ঈদ অভিজ্ঞতায় প্রাপ্তি ও ত্যাগ 

আপডেট : ০৬ মে ২০২২, ০৬:২৯

যাপিত জীবনের প্রতিটি ক্ষণে অভিজ্ঞতার ঝুলি জীবনে যুক্ত করে ভিন্ন মাত্রা। অভিজ্ঞতার রেশে জীবন হয় অনিন্দ্যসুন্দর। বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতার ভান্ডার একদিকে জীবনকে করে শিক্ষণীয়। তেমনি হয় কবির ভাষায় উপভোগ্যের ছন্দময়ী পঙক্তি। এই জীবন পাথেয় অভিজ্ঞতার সমাপ্তি নেই। জীবনের প্রতিটি ছাপ ও কাজে অভিজ্ঞতা লক্ষণীয়। তন্মধ্যে ঈদ অভিজ্ঞতা আমাদের মধ্যে ভিন্ন অভিজ্ঞতার খোরাক সৃষ্টি করে। 

বাড়ি যাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে প্রহর গোনা, বাড়ি যাওয়ার জন্য তর না সহা, অগ্রিম টিকিট কাটা, বাড়ির সবার জন্য পছন্দের কেনাকাটা সম্পন্ন করা প্রমুখ প্রতিটি কাজে ঈদ অভিজ্ঞতা হয় চিরঅমলিন। আবার কাজের সূত্রের দরুন বাড়িতে ঈদ না করতে পেরে কাজের স্হানে ঈদ করে অনেক মানুষ তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়। তাই যেখানে থাকি সেখানে ঈদ হয় আমাদের জন্য। শেষ বেলার ট্রেন, বাস কিংবা লঞ্চের গাদাগাদিতে পীড়িত হয়ে সুদূর পথ পাড়ি দিয়ে মানুষ প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়িতে আসে। কর্মব্যস্ততার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত ছুটির কারণে সারা বছর মানুষ বাড়িতে তেমন না এলেও দুই ঈদের সময় শত ব্যস্ততাকে আলিঙ্গন করে ঠিকই হাজির হয় নিজভূমে। যে নীড়ে মানুষের বেড়ে উঠা, প্রাণবন্ত হয়ে উঠা। সেখানে ঈদকে কেন্দ্র করে মানুষের বাড়ি ফেরায় তৈরি হয় পুরোনো স্মৃতির ক্যানভাসে হারিয়ে যাওয়া।

মুসলিম উম্মাহের অন্যতম বড় উত্সব হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। পুরো মুসলিম জাতির আনন্দ ছেয়ে যায় ঈদের খুশিতে। প্রতি বছর ঈদকে কেন্দ্র করে কোটি মানুষ রাজধানী ছেড়ে গ্রামে যায় পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ করতে। তবে এবারের পরিস্হিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। গত দুবছর মহামারি করোনার ছোবলে মানুষ তাদের পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পারেনি। এই বছর ঈদের ছুটিও বেশ লম্বা। পাশাপাশি করোনা মহামারির পরিস্হিতি অনেক ভালো বিধায় এবার রেকর্ডসংখ্যক মানুষ ঈদ করতে রাজধানী ছেড়ে গ্রামে পাড়ি জমিয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের ধারণা করেছিল, ঈদকে কেন্দ্র করে এবার ঢাকা ছাড়তে পারেন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ। কমবেশি তাই হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা জীবন নামে অভেদ্যতাকে ভেদ করে জানার পরিধিকে করবে আরো বিস্তীর্ণ।

ব্যক্তিগতভাবে ঈদে বাড়ি ফেরায় আমার মধ্যেও তৈরি হয় অপূর্ণ আবেগ ও প্রত্যাশাবিহীন আনন্দে বাবা মায়ের কাছে আসার আকুতি। নিজের সুখকে ভাগ করে সবার সঙ্গে প্রণীত হয় আমার ঈদ অভিজ্ঞতা। করোনার কারণে গত দুবছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে এই অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত ছিলাম। কিন্তু এই বছর আপন মহিমায় সেই অভিজ্ঞতা উদিত হয়েছে আমাদের মধ্যে। আমি পড়াশোনা করি বর্তমানে আমার পার্শ্ববর্তী জেলার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়)। যার জন্য আমার মধ্যে সেভাবে ঈদে বাড়ি ফেরার আকুতি বিরাজ করে না। যখন ইচ্ছে তখন বাড়ি আসা যায়। কিন্তু যেসব বন্ধুর বাড়ি উত্তরবঙ্গ কিংবা দক্ষিণবঙ্গে। যারা চাইলেও সহজে বাড়ি যেতে পারে না। 

ঈদের ছুটিতে তাদের বাড়ি ফেরার উল্লসিত মন আমিও কিঞ্চিত্ বুঝতে পারি। হাজারো ঝড়ঝক্কি পাড় হয়ে তাদের বাড়ি যাওয়া মানে রাজ্য জয় করে বাড়ি ফেরা। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঈদের ছুটির জন্য ব্যাকুল মন ঈদের অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে দেয় হাজার গুণ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদের ছুটি যখন অসন্ন হয়, তখন ব্যাগ-প্যাক গুছিয়ে বাড়ি ফিরি সতেজ সপ্রতিভ প্রাণে নতুন আবহে। এই আবহমান ভাবধারা যুক্ত হয় নিজের অভিজ্ঞতার থলিতে। যে অভিজ্ঞতা রবীন্দ্রনাথের ভাষায় জীবনে জীবন যোগ করে বিচিত্র সম্ভারে জীবনীশক্তির বীজ বপিত হয় আমাদের মনে। সত্যিকার ভাষায় ঈদ অভিজ্ঞতার লেলিহান আনন্দে বিলীন হয় সকল প্রকার হিংসা, ঈর্ষা, দ্বেষ, ক্লেশ। এই প্রত্যাশাবিহীন আনন্দে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক সুরে নবোদ্যম সৃষ্টি হয় আমাদের মধ্যে। তাই প্রতিটি ঈদ অভিজ্ঞতা হয়ে উঠুক আরো সৃষ্টিশীল ও কর্মদক্ষতার অনুসরিত রূপ।

লেখক: শিক্ষার্থী

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন