সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

জাতি গঠনে চাই বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা

আপডেট : ২২ মে ২০২২, ০৭:০২

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। অন্যান্য প্রাণী থেকে তাদের চিন্তাচেতনা ও শক্তির মধ্যে দিয়ে পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবেও তাদের কর্মকাণ্ড ভিন্ন থেকে ভিন্নতর হচ্ছে। একেক জনের মতভেদ ভিন্ন রকম, চিন্তা ভাবনা ভিন্ন। এসব ভিন্নতা একদিকে ভেদাভেদ গড়ে তুললেও অনেকাংশে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় গড়ে উঠছে। বিবেকবান হয়ে কখনো কখনো পশুর ন্যায় আচরণ করছে, যা মানবকুলের জন্য এক রকমের অশনিসংকেত।

যুগে যুগে সময়ের পরিবর্তন ঘটেছে। উন্নত হচ্ছে বিশ্ব। মানবসভ্যতার উন্নয়ন বিকাশে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে নিত্যনতুনভাবে। তরুণ সমাজ যার পেছনে ব্যাপক অবদান রেখে আসছে। একটি জাতি কতটা উন্নত তা নির্ভর করে সে জাতি কতটা শিক্ষিত। শিক্ষা যদি একটি জাতির মেরুদণ্ড হয়, তাহলে শিক্ষাঙ্গনগুলো হলো সে মেরুদণ্ডের কশেরুকা। কশেরুকা দুর্বল হয়ে পড়লে মেরুদণ্ড সোজা করে যেমন দাঁড়ানো সম্ভব না, তেমনই একটি জাতির শিক্ষাঙ্গনগুলো দুর্বল হয়ে পড়লে সে জাতি সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। শিক্ষাঙ্গনের প্রাণ হচ্ছে শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের এজন্য বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার প্রতি আকৃষ্ট করতে হবে। যাতে করে নিত্যনতুন জিনিস উদ্ভাবনের রূপরেখা তারা গড়ে তুলতে পারে। দেশ ও দশের সমৃদ্ধি বয়ে আনতে সচেষ্ট থাকবে। কিন্তু, আজকাল দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার্থীরা মানসিক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে নেশায় ডুবছে, মাদকাসক্ত হচ্ছে। মাদকাসক্ত যেমন দেহের জন্য ক্ষতিকর তেমনি বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় চরম ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, যা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির চর্চায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। মাদকের কবলে অচিরেই নিভে যাচ্ছে প্রাণ। তাই মানসিক হতাশার থেকে শিক্ষার্থীদের বেরিয়ে আসতে হবে, বেরিয়ে আসতে হবে মাদকাসক্তি থেকে। বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার জন্য প্রথমত তাদের বই পড়ার প্রতি আকৃষ্ট করতে হবে। একটি বই পারে চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটাতে। কারণ, যখন একটি বইপড়া হয় তখন কল্পনায় সেই কথাগুলো ছবির মতো ভাসতে থাকবে, নতুন কিছু তাকে ভাবতে সহায়তা করবে। বই হতে পারে যে কোনো ধরনের। হোক সেটা উপন্যাসের, গল্প, কবিতা, ইতিহাস, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বই ইত্যাদি। গল্প-কবিতার বই মনের খোরাক মেটালেও কল্পনার জায়গা বিস্তৃত করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে বইপড়ার পাশাপাশি পত্রিকাপড়ার চর্চা রাখতে হবে। প্রতিদিনকার ঘটে যাওয়া খবর যেমন জানা যাবে, তেমনই পড়ার আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। বিভিন্ন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে হবে। বিতর্ক প্রতিযোগীকে একটি বিষয়ে বর্তমান, অতীত বিশ্লেষণ করার সুযোগ পাচ্ছে, যেমন: তেমন জ্ঞানের পরিধি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। বিজ্ঞান বা গবেষণার জন্য শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বিজ্ঞান সেমিনারের আয়োজন করে তাদের স্বতঃস্ফূর্ত আয়োজন নিশ্চিত করতে হবে। যাতে করে তারা তাদের সৃজনশীলতা দেখাতে পারে নতুন কিছু সৃষ্টির মাধ্যমে।

গবেষণাকে সংস্কৃতিতে রূপ দিতে হয়। একজন মানুষকে মূল্যায়ন করতে হয় শুধু কর্ম দিয়ে। মেধাকে লালন করতে হয়। মেধার তীব্র প্রতিযোগিতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এরজন্য স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশি বেশি বিজ্ঞান সেমিনার বা সভার আয়োজন করতে হবে।

সর্বোপরি, একটি উন্নত দেশ গড়তে হলে আমাদের সবাইকে সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি করতে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা বিকল্পহীন। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে পারলে উন্নত হবে দেশ, উন্নত হবে দেশের সংস্কৃতির প্রতিটি রূপ। তাই তারুণ্যের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার জয়গান নিয়ে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ, এমনটি প্রত্যাশা।

লেখক: শিক্ষার্থী‌, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

ইত্তেফাক/এসজেড

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

শিক্ষা ক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হবে কবে? 

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ বোঝা নয় 

পারিবারিক সংকটে বিপদে পড়ছে শিশুরা 

অর্থনীতিতে জ্বালানি মূল্যস্ফীতির প্রভাব

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা 

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই সমন্বিত উদ্যোগ 

বইপড়ুয়া জাতির তালিকায় নাম নেই কেন?

আশার আলো ‘সৌরবিদ্যুৎ’