রাজধানীর অন্যতম দর্শনীয় স্থান হাতিরঝিল। দৃষ্টিনন্দন এই প্রকল্পের ৮ দশমিক ৮ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়েতে বাহারি বাতি জ্বললেও বাড্ডা অংশের হাতিরঝিল মোড় থেকে ২ দশমিক ৪ কিলোমিটার শাহজাদপুর পর্যন্ত লেক ড্রাইভ সড়কের বেহাল দশা। লেক ড্রাইভ সড়কটিতে বাতি লাগানোর একমাস পরে বাতিগুলো অকেজো হয়ে যাওয়ায় আবারও ভুতুড়ে পরিবেশ ফিরে এসেছে।
এদিকে লেক ড্রাইভ সড়কে সন্ধ্যার পর বাতি না জ্বলায় মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা দেখা দিয়েছে। এই সুযোগে চুরি ও ছিনতাইসহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এই নিয়ে গত ২৩ জানুয়ারিতে ইত্তেফাক অনলাইন বিভাগে ‘হাতিরঝিলের যে সড়কে সন্ধ্যা নামতেই ভূতুড়ে পরিবেশ হয়’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে সেটি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নজরে আসে। আর তখনই প্রায় ৩ বছর পর বাতি লাগানোর ব্যবস্থা করে কর্তৃপক্ষ। এরপর ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে লেক ড্রাইভ সড়কে বাতিতে আলো জ্বলতো। আলোর জ্বলার পর স্বস্তি প্রকাশ করে স্থানীয়রাসহ এই সড়কে নিয়মিত চলাচলকারীরা। তবে এই স্বস্তি বেশিদিন টিকেনি। একমাস নিয়মিত সড়কবাতি জ্বলার পর এখন আর নিয়মিত আলো জ্বলছে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাড্ডা হাতিরঝিল (মায়া কুঞ্জ) থেকে শাহজাদপুর (আমেরিকান অ্যাম্বাসির পেছনের অংশ) পর্যন্ত পুরো সড়কে শতাধিক সড়কবাতির খাম্বা রয়েছে। এর মধ্যে কিছু সড়কবাতির খাম্বা চুরি হয়ে গেছে। আর কিছু সড়কবাতির খাম্বায় বাতি নেই। ফলে বাড্ডার হাতিরঝিল মোড় থেকে ২ দশমিক ৪ কিলোমিটার শাহজাদপুর পর্যন্ত লেক ড্রাইভ সড়ক অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়।
এদিকে সড়কবাতি নষ্টের কারণে রাতের বেলা স্থানীয়রা আগের মতো এখন আর লেক পাড়ের ফুটপাতে হাঁটতে যান না। সড়কটির বেহাল দশা ও সড়কবাতি নষ্ট থাকায় অনেক ব্যক্তিগত গাড়িও এই সড়কটি এড়িয়ে চলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, লেক পাড়ে চলাচল করা মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। সেইসঙ্গে অন্ধকারে চুরি-ছিনতাইসহ ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর, ইসমাইল হোসেন, কিরন মন্ডল ও জসিম উদ্দিন দৈনিক ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘প্রায় দুই বছর ধরে বাড্ডার হাতিরঝিল মোড় থেকে শাহজাদপুর পর্যন্ত লেক ড্রাইভ সড়কে ভাঙা, ছোট ও মাঝারি গর্ত। রাতের বেলা এই সড়কটি পুরোপুরি অন্ধকার হয়ে যায়। ফলে চলাচল করা আমাদের জন্য কষ্টকর। প্রায়ই ভাঙা সড়কে ঘটছে দুর্ঘটনা।’
২০১৮ সালের নভেম্বরে লেক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২ দশমিক ৪০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। ৩০ ফুট চওড়া এই সড়ক নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য ছিল গুলশান অ্যাভিনিউর যানজট কমানো। এছাড়া লেকপাড়ে ৬ ফুট আর বিপরীত পাশে ৩ ফুট চওড়া ফুটপাত নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে লোকজন বেড়াতে পারে। বর্তমানে পুরো হাতিরঝিল প্রকল্পটি রক্ষণাবেক্ষণে দায়িত্বে রয়েছে রাজউক।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন) মেজর (ইঞ্জিনিয়ার) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.) ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘ইত্তেফাক অনলাইনে নিউজ হওয়ার পর লেক ড্রাইভ সড়কে রাজউক চেয়ারম্যান বাতির ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু একমাস না যেতেই এখন কেন বাতি জ্বলছে না, তা আমার জানা নেই। আপনি আমাদের বৈদ্যুতিক শাখার প্রধান সাকিব জ্যানের কথা বলুন তাহলে বিস্তারিত জানতে পারবেন।’
রাজউকের বৈদ্যুতিক শাখার প্রধান সাকিব জ্যান ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘হাতিরঝিলের লেক ড্রাইভ সড়কের বাতি জ্বলছে না। কারণ এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ। এই প্রকল্পে আর কোন বরাদ্দ নেই। আমরা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে প্রস্তাব দিয়েছি তারা যেন সড়কটির দেখভাল করে।’

হাতিরঝিলের যে সড়কে সন্ধ্যা নামতেই ভুতুড়ে পরিবেশ হয়
দূর হলো সেই ‘ভুতুড়ে’ সড়কের অন্ধকার