শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

হৃদয়ের অতল গহীনের আবেগ ও অনুভূতির নাম ‘মা’

আপডেট : ০৮ মে ২০২২, ০১:১৪

সন্তান কখনো মায়ের ঋণ শোধ করতে পারে না। যিনি নিজের জীবনের প্রতিদিন-প্রতিক্ষণ সন্তানের জন্য হাসিমুখে অবলীলায় বিলিয়ে দিয়ে থাকেন তিনি শুধুই ‘মা’। তাইতো মমতাময়ী মায়ের ভালোবাসার ক্ষমতা বিজ্ঞান তার মাপকাঠিতে কখনো নির্ণয় করতে পারেনি, পারবেও না। মাকে ভালোবাসা জানানোর জন্য সন্তানের আলাদা দিনের প্রয়োজন পড়ে না। তার পরেও বিশ্বায়নের মোড়কে অমুক-তমুক দিবসের ভিড়ে দেশে দেশে বিশেষ দিনে মা দিবস পালনের রীতি দেখা যায়। প্রতিবছরের মে মাসের দ্বিতীয় রোববার যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও মা দিবস পালিত হয়ে থাকে।

প্রতিদিন, প্রতিক্ষণই মায়ের ভালোবাসা কাজ করে। মাকে যথাযথ সম্মান দেওয়া, ভালোবাসার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করে ব্যক্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বাদেও ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় রোববার নরওয়েতে, মার্চের চতুর্থ রোববার আয়ারল্যান্ড, নাইজেরিয়া ও যুক্তরাজ্যে মা দিবস পালন করা হয়। 

মা সন্তানের অভিভাবক, পরিচালক, ফিলোসফার, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও বন্ধু

মা দিবসের প্রচলন শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রে। দিবসটির প্রবক্তা আনা মারিয়া রিভস জার্ভিস। তার মা সমাজকর্মী অ্যান মারিয়া রিভস জার্ভিস ১৯০৫ সালে মারা যাওয়ার পর মায়ের প্রতিষ্ঠিত ‘মাদারস ডে ওয়ার্ক ক্লাব’-এর স্বপ্ন পূরণে কাজ শুরু করেন। আনা জার্ভিস নিজের মাসহ দেশজুড়ে লোকচক্ষুর অগোচরে থাকা নিভৃতচারী সব মাকে স্বীকৃতি দিতে প্রচার শুরু করেন। 

১৯০৮ সালে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার একটি গির্জায় আনা তার মায়ের স্মরণে অনুষ্ঠান করলেও যুক্তরাষ্ট্রে মা দিবসের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেতে তাকে আরও সময় ব্যয় করতে হয় সাত বছর। ১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন এবং দিনটিতে সরকারি ছুটিও দেওয়া হয়। 

যিনি নিজের জীবনের প্রতিদিন-প্রতিক্ষণ সন্তানের জন্য হাসিমুখে অবলীলায় বিলিয়ে দিয়ে থাকেন তিনি শুধুই ‘মা’

মা সন্তানের অভিভাবক, পরিচালক, ফিলোসফার, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও বন্ধু। সব সন্তানই তার মায়ের শরীরের একটা অংশ। মায়ের প্রতি আমাদের অন্ধ ভালোবাসার অনুভূতি তো থাকবেই। কিন্তু একবারও কী ভেবে দেখেছেন, মায়ের কোনো সাফল্য আপনাকে কখনো গর্বিত করেছে কিনা। সেটা হোক তার কর্মক্ষেত্র বা সাংসারিক কোনো ভূমিকা, তাহলে শুধু তার মাতৃত্বের গুণাবলিকে নয় বরং ব্যক্তি হিসেবে মায়ের সেই অর্জনগুলোর কথাও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করুন। সেগুলোকে অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিন। 

প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ বলেছিলেন, ‘মা হলো পৃথিবীর একমাত্র ব্যাংক, যেখানে আমরা আমাদের সব দুঃখ, কষ্ট জমা রাখি এবং বিনিময়ে নেই বিনাসূদে অকৃত্রিম ভালোবাসা’। কোনো বৃদ্ধাশ্রমে দুঃখ-কষ্টে নয়, মা উচ্চারণের অনাবিল সুখের আবেশে মহিমান্বিত হোক প্রতিটি মায়ের দিন, সম্মান, শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায়, হাসি-আনন্দে সন্তানের সঙ্গে কাটুক সব মায়ের শেষ সময়টুকু—এই প্রত্যাশায় কাটুক মা দিবস।  

 

 

 

ইত্তেফাক/আরএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

মানসিক চাপে ওজন বাড়ে যেভাবে 

রাতে বাতি জ্বালিয়ে ঘুমালে কী রোগ হয় 

মনে মনে প্রেম 

বাচ্চারা রাতে না ঘুমালে করণীয়

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বেশি টিভি দেখলে কী হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে 

সুস্থ ও প্রাণবন্ত থাকুন এক কাপ চায়ে 

যেভাবে নেবেন চশমার যত্ন

লাবণ্যময়ী থাকার ৫ উপায়