শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

গরমে পোকা-মাকড় থেকে থাকুন নিরাপদে

আপডেট : ১০ মে ২০২২, ১৩:২৮

গরম চলে আসা মানেই পোকা-মাকড়ের দৌরাত্নে টিকে থাকা মুশকিল। খোদ মশার যন্ত্রণা তো আছেই সেই সাথে আলোর চারপাশে উৎসবে মত্ত থাকা অদ্ভুত সব পোকা। এসকল পোকার মধ্যে তেলাপোকা আর মশা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর। বাকিরা নেহাৎ গোবেচারা ধরণের হলেও অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অধিকাংশ সময় এরা মোবাইলের স্ক্রিন, টিভি, বা আলোর চারপাশে ঘুরঘুর করে।

ফলে এরা যেমন কাজে বাধার সৃষ্টি করে তেমনই শরীরে বেয়ে উঠে যার ফলে ত্বকে চুলকোনি বা র‍্যাশ দেখা দেয়। তাই গরমে পোকামাকড়ের উৎপাত থেকে বাঁচার জন্যে অতিষ্ঠ হয়ে থাকতেই হয়।

অধিকাংশ কীটপতঙ্গের দেহের তাপমাত্রা বাইরের পরিবেশের তাপমাত্রার উপর নির্ভরশীল

মূলত অধিকাংশ কীটপতঙ্গের দেহের তাপমাত্রা বাইরের পরিবেশের তাপমাত্রার উপর নির্ভরশীল। আমরা বাংলায় যাকে শীতল রক্ত বলি ঠিক তাই। যেহেতু গরমে বাহিরের পরিবেশ থাকে উষ্ণ, তাই পোকারাও আলোর চারপাশে ঘুরঘুর করে। আর এতে চনমনে সন্ধ্যে আর রাতগুলো হয়ে ওঠে বিরক্তিকর।

তাই বলে কি এই উৎপাত থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই? আছে তো অবশ্যই। বাজারে পাওয়া স্প্রে কিংবা ক্ষতিকর কীটনাশক অধিকাংশ সময় আমাদের দেহের ক্ষতি করে। সেসব বাদ দিয়েও সহজে পোকামাকড় দূর করা সম্ভব। শুধু একটু সময় নিয়ে এই কটি পদ্ধতি অনুসরণ করুন।

জানালায় নেট ব্যবহার করুন

আজকাল অধিকাংশ বাড়িতেই জানালায় নেট ব্যবহার করার প্রচলন শুরু হয়েছে। জানালা যেভাবে ব্যবহার করা হয়, খুব সহজেই নেটের মতো আলাদা জানালা বানিয়ে নেয়া সম্ভব। শুধু পড়ন্ত বিকেলের সময় নেটের জানালাটি টেনে দিন। এতে ঘরের আলোয় আকৃষ্ট হয়ে পোকা আসতে শুরু করলেও আটকে যাবে। হয়তো পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হবেনা, তবে এই পদ্ধতিতে কিছুটা হলেও পোকামাকড়ের উপদ্রব কমবে।

সন্ধ্যার দিকে ঘরের কোণে এরোসল ব্যবহার করুন

মশা তাড়াতে করনীয়

সন্ধ্যার বেশ আগে আগে জানালা বন্ধ করে দিন। সন্ধ্যার দিকে এরোসল ঘরের কোণে কোণে ব্যবহার করা যায়। তবে ঘরে বেশি মানুষ থাকলে ধূপ দেয়ার চেষ্টা করুন। এরোসলের উপাদান তীব্র হয় বিধায় স্বাস্থ্যের জন্যেও ঝুঁকি বহন করে। তাই সন্ধ্যায় প্রতিটি ঘরে আলতো করে ধূপের ধোয়া দিন। তাতে মশা কমবে। 

