তিতাস গ্যাস কোম্পানির আওতাধীন এলাকার সব গ্রাহক সমানহারে গ্যাস পাচ্ছেন না। পাইপলাইন সংযোগ থাকলেও কাঙ্ক্ষিত বা চাহিদা অনুযায়ী চাপে ও পরিমাণে গ্যাস পাচ্ছেন না তারা। শিল্প খাতের গ্রাহকরা এ সংকটে অপেক্ষাকৃত বেশি ভুগছে। কারখানা স্থাপন করে এবং লাইন নিয়েও গ্যাসের অভাবে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উত্পাদন করতে পারছেন না তারা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে গ্যাসের উত্পাদন কম হওয়ায় গ্যাস পাইপলাইন নেটওয়ার্কের শেষ দিকের গ্রাহকরা অপেক্ষাকৃত কম গ্যাস পাচ্ছেন। সাভারের কিছু এলাকা এবং মানিকগঞ্জের একটি বড় অংশে স্থাপিত শিল্প প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ চাহিদার চেয়ে অনেক কম।
অন্য এলাকা থেকে এসব এলাকায় সরবরাহ কম থাকার কারণ বিশ্লেষণ করে তিতাস গ্যাস কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানান, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ঢাকায় শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে চাহিদা বেশি। এ এলাকাগুলোতে শিল্পের ঘনত্বও বেশি। তাই সরবরাহও বেশি।সাভার, মানিকগঞ্জ এবং ময়মনসিংহের কিছু এলাকায় সরবরাহ ও চাপ কম থাকার প্রথম কারণ পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকা। আরেকটি কারণ হলো—সেগুলো পরিকল্পিত এলাকার বাইরে স্থাপিত। সরকার বিভিন্ন সময় শিল্প উদ্যোক্তাদের তাদের কারখানা একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে গড়তে অনুরোধ করে। কিন্তু অনেকে তাদের জমি কিছুটা দূরে হলেও সেখানে কারখানা স্থাপন করে। অনুরোধ ও তদবিরের কারণে সেগুলোতে সংযোগ দেওয়া হলেও চাহিদানুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা যায় না।
জানা গেছে, মানিকগঞ্জের কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ একটি নতুন পাইপলাইন বসানোর প্রকল্প গ্রহণ করে। এলেংগা থেকে মানিকগঞ্জ পর্যন্ত এ পাইপলাইন নির্মাণ করার জন্য জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু কোনো একটি অদৃশ্য কারণে এটি বাস্তবায়ন হয়নি। যার ফলে এ এলাকার শতাধিক কারখানায় উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির পরিচালক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. সেলিম মিয়া বলেন, তিতাসের গ্যাস সঞ্চালন এবং বিতরণ লাইন একটি সমন্বিত লাইন। মানিকগঞ্জ এবং সেখানকার সংশ্লিষ্ট এলাকা এই পাইপলাইন নেটওয়ার্কের শেষ মাথা। দেশে গ্যাসের চাহিদার চেয়ে উত্পাদন কম। অর্থাৎ তিতাস এলাকায় যে পরিমাণ গ্যাস প্রয়োজন সে পরিমাণ সরবরাহ পাওয়া যায় না। তাই নেটওয়ার্কের শেষ মাথায় অপেক্ষাকৃত কম চাপে গ্যাস কিছুটা কম পাওয়া যেতে পারে।
তিনি জানান, সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে তিনটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ-এলেঙ্গা-মানিকগঞ্জে এ পাইপলাইনগুলো বসানো হলে সরবরাহ বাড়ানো যাবে। তবে এ প্রকল্পগুলো কবে নাগাদ শেষ হবে তা বলতে পারেননি তিনি।
দেশে বর্তমানে দৈনিক ৪৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে এলএনজি আমদানিসহ উত্পাদন করা হচ্ছে ৩০০-৩১৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস। গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ করা হচ্ছে প্রায় ৩০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। অর্থাৎ চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ গ্যাস উত্পাদন-সরবরাহ করা যাচ্ছে না।
বিতরণ হওয়া ৩০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের মধ্যে ১৭০ থেকে ১৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাস বিতরণ করা হয় তিতাস গ্যাস কোম্পানির আওতাধীন এলাকায়। তিতাস এলাকায় সরবরাহকৃত গ্যাসের বেশির ভাগ আসে হবিগঞ্জ, বিবিয়ানা, তিতাস, নরসিংদী, মেঘনা, সালদা, ফেঞ্চুগঞ্জ এবং শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্র থেকে। এগুলোর প্রমাণিত মজুত কমছে। তাই নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলে বা উত্পাদনে না আসলে তিতাস এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি করা প্রায় অসম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফুরিয়ে আসছে গ্যাস
গ্যাস খাত সংস্কারে ক্যাবের ২৫ দফা প্রস্তাব