স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়া নিয়ে ইবি শিক্ষকদের হাতাহাতি

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২২, ২০:৩৩

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) মহান স্বাধীনতা দিবসে বীর শহিদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে শিক্ষকদের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। 

শনিবার (২৬ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিসৌধ চত্বরে কেন্দ্র ঘোষিত বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ শিক্ষক ইউনিটের দুই গ্রুপের শিক্ষকদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এসময় শহিদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আনা পুষ্পস্তবক ভেঙে পদদলিত হতে দেখা যায়। 

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, এদিন সকালে স্মৃতিসৌধে উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শ্রদ্ধাঞ্জলি জানায়। এরপর পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, আবাসিক হল ও শাখা ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠন ফুল দেয়া শুরু করে। একপর্যায়ে কেন্দ্র ঘোষিত বঙ্গবন্ধু পরিষদের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের পর সঞ্চালক জিয়া পরিষদকে ফুল দেওয়ার জন্য ডাকেন।

শিক্ষকদের ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে পুষ্পস্তবক ভেঙে পদদলিত হতে দেখা যায়। ছবি: ইত্তেফাক

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদ শিক্ষক ইউনিটের নেতৃবৃন্দ ফুল দিতে গেলে সহকারী প্রক্টর ড. শফিকুল ইসলাম তাদের বাঁধা দেন। ফলে তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সেখানে কেন্দ্র ঘোষিত বঙ্গবন্ধু পরিষদের শিক্ষকরা গেলে উভয়ের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা ও হট্টগোল শুরু হয়। পরে তা ধাক্কাধাক্কিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে শিক্ষক ইউনিটের পুষ্পস্তবক ভেঙে ফেলা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের সামনেই দুই গ্রুপের শিক্ষকরা দফায় দফায় হাতাহাতি, ধ্বস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। 
 
এসময় প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে শিক্ষক ইউনিটের নেতৃবৃন্দ বেদী থেকে নেমে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরালের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষক ইউনিটের নেতৃবৃন্দ। মানববন্ধনে শিক্ষক ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. তপন কুমার জোদ্দার বলেন, আজকের এই দিনে প্রত্যেকটা মানুষেরই স্মৃতিসৌধে গিয়ে সম্মান জানানোর অধিকার আছে। কিন্তু আমাদের সে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমরা মনে করছি পুরো বিষয়টি পরিকল্পিত। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার দাবি করছি। 

এ বিষয়ে কেন্দ্র ঘোষিত বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মাহবুবুল আরফিন বলেন, যারা গোলমাল করে তারা তো অপর পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিবেই। তারা গায়ের জোরে স্বাধীনতা দিবসের মর্যাদাহানি করেছে। এটা পূর্বপরিকল্পিত।

এ বিষয়ে কেন্দ্র ঘোষিত বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে আমরা একসাথে বসে দু'পক্ষের দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করব। উপাচার্য মহোদয় ক্যাম্পাসে আসলে তার সাথে কথা বলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, দিন শেষে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। শিক্ষকরা সহনশীল হবেন এটাই কাম্য। আমরা এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব। সেই সাথে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সচেষ্ট থাকবে।

ইত্তেফাক/এসটিএম