সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

গরমে স্কুলে টিফিন কেমন হবে 

আপডেট : ১২ মে ২০২২, ১০:৪১

ঈদের ছুটির পর খুলেছে সব স্কুল। কোমলমতি শিশুদের পড়াশোনা নিয়ে মা-বাবা যেমন চিন্তায় থাকেন তেমনই তাদের আক্ষেপ ও দুশ্চিন্তা থাকে বাচ্চাদের খাওয়াদাওয়া নিয়ে। সকালে ঘুম থেকে উঠে স্কুলে যাওয়ার আগে তাড়াহুড়োর কারণে অনেক শিশু ভালোভাবে নাশতা খেতে পারে না। তখন খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায় স্কুলের টিফিনটা। গরমের তীব্রতা, বৃষ্টি, প্যাচপ্যাচে ঘামের এই সময়টাতে কেমন হবে স্কুলের টিফিন, জেনে রাখুন। 

প্রথমে মনে রাখবেন এটাই কিন্তু বাচ্চাদের দিনের প্রথম ভাগের মূল খাবার। টিফিনটা এমন হতে হবে যা সুস্বাদু আবার স্বাস্থ্যকরও। কারণ টিফিন পছন্দ না হলে হয়তো আপনার সন্তান সে খাবার মুখেই তুলবে না। তাই স্কুলের টিফিন নিয়ে মায়েদের দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। প্রতিদিন খাবারে একঘেয়েমি কাটাতে নতুন নতুন কী টিফিন দিবেন, তা যারা বুঝতে পারেন না তাদের জন্য রইলো এমন কিছু চটজলদি খাবারের খোঁজ, যেগুলো খেতে ভালো এবং স্বাস্থ্যকরও। পাশাপাশি কী কী খাবার টিফিনে দেওয়া ঠিক নয়, তাও জেনে রাখুন। 

রোদ-বৃষ্টির এই সময়ে এমন খাবার ও পানীয়  শিশুদের টিফিনে দিতে হবে যাতে তারা সর্দি-কাশি, গলাব্যথা কিংবা পেটের পীড়ায় আক্রান্ত না হয়। চেষ্টা করবেন টিফিনে বাসি খাবার না দিতে। মানে, এক দিনের রান্না করা খাবার ফ্রিজে রেখে শিশুকে অন্যদিন খাওয়ানোটা ঠিক নয়, এতে শিশুর স্বাস্থ্য খারাপ হতে পারে। 

টিফিনটা এমন হতে হবে যা সুস্বাদু আবার স্বাস্থ্যকরও

শিশুরা টিফিনের সময়টাতে স্কুলে খেলাধুলা, ছোটাছুটি করে। তখন তারা ঘেমে যায়, শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়। তাই টিফিনে অবশ্যই পানি, ঘরে তৈরি শরবত, মৌসুমী ফলের রস দিবেন। কখনও দোকান থেকে কেনা জুস বা কোমল পানীয় দেবেন না। পানীয়তে পরিবর্তন আনতে মিল্কশেক তৈরি করে দিতে পারেন ঝটপট। মৌসুমি কোনো ফল, বাদাম ও এক গ্লাস দুধ ব্লেন্ডারে মেশালে খুব সহজে তৈরি হয়ে যায় সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী মিল্কশেক।

টিফিন পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। আমিষ, শর্করা ও বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন খনিজের সমাহার থাকলে খুব ভালো হয়। হিমায়িত খাবার ভেজে বা দোকান থেকে ফাস্ট ফুড কিনে শিশুর টিফিন বক্সে দিবেন না। এ ধরনের খাবার খাওয়া অস্বাস্থ্যকর। 

অতিরিক্ত তেল ও চর্বিজাতীয় খাবার, জাংক ফুড, চকোলেট, আইসক্রিম এগুলো যেন শিশুরা টিফিনে না খায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। বার্গার বা চিকেন ফ্রাইয়ে থাকে অতিরিক্ত ক্যালরি, চর্বি, লবণ যা শিশুর স্থূলতা, ওজনাধিক্য সমস্যার জন্য দায়ী। যদি শিশু এ ধরনের খাবার খেতে পছন্দ করে তাহলে ঘরে তৈরি করে দিতে পারেন বিটের কাটলেট। বিটে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি, কে, ই। এ ছাড়াও আছে আয়রন। শুধু বিট দিতে না চাইলে আলু, গাজর, মটরশুঁটি দিয়ে ছোট প্যাটিস তৈরি করে দিতে পারেন। 

গরমের এই সময়টাতে টিফিনে দুধ বা দুগ্ধজাত দ্রব্য দিবেন না। এগুলো খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং আপনার আদরের সন্তানের পেট খারাপ করতে পারে। বিভিন্ন সবজি, মুরগি, ডিম সঙ্গে শসা, টমেটো, পনির, ক্যাপসিকাম ইত্যাদি দিয়ে স্যান্ডউইচ বানিয়ে দিন। মনে রাখবেন আপনি সন্তানের জন্য যা টিফিনে দিচ্ছেন তা যেন তার বাড়ন্ত শরীরের ত্বক, হাড়, দাঁত গঠনে ও রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। 

 

 

 

ইত্তেফাক/আরএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

যেভাবে নেবেন চশমার যত্ন

লাবণ্যময়ী থাকার ৫ উপায়

রাতে খাওয়ার পর কেন গোসল করবেন না 

বাড়ছে গরম, ঘামছে শরীর 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

যেভাবে রাখবেন ঝকঝকে ফোনের স্বচ্ছ কভার

সারাদিন কাজ করেও সচল থাকবেন যেভাবে 

ছেলেদের মাথায় কেন বেশি টাক পড়ে 

বৃষ্টির দিনে নিরাপদে থাকতে কী করবেন