বিরোধীদের অনাস্হা ভোটে হেরে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারিয়েছেন ইমরান খান। কিন্তু এই পরাজয় মেনে নিতে রাজি নন তিনি। অনাস্হা ভোটের আগেই এর পেছনে বিদেশি ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। এখন পার্লামেন্ট ছেড়ে রাজপথের আন্দোলনকে বেছে নিয়েছেন।
তিনি মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করে আবারও পাকিস্তানের ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন। ইমরান খান যুক্তরাষ্ট্রকে বলির পাঁঠা বানাতে চাইছেন। কিন্তু সত্যিটা হলো, তিনি আগেই পাকিস্তানের প্রভাবশালী সেনাবাহিনীকে ক্ষেপিয়ে তুলেছিলেন। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে সম্প্রতি প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ কথা বলা হয়েছে।
সদনন্দ ধুমের লেখা ওই নিবন্ধে বলা হয়েছে, মার্কিনবিরোধী অবস্হান পাকিস্তানের অভ্যন্তরে কিছু অংশের মধ্যে ভালো কাজ করতে পারে। কিন্তু এটি চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হবে। ইমরান খান আরও বেশি দায়িত্বশীল হলে, রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য দেশের পররাষ্ট্র নীতি উল্টে দেওয়ার চেষ্টা থেকে বিরত থাকবেন। একই সঙ্গে তিনি মেনে নেবেন যে, পাকিস্তানের সমস্যা প্রকৃতপক্ষে নিজেদেরই তৈরি।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে ইমরান খানের আক্রমণ অবাক করার মতো বিষয় ছিল না। গত দুই দশক ধরে তিনি বারবার বলে এসেছেন যে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে পাকিস্তান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার ইমরান খান সুর চড়িয়েছেন যে, তার রাশিয়া সফরের কারণে শাস্তি হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এই কলকাঠি নেড়েছে। যদিও এর স্বপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি। এটি সত্যি যে, যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কে টানাপড়েন চলছিল। কিন্তু ইমরান খানের জানা উচিত, এ ধরনের নিয়মিত কূটনৈতিক বৈঠকে ওয়াশিংটন ক্ষমতা পরিবর্তনের চেষ্টা চালায় না। বিশেষ করে যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সংকট চলছে।
বাস্তবতা হলো ইমরান খান অতীতের প্রধানমন্ত্রীদের মতো তার মেয়াদও পূর্ণ করতে পারেননি। এর কারণ তিনি পাকিস্তানের প্রভাবশালী সেনাবাহিনীকে ক্ষেপিয়ে তুলেছিলেন। এই সেনাবাহিনী ২০১৮ সালের নির্বাচনে ইমরান খানকে ক্ষমতায় আসার পথ করে দিয়েছিল। কিন্তু গত বছর ইমরান খান সেনাবাহিনীর মনোনীত কর্মকর্তাকে ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের প্রধান করতে আপত্তি জানান।
ইমরান খান জানেন যে, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দিলে তার আর ক্ষমতায় ফেরা হবে না। বরং এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা জনপ্রিয় ক্ষেত্র হতে পারে। গ্যালাপের এক জরিপ অনুযায়ী, পাকিস্তানের ৭২ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রকে শত্রু বলে বিবেচনা করে। ইমরান খানের পিটিআই দলের মধ্যে এই সংখ্যা ৮০ শতাংশ। এই যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্হানই ইমরান খানকে ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রে এগিয়ে দিয়েছিল।
কিন্তু বাস্তবতা বলছে ইসলামাবাদ ওয়াশিংটনের সঙ্গে বন্ধুত্বকে বেছে নিয়েছে। কারণ পাকিস্তানি শাসকরা একে তাদের স্বার্থের অনুকূলে মনে করেছেন। ১৯৪৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানকে ৭ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইমরান খানের কষ্ট তার সমর্থকদের মধ্যে সাড়া জাগাতে পারে, কিন্তু তাতে পাকিস্তানেরই ক্ষতি হবে। তাদের উচিত হবে ইমরান খানের চেয়ে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করা।
