আনতে বিজয়। এই দিনের মহিমা কি ভুলে যাবার মতো? এ যেন এক মহাপ্রলয়। এক অপরাজেয় প্রাচীর থেকে ভেসে আসা দুর্বার সঙ্গীতের মতন 'আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন।'
৫১টি বছর পেরিয়ে গেছে। বাংলাদেশের নবজন্ম হলো। আমরা তরুণ হলাম। আমাদের হাতে এসে পড়লো দেশ গড়ার ভার। আমি চাই আমার দেশ হবে শিক্ষা, খাদ্য, স্বাস্থ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমার দেশ কখনো মাথা নোয়াবে না। আমরা পৌঁছে যেতে চাই সর্বোচ্চ শিখরে। গড়তে চাই সোনার বাংলাদেশ।
—মো. তৌহিদ আহমেদ খান, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
স্বাধীনতা বাংলা অক্ষরে লিখিত কোনো সাধারণ শব্দ নয়। স্বাধীনতা হল বাংলাদেশ নামক দেশটির নব সূচনার জন্য দুর্ভিক্ষ, হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, বৈষম্য অনাচার দূরীকরণে শহীদ, মুক্তিযোদ্ধা, ধর্ষিতা নারীসহ আপামর জনসাধারণ ও কৃষকের রক্ত ও ঘামঝরা শ্রমের সংমিশ্রণ। এটা হলো যুদ্ধ উত্তর দেশের কল্যাণকামী প্রতিটি নাগরিকের অকপটে কথা বলা, মুক্ত বিচরণসহ মৌলিক চাহিদার অবাধ বিন্যাসে সমন্বিত প্রত্যয়। যদিও স্বাধীনতা এখন গল্প, পাঠ্য বই, ইতিহাস ও পত্রিকা এমনকি প্রতি বছর এইদিনে স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনেই আবদ্ধ; যেটা স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ বহন করেনা। এর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, প্রকৃত দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
—খালিদ সাইফুল্লাহ, শিক্ষার্থী, রাজশাহী ইনস্টিটিউট অব বায়োসায়েন্সেস
বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার পেছনে রয়েছে সুদীর্ঘ রক্তঝরা ইতিহাস। এক সাগর রক্ত ও লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এ স্বাধীনতা।১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর অপারেশন সার্চলাইট নামে এদেশের নিরীহ মানুষের উপর গণহত্যা চালায়।২৫ মার্চ মধ্যরাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয় পশ্চিম পাকিস্তানে। এর আগে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দেন। এক নতুন মানচিত্র সৃষ্টি হয় পৃথিবীর বুকে। স্বাধীনতা একজন মানুষের জন্মগত অধিকার। জাতিগতভাবে স্বাধীনতা অর্জনে আমাদের ৩০ লাখ মানুষকে শহিদ হতে হয়েছে, ২ লাখ মা-বোনকে ইজ্জত দিতে হয়েছে। আমরা এখন স্বাধীন দেশের নাগরিক। এ স্বাধীনতাকে আমাদের যে কোনো মূল্যে অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। স্বাধীনতার চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিতে হবে অর্থনৈতিক মুক্তির পথে। সুখী, সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ গড়তে পারলে স্বাধীনতা যুদ্ধের শহিদদের স্বপ্ন পূরণ হবে।
—জান্নাতুল ফেরদৌস, শিক্ষার্থী, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
'স্বাধীনতা আমার ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি আমার বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত না খায়। এই স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি বাংলার মা-বোনেরা কাপড় না পায়। এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি এদেশের মানুষ যারা আমার যুবক শ্রেণী আছে তারা চাকরি না পায় বা কাজ না পায়।'
যেই স্বপ্নদ্রষ্টার স্বপ্নিল চোখে, স্বপ্নময় কন্ঠের জাদুতে সৃষ্টি হয়েছে প্রিয় বাংলাদেশ, সেই স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এক কালজয়ী উক্তি ছিলো এটি। বঙ্গবন্ধুর এই উক্তিই বলে দেয় স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্য।
আমাদের স্বাধীনতা হোক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের স্বাধীনতা, তারুণ্যের হাত ধরে আসুক বঙ্গবন্ধুর এই উক্তির পরিপূর্ণতা।
—রাফি মাহমুদ, দাওয়াহ ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম
বঙ্গবন্ধুর দেয়া মুক্তির উদাত্ত আহবানে বাংলার দামাল ছেলেরাই সর্বপ্রথম অস্ত্র হাতে নিজের জীবনের বিনিময়ে ছিনিয়ে এনেছিল আমাদের মুক্তির তোরণ, আমাদের স্বাধীনতা। কিন্তু বর্তমানের বাস্তবতা আমাদের শোনায় ভিন্ন এক স্বাধীনতার গল্প। যে গল্পে এখনো আমরা দুর্নীতির বিষাক্ত ছোবলে জর্জরিত।
একইসাথে স্বজনপ্রীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজীর কালো থাবা কেড়ে নিয়েছে আমাদের ব্যাক্তিস্বাধীনতা ও নিরাপত্তা। তাহলে স্বাধীনতা কি শুধু উদযাপন কিংবা গল্পের পাঠ্য হিসেবেই রয়ে যাবে? আমরা কি স্বাধীনতার ৫১ বছরেও আমাদের প্রকৃত স্বাধীনতার অমৃত সুধা পান করতে পারব না? আজকের এই দূষিত বাস্তবতার দায় আমাদের সবার। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই আমাদেরকে দূর্নীতি, সন্ত্রাস, রাহাজানির কলুষতা থেকে মুক্ত করতে সক্ষম। তাই আসুন গড়ে তুলি প্রতিরোধ সকল অন্যায়ের তরে, স্বাধীনতার চেতনা তুলে ধরি মোদের অন্তরে। তাহলেই বদলে যাবে দেশ, স্বাধীন বাংলাদেশ তখন সত্যিকারের সোনার বাংলাদেশে পরিণত হবে।
—ইশতিয়াক আহমেদ ফাহাদ, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

