পটুয়াখালীর দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান, ওসি তদন্ত মো. ফজলুল আলম ও এসআই মো. মেহেদী হাসানের জনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে দশমিনা আইনজীবী সমিতি। আইনের অপব্যবহার, বিচার প্রার্থীদের হয়রানী ও অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে এই সংবাদ সম্মেলন করেন আইনজীবী সমিতির নেতারা।
বুধবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১১ টায় দশমিনা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবীদের পক্ষে সভাপতি এ্যাড. মো. সিকদার গোলাম মোস্তফা ১৫ জন আইনজীবীদের স্বাক্ষরিত লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত ও মৌখিক বক্তব্যে জানা গেছে, মামলা করতে না চাইলেও দশমিনা থানার ওসি ২০২১ সালের অক্টবরের ২০ তারিখ ১৬ বছরের একটি কিশোরী মেয়েকে সারারাত থানায় রেখে মানসিক চাপ সৃষ্টি করে মামলা ও জবানবন্দী দিতে বধ্য করেন এবং ৩৪ থেকে ৩৫ ঘণ্টা পর কোর্টে উপস্থাপন করেন। ঐ এজাহারকারী কিশোরী দশমিনা কোর্টে নারী শিশু আদালতে দরখাস্ত দিয়ে এসব কথা বলেন। ওসি তদন্ত মো. ফজলুল আলম ইতিপূর্বেই একজন বিতর্কিত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। সে ওসি প্রদীপের লোক এবং ১০০ মার্ডার করে তার কিছুই হয়নি বলে দম্ভোক্তি করেন। দশমিনা থানা তার কথায় চলে বলেও দাবী করেন। এছাড়াও সাধারণ মানুষকে গালিগালাজ ও হুমকি ধমকি দিয়ে থাকেন। এ্যাড. মো. আবু তাহের জুয়েল ও তার বৃদ্ধ বাবার সাথেও অসদাচরণ করেন। এস আই মো. মেহেদী হাসান আসামী ধরতে গিয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে বেপরোয়া ও ভীতিকর আচরণ করেন এবং তাদেরকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসতে চান। পরবর্তীতে মোটা অংকের টাকা দিলে ছেড়ে দেন।
এছাড়াও দশমিনা পুলিশ তাদের একতিয়ার বহির্ভূত কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। আদালতের আদেশ ব্যতিরেকেই ঘরের কাজ বন্ধ থেকে শুরু করে ধান কাটা বন্ধ, গাছ কাটা বন্ধ ও চাষাবাদ করতে নিষেধ করেন। এভাবে তারা অসংখ্য মানুষকে হয়রানী করেন। দশমিনা থানার ওসি ও ওসি তদন্ত নিজেদেরকে দেশের রাজা ভাবে আর সাধারণ মানুষ তাদের প্রজা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বীরমুক্তিযোদ্ধা আবু সালেহ মো. জাফরকে থানার গোল ঘরে অসৌজন্য মূলক আচরণের কারণে স্ট্রোক করে এবং প্রায় মৃত্যু অবস্থা থেকে ফিরে আসেন। কোন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি এজাহার নিয়ে থানায় গেলে ঐ এজাহার কেটে অভিযোগ আকারে নিয়া থানার গোল ঘরে সালিশ নিয়া বসেন। গোল ঘরের ঐ সালিশিতে উভয় পক্ষ মারামারি করলে তখন পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেন।
এছাড়াও ১০ ই এপ্রিল এ্যাড. আবু তাহের জুয়েলের চেম্বারে ঢুকে সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা করে ভাংচুর করলে ১১ ই এপ্রিল থানায় মামলা করলেও ৭ থেকে ৮ দিন হয়েছে অদ্য পর্যন্ত কোন আসামী গ্রেফতারের উদ্যোগ দেখা যায়নি। অথচ দশমিনা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. ইকবাল মাহমুদ লিটন দশমিনার বাহিরে থাকলেও তার বিরুদ্ধে বর্তমান ওসি একটি মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা নিয়ে সাথে সাথে তিনজন আসামী গ্রেফতার করেন বলেও লিখিত সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করেন, দশমিনা থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান, ওসি তদন্ত মো. ফজলুল আলম ও এস আই মো. মেহেদী হাসানকে দ্রুত প্রত্যাহার করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানায় অন্যথায় বিচার প্রার্থী মানুষ ও জনসাধারণ নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন করার ঘোষণা দেয়।
