ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ড ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য বীর উত্তম সি আর দত্ত রোডে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঘর সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণ করে ডিএসসিসি। কিন্তু সেই বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের সামনেই জমে ময়লার স্তূপ। বিশেষ করে রাতের বেলা সড়কের একপাশ বন্ধ করেই ভ্যান সার্ভিসের মাধ্যমে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন জায়গা থেকে আনা ময়লা সড়কে রাখা হয়। অথচ বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের ভেতরেই পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও ময়লা সড়কে রাখা হচ্ছে। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পথচারী। এভাবে খোলা অবস্থায় আবর্জনা থাকায় দুর্গন্ধের কারণে বিভিন্ন ধরনের রোগ-জীবাণুও ছড়াচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সন্ধ্যার পর থেকে ভ্যান সার্ভিসের লোকজন সড়কের ময়লা রাখা শুরু করে। যার কারণে দিনের বেলায় ময়লা সরিয়ে নিলেও সড়কের মধ্যে দুর্গন্ধ ও স্যাঁতসেঁতে অবস্থা থেকে যায়। ফলে এই সড়ক দিয়ে নাক চেপে পার হতে হয়। আশপাশের পরিবেশও দূষিত হয়। এমনকি ময়লা বহনে ব্যবহৃত ভ্যান গাড়িও রাখা হয় সড়কে ।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ২০২১ সালের মার্চ মাসে এই এসটিএসের উদ্বোধন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী এসটিএসের ভেতরেই ময়লার ব্যবস্থাপনা করার কথা। কিন্তু সেটি না করে এসটিএসের সামনে সড়কেই ময়লা রাখা হচ্ছে। ব্যস্ত এ সড়কে এভাবে ময়লা আবর্জনা পড়ে থাকায় যান চলাচল করলে বাতাসে ধুলাবালু উড়ে। এতে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।
এই পথে চলাচলকারী পথচারীরা অবিলম্বে এই বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা করার দাবি জানান। রাতের বেলা যেন সড়কে বর্জ্য না রাখা হয় সে দাবিও করেন তারা। এ বিষয়ে এই এলাকার এক দোকানি জানান, এখানে ময়লার দুর্গন্ধ বাতাসে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অথচ ময়লা আবর্জনা সঠিকভাবে ব্যবস্থা করলে এমনটি হওয়ার কথা না। তা না করায় দুর্গন্ধে থাকা যায় না। এই সড়কে চলাচলকারী ইকবাল হোসেন জানান, রাতে সড়কের এক পাশ বন্ধ করে বর্জ্য রাখা হয় সড়কেই। এতে চলাচল ব্যাহত হয়। তা ছাড়া সড়কে ভ্যান রাখার কারণে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়। এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি চায় পথচারী।
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান বলেন, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের লোকজন এখানে রাতের বেলা ময়লা ফেলে। যারা ভ্যান সার্ভিসে কাজ করে তাদের বার বার এসটিএসের ভেতরে ময়লা রাখার কথা বলা হলেও তারা কথা শুনছে না। এ বিষয়ে জানার জন্য দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাকে ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