জীবাণুনাশক বা ভিনেগার দিয়ে মেঝে মুছে রাখুন

গরমের সময় নিয়মিত ঘরের মেঝে মোছা উচিত। ঘর মোছার সময় জীবাণুনাশক কিংবা ভিনেগার মিশিয়ে নিন। এতে মেঝেতে মাছির জমাট বাধার প্রবণতা অনেক কমে যাবে। তাছাড়া ঘরের কোণে কোণে দারুচিনি এবং লবঙ্গ ছিটিয়ে রাখুন। এতে তেলাপোকা বা মাছি সহজে ঘরে ঘুরঘুর করবে না। তাছাড়া ঘরে স্নিগ্ধ একটি ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়বে। 

সময় পেলে বই বের করে একদিন মুছে নিন

কাপড় ও বইয়ের জন্যে ন্যাপথালিন

কাপড় কিংবা বইয়ের ভাঁজে ন্যাপথালিন গুঁজে রাখুন। এতে উইপোকা কিংবা বইয়ের পোকা দমন করা যাবে। সময় পেলে বই বের করে একদিন মুছে নিন। ছাদে রোদে শুকোতে দিন। এতে বইয়ের স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে এবং পোকার উপদ্রব কমানো যাবে। 

বিছানায় নিমপাতা ছিটিয়ে নিন

নিমপাতার অসংখ্য গুণাগুণের একটি হলো এটি পোকামাকড় দূর করতে সাহায্য করে। বিশেষত বিছানায় নিমপাতা ছিটিয়ে রাখলে অন্তত রাতে পোকার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হতে হবেনা। 

সিংক, বেসিন, রান্নাঘর এবং ময়লার বালতি পরিষ্কার রাখুন

সিংক এবং ময়লার বালতি ঠিকঠাক পরিষ্কার রাখুন 

সিংক, বেসিন, রান্নাঘর এবং ময়লার বালতি পরিষ্কার রাখুন। গরমের সময় পিপড়া, তেলাপোকা, আর মাছির উপদ্রব মূলত এই কটি স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় বেশি হয়।

ময়লার বালতি ধরে যদি পিপড়ার ঝাঁকের সারি দেখেন তাহলে একটু লেবু চিপে রস ছিটিয়ে লেবুটি রেখে দিন। পিপড়া লেবুর ঘ্রাণ সহ্য করতে পারেনা। এছাড়া পিপড়াদের চলার পথে রাতে কেরোসিন ছিটিয়ে দিন। ঘরের কোণে বা কাঠের আসবাবে হালকা কেরোসিন মাখিয়ে রাখলে তেলাপোকা, ছারপোকা, ঘুণপোকার উপদ্রব কমে। 

ঘরে এয়ার ফ্রেশনার ব্যবহার করুন

গরমে বোটকা গন্ধ অনেক সময় তেলাপোকা, মাছি, ইঁদুরদের ডেকে আনে। তাই ঘরের বাতাসের ঘ্রাণ ভালো রাখার চেষ্টা করুন। এতে কিছুটা হলেও পোকার উপদ্রব কমবে। 

ফল কেটে খোলা না রেখে ঢেকে রাখুন অথবা ফ্রিজে রাখুন

খাবার ঠিকঠাকভাবে সংরক্ষণ করুন

অনেক সময় খাবার ঠিকঠাকভাবে সংরক্ষণ না করায় পোকার উপদ্রব বাড়ে। ফল কেটে খোলা না রেখে ঢেকে রাখুন অথবা ফ্রিজে রাখুন। খাওয়া শেষ হলে ঠিকঠাক ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখুন। বেশিক্ষণ বাইরে রেখে পঁচতে দিবেন না। এতে রান্নাঘর বা আশেপাশে কম পোকামাকড় থাকবে। 

ইত্তেফাক/এআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

মানসিক চাপে ওজন বাড়ে যেভাবে 

রাতে বাতি জ্বালিয়ে ঘুমালে কী রোগ হয় 

মনে মনে প্রেম 

বাচ্চারা রাতে না ঘুমালে করণীয়

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বেশি টিভি দেখলে কী হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে 

সুস্থ ও প্রাণবন্ত থাকুন এক কাপ চায়ে 

যেভাবে নেবেন চশমার যত্ন

লাবণ্যময়ী থাকার ৫ উপায়