রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর, দাদশী, পাচুরিয়া, আলীপুরসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে ৪০ দিনের অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পে গ্রাম পুলিশ, উদ্যোক্তা, সচ্ছল ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে রাজবাড়ী সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে প্রথম পর্যায়ে ৩০টি প্রকল্পে ১ হাজার ১৮ জন তালিকাভুক্ত শ্রমিকের অনুকূলে ১ কোটি ৬২ লাখ ৮৮ হাজার টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৪০ দিন কাজের বিনিময়ে প্রত্যেক শ্রমিক ১৬ হাজার টাকা পারিশ্রমিক গ্রহণ করেছেন।
বসন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম পর্যায়ের অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় তিনটি প্রকল্পে তালিকায় মোট ১০৮ জন শ্রমিক নিয়োজিত ছিলেন। শ্রমিকদের তালিকায় গ্রাম পুলিশ সদস্য মো. সাত্তার খান, মো. ফিরোজ মিয়া, কার্তিক কুমার বিশ্বাস, হরিপদ সরকার ও তার ছেলে পলাশ কুমার সরকারের নাম রয়েছে। এছাড়া আলহাজ্ব আকবর আলী মর্জি উচ্চ বিদ্যালয়ের পিয়ন মো. জসিম হাওলাদার, ইউনিয়ন পরিষদের ই-ডাক সেন্টারের উদ্যোক্তা জহুরুল ইসলাম ও তার ভাই আব্দুর রশিদ মোল্যা, মৎস্য ব্যবসায়ী কুদ্দুস শেখ, বসন্তপুর ইউনিয়ন পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ কুমার সরকারসহ সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম রয়েছে।
বসন্তপুর ইউনিয়নে প্রায় অর্ধেক শ্রমিক দিয়ে প্রকল্পের কাজ করানো হয়েছে। অপরদিকে দাদশী ইউনিয়নে এই প্রকল্পে তালিকাভুক্ত ৪৬ জন শ্রমিকের মধ্যে ১৮ জন শ্রমিকের বয়স ৬৫-৭৫ বছর। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১৮-৬০ বছর বয়সী শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর কথা থাকলেও তা মানেনি।
এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার বিকালে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করলে গ্রাম পুলিশ সদস্য মো. সাত্তার খান ও মো. ফিরোজ মিয়া জানান, তারা দুই কিস্তিতে ১৬ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন। তবে আরেক গ্রাম পুলিশ সদস্য হরিপদ সরকার জানান, তিনি ৪০দিনে কর্মসূচির ১৬ হাজার টাকার ১০০ টাকা কম পেয়েছেন। অপর গ্রাম পুলিশ সদস্য কার্তিক কুমার বিশ্বাস জানান, তিনি মাটি কাটার কাজ সার্বক্ষণিক দেখা শোনা করেছেন। তিনিও ২ কিস্তিতে ১৬ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আকবার আলী মর্জি উচ্চ বিদ্যালয়ের পিওন জসিম হাওলাদার জানান, তিনি এই প্রকল্পের অর্থ বিকাশের মাধ্যমে গ্রহণ করেছেন। বসন্তপুর ই-ডাক সেন্টারের পরিচালক আব্দুর রশিদ মোল্লা জানান, ২ কিস্তিতে ৮ হাজার করে মোট ১৬ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন।
তালিকায় সচ্ছল ও গ্রাম পুলিশ সদস্যদের নাম থাকার বিষয়টি জানতে চাইলে বসন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন সরদার জানান, ওই নামগুলো দেওয়া হয়েছে শুধু অফিস ম্যানেজ করা জন্য। এভাবে ৭/৮ জনের নাম দেওয়া রয়েছে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী বিজয় কুমার প্রামাণিক বলেন, তালিকায় গ্রাম পুলিশ বাহিনী সদস্য থাকার বিষয়টি তার জানা নেই। শ্রমিকদের ভোটার আইডি কার্ড নম্বর দিয়ে নতুন সিমে বিকাশ একাউন্টে বেতন পাঠানো হয়েছে। কোনো অনিয়ম হওয়ার সুযোগ নেই।
সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসএম মনোয়ার হোসেন বলেন, গ্রাম পুলিশ সদস্য থাকার সুযোগ নেই। যদি লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবো।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মার্জিয়া সুলতানা বলেন, গ্রাম পুলিশ সদস্য, উদ্যোক্তা কখনই অতি দরিদ্র কর্মসূচির শ্রমিক হতে পাবরে না। এটা অপরাধ। সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে কেউ অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
